একমি পেস্টিসাইডস লিমিটেড ২০২১ সালের অক্টোবরে প্রাথমিক গণপ্রস্তাবের মাধ্যমে ৩০ কোটি টাকা সংগ্রহ করে। লক্ষ্য ছিল কারখানায় বিনিয়োগ ও ব্যাংক ঋণ পরিশোধ। আইপিওর শর্ত অনুযায়ী অর্থ পাওয়ার দুই মাসের মধ্যে ঋণ পরিশোধ করার কথা থাকলেও সাড়ে তিন বছরের বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও কোম্পানিটি এখনো কোনো ব্যাংক ঋণ শোধ করেনি। এ তথ্য তুলে ধরেছে কোম্পানির নিরীক্ষক আশরাফ উদ্দিন অ্যান্ড কোং, চার্টার্ড অ্যাকাউন্টস।
ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের মাধ্যমে প্রকাশিত নিরীক্ষকের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, একমি পেস্টিসাইডস ২০২১ সালের ডিসেম্বরে আইপিওর অর্থ হাতে পায়। এর মধ্যে ৫ কোটি ৫০ লাখ টাকা ব্যাংক ঋণ পরিশোধ খাতে বরাদ্দ থাকলেও সে খাতে কোনো ব্যয় হয়নি। তবে ২০২৫ সালের ৩১ জুলাই পর্যন্ত বিভিন্ন খাতে মোট ২১ কোটি ৮৬ লাখ ৩২ হাজার ৩১৬ টাকা ব্যয় করা হয়েছে।
কারখানা ভবন নির্মাণে ব্যয় হয়েছে ১০ কোটি ৩ লাখ ৭৪ হাজার ১০৫ টাকা, বৈদ্যুতিক স্থাপনায় ২ কোটি ৪ লাখ টাকা এবং নতুন প্লান্ট ও যন্ত্রপাতি কিনতে খরচ হয়েছে ৮ কোটি ৩৪ লাখ ৩৫ হাজার ৬৫০ টাকা। এছাড়া আইপিও ইস্যু সংক্রান্ত ব্যয় নির্বাহে খরচ হয়েছে ১ কোটি ৪৪ লাখ ২২ হাজার ৫৬১ টাকা। নিরীক্ষকের মতে, এসব ব্যয়ের কিছু নগদে পরিশোধ করা হয়েছে, যদিও নিয়ম অনুযায়ী ব্যাংক চ্যানেলের মাধ্যমে করা উচিত ছিল।
বর্তমানে কোম্পানির হাতে অব্যবহৃত অর্থ সুদসহ প্রায় ৯ কোটি ৬৭ লাখ ৫৬ হাজার ১৭০ টাকা ব্যাংকে এফডিআর আকারে জমা রয়েছে। এর মধ্যে একটি অংশ মামলা-সংক্রান্ত কারণে ফ্রিজ এবং বাকি অংশ ঋণের গ্যারান্টি হিসেবে ব্যাংকে রাখা হয়েছে। অব্যবহৃত আইপিও অর্থ ব্যবহারের সময়সীমা বাড়াতে এ বছরের ৩০ জুলাই কোম্পানিটি বিশেষ সাধারণ সভা (ইজিএম) করে। বিনিয়োগকারীদের ভোটে সিদ্ধান্ত হয়, এই অর্থ ব্যবহারের সময়সীমা ২০২৭ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত বাড়ানো হবে। এর আগে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) এ অনুমোদন দেয়।
আর্থিক প্রতিবেদনে দেখা গেছে, সর্বশেষ ২০২৪-২৫ অর্থবছরের প্রথম তিন প্রান্তিকে (জুলাই-মার্চ) একমি পেস্টিসাইডস শেয়ারপ্রতি ১ টাকা ২ পয়সা লোকসান করেছে। আগের বছর একই সময়ে লোকসান ছিল ৫৯ পয়সা। চলতি হিসাব বছরের তৃতীয় প্রান্তিকে (জানুয়ারি-মার্চ) শেয়ারপ্রতি লোকসান দাঁড়ায় ৭২ পয়সা, যা আগের বছর ছিল মাত্র ৩ পয়সা। ৩১ মার্চ ২০২৫ শেষে কোম্পানির শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদমূল্য (এনএভিপিএস) দাঁড়িয়েছে ১৬ টাকা ৫৩ পয়সায়।

