পুঁজিবাজারে বস্ত্র খাতের প্রতি প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ বেড়েছে। বাজার অস্থিরতার মাঝেও এই প্রবৃদ্ধি বিনিয়োগকারীদের আস্থা এবং রপ্তানি খাতের সম্ভাবনা ফিরে আসার ইঙ্গিত দিচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, বৈদেশিক মুদ্রা আয়কারী এই খাতের উন্নতি দেশের অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। তাই প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীরা নতুন করে বিনিয়োগ করছেন। শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত ৫৮টি বস্ত্র কোম্পানির মধ্যে ৮টিতে সেপ্টেম্বর মাসে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগ ০.১০ শতাংশের বেশি বেড়েছে। এই কোম্পানিগুলো হলো: আলহাজ টেক্সটাইল, অলটেক্স ইন্ডাস্ট্রিজ, এপেক্স স্পিনিং, আরগন ডেনিমস, ফারইস্ট নিটিং, রহিম টেক্সটাইল, সিমটেক্স ইন্ডাস্ট্রিজ এবং তমিজউদ্দিন টেক্সটাইল।
বিজিএমইএ সভাপতি মাহমুদ হাসান খান বলেন, ‘ডিএসইতে তালিকাভুক্তির আগে কোনো কোম্পানির জন্য আমরা প্রাথমিক সার্টিফিকেট বা অনাপত্তি সনদ (এনওসি) দিতে পারি। এটি কোম্পানির যথাযথ যাচাই-বাছাই ও মৌলিক ভিত্তি নির্ণয়ে গুরুত্বপূর্ণ।’ তিনি আরও বলেন, ‘বাংলাদেশের পোশাকশিল্প মূলত ক্রেতার সঙ্গে সম্পর্কের ভিত্তিতে চলে। বিজিএমই আমরা সদস্যদের জন্য ভালো ক্রেতা ও ব্যবসায়িক অংশীদার চিহ্নিত করি। এতে সদস্যরা জানেন কার সঙ্গে কাজ করা উচিত এবং কার সঙ্গে নয়। আমরা নিশ্চিত করি কেউ সহজে আমাদের এক্সপ্লয়েট করতে পারবে না। আমাদের মূল নীতি হলো, যে কোম্পানি পুরো প্রক্রিয়া নিজেই পরিচালনা করে, তাদের পাবলিক লিস্টেড হতে উৎসাহ দেওয়া হবে।’
আলহাজ টেক্সটাইল: বর্তমান শেয়ারসংখ্যা ২ কোটি ২২ লাখ ৯৮ হাজার ৫৪৯টি, পরিশোধিত মূলধন ২২ কোটি ২৯ লাখ ৯০ হাজার টাকা। আগস্টে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীর অংশীদারিত্ব ছিল ১৩.৩২ শতাংশ, সেপ্টেম্বর মাসে বেড়ে ১৪.৬৩ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। উদ্যোক্তা পরিচালকদের কাছে ৩০.৬৫ শতাংশ, সরকারের কাছে ০.০১ শতাংশ এবং সাধারণ বিনিয়োগকারীদের কাছে ৫৪.৭১ শতাংশ শেয়ার রয়েছে।
অলটেক্স ইন্ডাস্ট্রিজ: শেয়ারসংখ্যা ৫ কোটি ৫৯ লাখ ৬৮ হাজার, পরিশোধিত মূলধন ৫৫ কোটি ৯৬ লাখ ৮০ হাজার টাকা। প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগ ৮.৫৫ শতাংশ থেকে বেড়ে ১০.৬৪ শতাংশে গেছে। উদ্যোক্তা পরিচালকদের কাছে ৩৮.৩৫ শতাংশ, সাধারণ বিনিয়োগকারীদের কাছে ৫১.০১ শতাংশ শেয়ার আছে।
এপেক্স স্পিনিং: শেয়ারসংখ্যা ৮৪ লাখ, পরিশোধিত মূলধন ৮ কোটি ৪০ লাখ টাকা। প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগ ১৫.২৮ শতাংশ থেকে বেড়ে ১৭.৬৫ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। উদ্যোক্তা পরিচালকদের কাছে ৫২.৭৬ শতাংশ, বিদেশি বিনিয়োগকারীর কাছে ০.২৫ শতাংশ এবং সাধারণ বিনিয়োগকারীদের কাছে ২৯.৩৪ শতাংশ শেয়ার রয়েছে।
আরগন ডেনিমস: শেয়ারসংখ্যা ১৩ কোটি ৮৮ লাখ ৮৮ হাজার ৬০৬টি, পরিশোধিত মূলধন ১৩৮ কোটি ৯০ লাখ টাকা। প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগ ৩৫.৭৩ শতাংশ থেকে বেড়ে ৩৫.৯৬ শতাংশে হয়েছে। উদ্যোক্তা পরিচালকদের কাছে ৩৫.৮৭ শতাংশ এবং সাধারণ বিনিয়োগকারীদের কাছে ২৮.১৭ শতাংশ শেয়ার আছে।
ফারইস্ট নিটিং: শেয়ারসংখ্যা ২১ কোটি ৮৭ লাখ ৪৪ হাজার ১৭১টি, পরিশোধিত মূলধন ২১৮ কোটি ৭৪ লাখ ৪০ হাজার টাকা। প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগ ৭.৫৮ শতাংশ থেকে বেড়ে ৭.৮৯ শতাংশে। উদ্যোক্তা পরিচালকদের কাছে ৬৭.২০ শতাংশ, সাধারণ বিনিয়োগকারীদের কাছে ২৪.৯১ শতাংশ শেয়ার রয়েছে।
রহিম টেক্সটাইল: শেয়ারসংখ্যা ৯৪ লাখ ৫৯ হাজার ৬৮৩টি, পরিশোধিত মূলধন ৯ কোটি ৪৬ লাখ টাকা। প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগ ৮.০৬ শতাংশ থেকে বেড়ে ৮.৩৪ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। উদ্যোক্তা পরিচালকদের কাছে ৭০.৯৪ শতাংশ এবং সাধারণ বিনিয়োগকারীদের কাছে ২০.৭২ শতাংশ শেয়ার আছে।
সিমটেক্স ইন্ডাস্ট্রিজ: শেয়ারসংখ্যা ৭ কোটি ৯৫ লাখ ৯৫ হাজার ৩৮১টি, পরিশোধিত মূলধন ৭৯ কোটি ৫৯ লাখ ৫০ হাজার টাকা। প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগ ১৪.৯২ শতাংশ থেকে বেড়ে ২৩.০৬ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। উদ্যোক্তা পরিচালকদের কাছে ৩১.৬৫ শতাংশ এবং সাধারণ বিনিয়োগকারীদের কাছে ৪৫.২৯ শতাংশ শেয়ার রয়েছে।
তমিজউদ্দিন টেক্সটাইল: শেয়ারসংখ্যা ৩ কোটি ৬৪ হাজার ৭৬৭টি, পরিশোধিত মূলধন ৩০ কোটি ৬ লাখ ৫০ হাজার টাকা। প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগ ১.১৪ শতাংশ থেকে বেড়ে ১.৩৬ শতাংশে হয়েছে। উদ্যোক্তা পরিচালকদের কাছে ৬১.২৩ শতাংশ এবং সাধারণ বিনিয়োগকারীদের কাছে ৩৭.৪১ শতাংশ শেয়ার আছে।

