প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্সের উচ্চপ্রবাহসহ একাধিক ইতিবাচক কারণে দেশের বৈদেশিক মুদ্রাবাজারে স্বস্তি ফিরেছে। এতে বৈদেশিক ঋণ পরিশোধের সক্ষমতাও বেড়েছে। গত তিন মাসে দেশের বিদেশি ঋণের পরিমাণ প্রায় ১৪৫ কোটি ডলার কমেছে। সেপ্টেম্বর শেষে মোট বিদেশি ঋণ নেমে এসেছে ১১ হাজার ২১২ কোটি ডলারে। এর আগে জুন শেষে এই ঋণের পরিমাণ ছিল ১১ হাজার ৩৫৭ কোটি ডলার।
বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, সেপ্টেম্বর শেষে বেসরকারি খাতে বিদেশি ঋণ কমে দাঁড়িয়েছে এক হাজার ৯৫৮ কোটি ডলারে। তিন মাস আগে এই অঙ্ক ছিল এক হাজার ৯৮৩ কোটি ডলার। অন্যদিকে সরকারি খাতে বিদেশি ঋণ বেড়ে হয়েছে ৯ হাজার ২৫৪ কোটি ডলার। জুন শেষে যা ছিল ৯ হাজার ৩৭৪ কোটি ডলার। এই সময়ে সরকারি ও বেসরকারি উভয় খাতেই স্বল্পমেয়াদি বিদেশি ঋণ তুলনামূলকভাবে বেশি কমেছে।
চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের শুরু থেকে গত ২২ ডিসেম্বর পর্যন্ত প্রবাসীরা দেশে পাঠিয়েছেন ২৪৩ কোটি ডলার। আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় এই আয় ১৬ দশমিক ২০ শতাংশ বেশি। এর আগে ২০২৪-২৫ অর্থবছরে প্রবাসী আয় ছিল তিন হাজার ৩৩ কোটি ডলার। যা আগের অর্থবছরের তুলনায় প্রায় ২৭ শতাংশ বেশি।
উচ্চ রেমিট্যান্স প্রবাহ অব্যাহত থাকায় বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভও বেড়েছে। সোমবার দেশের মোট রিজার্ভ দাঁড়িয়েছে ৩২ দশমিক ৭২ বিলিয়ন ডলারে। বিপিএম৬ পদ্ধতিতে রিজার্ভের পরিমাণ ২৮ দশমিক শূন্য ৪ বিলিয়ন ডলার। রিজার্ভে স্বস্তি ফেরায় দীর্ঘদিন ধরে ডলারের বিনিময় হার ১২২ টাকায় স্থিতিশীল রয়েছে।
সংশ্লিষ্টরা জানান, গত বছরের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর অর্থ পাচারের বিরুদ্ধে সরকার কঠোর অবস্থান নিয়েছে। এর প্রভাব পড়েছে বৈদেশিক লেনদেনে। গত অর্থবছরে রেকর্ড ৫৭০ কোটি ৪৫ লাখ ডলার বিদেশি দায় পরিশোধ করা হয়েছে। ডলার বাজারে স্থিতিশীলতা থাকায় বিদেশি ঋণ পরিশোধের এই ধারা এখনো অব্যাহত রয়েছে।

