বছরের শেষ পর্যন্ত ব্যবসার লেনদেনের তথ্য সংরক্ষণের জন্য ৬৪টি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বিশেষ সফটওয়্যার ব্যবহারের অনুমোদন চেয়েছে। চলতি বছরের ৬৩টি প্রতিষ্ঠান ও গত বছর একটি প্রতিষ্ঠান সংশ্লিষ্ট কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটে চিঠি দিয়ে সফটওয়্যার ব্যবহারের অনুমোদন প্রার্থনা করেছে।
জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) এই সফটওয়্যার পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য ছয় সদস্যের একটি কমিটি গঠন করেছে। কমিটিকে ১৫ দিনের মধ্যে সফটওয়্যারের মান যাচাই করে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।
এনবিআরের নিয়ম অনুযায়ী, আমদানিকারক বা উৎপাদনকারী পাইকারি ও খুচরা ব্যবসায়ীরা যদি বছরে পাঁচ কোটি টাকার বেশি লেনদেন করে, তাদের ভ্যাট হিসাবের জন্য বিশেষ সফটওয়্যার ব্যবহার করতে হয়। সফটওয়্যার ব্যবহারের আগে অবশ্যই এনবিআরের অনুমোদন নিতে হবে। ২০১৯ সাল থেকে এই নিয়ম কার্যকর আছে।
সফটওয়্যার ব্যবহারের অনুমোদন চাওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে রয়েছে জারা এন্টারপ্রাইজ, আনাবিয়া এন্টারপ্রাইজ, মনজা ট্রেডিং, ট্রাস্ট ইন্টারন্যাশনাল, মিজাকি ট্রেডিং, আনোয়ারা করপোরেশন, ইউনিক অটো, ট্রাস্ট করপোরেশন, ভার্সাটাইল ট্রেডিং ইন্টারন্যাশনাল, নীলা ট্রেডার্স, জাপান মোটরস, এসকে কার্গো, স্কাই ট্রি, এনএন অটোমোবাইলস, এম্পায়ার এন্টারপ্রাইজ, ইউনিভার্সাল এন্টারপ্রাইজ, আসাদ ট্রেডার্স, মডার্ন অটো সলিউশন, আজাদ ট্রেডিং তেজগাঁও, সীন অ্যান্ড সামির ইন্টারন্যাশনাল, এহসান এন্টারপ্রাইজ, আরআর ইন্টারন্যাশনাল, হুইলস ইনকরপোরেশন, সামারা অ্যান্ড সাহিরা অটোমোবাইলস ইত্যাদি।
প্রতিষ্ঠানগুলো কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের বিভিন্ন অধীনে রয়েছে, যেমন উত্তর, দক্ষিণ, পূর্ব ও পশ্চিম অঞ্চল, চট্টগ্রাম ও খুলনা। এর মধ্যে ৪৩টি প্রতিষ্ঠান বকতিয়ার আহমেদ রনি অ্যান্ড অ্যাসোসিয়েটস লিমিটেডের সফটওয়্যার ব্যবহার করতে চেয়েছে। এছাড়া ছয়টি প্রতিষ্ঠান টেকনোহ্যাভেন, চারটি প্রতিষ্ঠান ইউওয়াই সিস্টেম, তিনটি প্রতিষ্ঠান নাস্সিনিয়া এবং একটি প্রতিষ্ঠান সিম্ফোনিয়া সফটেক কোম্পানির সফটওয়্যার ব্যবহারের অনুমোদন চেয়েছে। সাতটি প্রতিষ্ঠান নিজস্ব তৈরি সফটওয়্যার ব্যবহারের জন্য আবেদন করেছে।
প্রতিষ্ঠানগুলো ইতোমধ্যেই সফটওয়্যারগুলো স্থাপন করেছে। এনবিআরের মূসক বিভাগের এক কর্মকর্তা জানান, ভ্যাট ফাঁকি রোধে বিশেষ সফটওয়্যার ব্যবহার বাধ্যতামূলক। কমিটির মান যাচাই প্রতিবেদন পাওয়ার পরই ব্যবসায়ীদের সফটওয়্যার ব্যবহারের আনুষ্ঠানিক অনুমোদন দেওয়া হবে।

