সিলেটের চারটি মেগা উন্নয়ন প্রকল্পে অবশেষে অনুমোদন দিয়েছে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক)। দীর্ঘদিন পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ে ফাইলবন্দী থাকা এসব প্রকল্প মঙ্গলবার রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের এনইসি সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত একনেক সভায় অনুমোদন পায়। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন প্রধান উপদেষ্টা ও একনেক চেয়ারপারসন ড. মুহাম্মদ ইউনূস।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, গত কয়েক বছর ধরে সিলেটের অবকাঠামো উন্নয়নের এসব প্রকল্প অনুমোদনের অপেক্ষায় ছিল। সর্বশেষ ছয় মাসে প্রকল্পগুলোর অগ্রগতি ও জটিলতা নিয়ে একাধিক প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। এর পরই প্রকল্পগুলো অনুমোদনের তালিকায় আসে।
অনুমোদন পাওয়া প্রকল্পগুলোর মধ্যে রয়েছে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের ‘ভূমি অধিগ্রহণ ও ইউটিলিটি স্থানান্তর প্রকল্প: সাপোর্ট টু ঢাকা (কাঁচপুর)-সিলেট-তামাবিল মহাসড়ক চার লেনে উন্নীতকরণ এবং উভয় পাশে পৃথক সার্ভিস লেন নির্মাণ (প্রথম সংশোধিত)’। পাশাপাশি স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের অধীনে সিলেট সিটি করপোরেশনের জলাবদ্ধতা নিরসন, বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ ও অবকাঠামো নির্মাণ (দ্বিতীয় সংশোধিত) প্রকল্প এবং ‘সিলেট বিভাগের গুরুত্বপূর্ণ উপজেলা ও ইউনিয়ন সড়ক প্রশস্তকরণ ও শক্তিশালীকরণ’ প্রকল্পও অনুমোদন পেয়েছে। সব মিলিয়ে প্রায় ১৫ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে এসব প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হবে।
এর মধ্যে সিলেট নগরীর জলাবদ্ধতা নিরসন ও বিশুদ্ধ পানি সরবরাহে সিলেট সিটি করপোরেশন পেয়েছে ৪৯৯ কোটি টাকার একটি প্রকল্প। মঙ্গলবার একনেক সভায় এই প্রকল্পের দ্বিতীয় সংশোধনী অনুমোদন দেওয়া হয়। সিসিক সূত্র জানায়, প্রকল্পের আওতায় নগরীর নদী, খাল ও ড্রেন খনন করা হবে। এর মাধ্যমে জলাবদ্ধতা কমানোর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি যেসব ওয়ার্ডে পানির লাইন নষ্ট হয়েছে বা সংস্কারের প্রয়োজন রয়েছে, সেখানে বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ ব্যবস্থার উন্নয়ন করা হবে। তবে নতুন কোনো ওয়ার্ডে পানির সংযোগ দেওয়ার পরিকল্পনা নেই। অবকাঠামো উন্নয়নের অংশ হিসেবে বিভিন্ন এলাকায় ড্রেন ও কালভার্ট নির্মাণেও গুরুত্ব দেওয়া হবে।
অন্যদিকে দীর্ঘ অনিশ্চয়তার পর চার লেনে উন্নীত হওয়ার অনুমোদন পেল ৫৬ দশমিক ২ কিলোমিটার দীর্ঘ সিলেট-তামাবিল মহাসড়ক। প্রকল্পটি অনুমোদন পাওয়ায় স্বস্তি ফিরেছে সিলেটবাসীর মধ্যে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এই মহাসড়ক চার লেনে উন্নীত হলে সিলেটের ব্যবসা-বাণিজ্য ও পর্যটন শিল্পে বড় ধরনের গতি আসবে। ২০২৩ সালে তৎকালীন সরকার মহাসড়কটি চার লেনে উন্নীত করার উদ্যোগ নেয়। তবে অর্থায়নসহ নানা জটিলতায় প্রকল্পটি এত দিন আটকে ছিল। সর্বশেষ একনেকের অনুমোদনের মধ্য দিয়ে সিলেটের গুরুত্বপূর্ণ এই যোগাযোগ প্রকল্প বাস্তবায়নের পথ খুলে গেল।

