বেশ কয়েক বছর ধরেই দেশের পুঁজিবাজার বিনিয়োগকারীদের হতাশ করছে। চলতি বছরেও সেই চিত্রে বড় কোনো পরিবর্তন আসেনি। বিশেষ করে বড় মূলধনি কোম্পানিগুলোর শেয়ারদরে ধারাবাহিক পতন অব্যাহত রয়েছে। এর প্রভাব পড়েছে বাজার মূলধনে। চলতি বছরে শীর্ষ ১০ কোম্পানির সম্মিলিত বাজার মূলধন কমেছে ২১ হাজার ২৩১ কোটি টাকা। পুঁজিবাজারের উত্থান–পতনে এসব কোম্পানির ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
২০২৫ সালে বাজার মূলধনের দিক থেকে শীর্ষ ১০ কোম্পানির মধ্যে ৭টির মূলধন কমেছে। বিপরীতে বেড়েছে মাত্র ৩টির। যদিও এ সময়ে সার্বিকভাবে দেশের পুঁজিবাজারের মোট বাজার মূলধন বেড়েছে ৫ হাজার ৩৩৯ কোটি টাকা।
চলতি বছরে সবচেয়ে বেশি বাজার মূলধন কমেছে টেলিযোগাযোগ খাতের গ্রামীণফোন লিমিটেডের। কোম্পানিটির বাজার মূলধন কমেছে ৮ হাজার ৪৮০ কোটি টাকা। গত বছরের ৩০ ডিসেম্বর গ্রামীণফোনের বাজার মূলধন ছিল ৪৩ হাজার ৬২৮ কোটি টাকা। সর্বশেষ ২৮ ডিসেম্বর তা নেমে এসেছে ৩৫ হাজার ১৪৮ কোটি টাকায়।
খাদ্য ও আনুষঙ্গিক খাতের তালিকাভুক্ত কোম্পানি ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকোর বাজার মূলধন কমেছে ৬ হাজার ৫৩৯ কোটি টাকা। গত বছরের ৩০ ডিসেম্বর কোম্পানিটির বাজার মূলধন ছিল ১৯ হাজার ৮৫০ কোটি টাকা। ২৮ ডিসেম্বর শেষে তা কমে দাঁড়িয়েছে ১৩ হাজার ৩১১ কোটি টাকায়।
ইলেকট্রনিকস খাতের ওয়ালটন হাই-টেক ইন্ডাস্ট্রিজের বাজার মূলধন কমেছে ২ হাজার ২৯২ কোটি টাকা। গত বছরের ৩০ ডিসেম্বর কোম্পানিটির বাজার মূলধন ছিল ১৪ হাজার ৭৬৮ কোটি টাকা। সর্বশেষ ২৮ ডিসেম্বর তা নেমে এসেছে ১২ হাজার ৪৭৬ কোটি টাকায়।
ফার্মাসিউটিক্যাল খাতের স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালসের বাজার মূলধন কমেছে ১ হাজার ৬৫৮ কোটি টাকা। গত বছরের ৩০ ডিসেম্বর কোম্পানিটির বাজার মূলধন ছিল ১৯ হাজার ২৯৮ কোটি টাকা। ২৮ ডিসেম্বর শেষে তা দাঁড়িয়েছে ১৭ হাজার ৬৪০ কোটি টাকায়।
রং উৎপাদনকারী বার্জার পেইন্টস বাংলাদেশ লিমিটেডের বাজার মূলধন কমেছে ১ হাজার ৬২৪ কোটি টাকা। গত বছরের ৩০ ডিসেম্বর কোম্পানিটির বাজার মূলধন ছিল ৮ হাজার ৪৫৪ কোটি টাকা। সর্বশেষ ২৮ ডিসেম্বর তা কমে দাঁড়িয়েছে ৬ হাজার ৮৩০ কোটি টাকায়।
বিদ্যুৎ খাতের ইউনাইটেড পাওয়ার জেনারেশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডের বাজার মূলধন এ বছর কমেছে ৪৮১ কোটি টাকা। গত বছরের ৩০ ডিসেম্বর কোম্পানিটির বাজার মূলধন ছিল ৭ হাজার ১৬৫ কোটি টাকা। ২৮ ডিসেম্বর শেষে তা দাঁড়িয়েছে ৬ হাজার ৬৮৪ কোটি টাকায়।
টেলিযোগাযোগ খাতের আরেক কোম্পানি রবি আজিয়াটার বাজার মূলধন কমেছে ১৫৭ কোটি টাকা। গত বছরের ৩০ ডিসেম্বর কোম্পানিটির বাজার মূলধন ছিল ১৪ হাজার ৮২৩ কোটি টাকা। সর্বশেষ ২৮ ডিসেম্বর তা নেমে এসেছে ১৪ হাজার ৬৬৬ কোটি টাকায়।
অন্যদিকে চলতি বছরে কয়েকটি কোম্পানির বাজার মূলধন বেড়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি বেড়েছে ব্র্যাক ব্যাংকের। ব্যাংকটির বাজার মূলধন বেড়েছে ৪ হাজার ১৫০ কোটি টাকা। গত বছরের ৩০ ডিসেম্বর ব্র্যাক ব্যাংকের বাজার মূলধন ছিল ৮ হাজার ৬৭২ কোটি টাকা। সর্বশেষ ২৮ ডিসেম্বর শেষে তা দাঁড়িয়েছে ১২ হাজার ৮২২ কোটি টাকায়।
ভোক্তা পণ্য উৎপাদনকারী ম্যারিকো বাংলাদেশ লিমিটেডের বাজার মূলধন বেড়েছে ১ হাজার ১৮৯ কোটি টাকা। গত বছরের ৩০ ডিসেম্বর কোম্পানিটির বাজার মূলধন ছিল ৭ হাজার ১৯১ কোটি টাকা। ২৮ ডিসেম্বর শেষে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৮ হাজার ৩৭৯ কোটি টাকায়।
এ ছাড়া বেক্সিমকো ফার্মাসিউটিক্যালসের বাজার মূলধন এ বছর সামান্য বেড়েছে। গত বছরের ৩০ ডিসেম্বর কোম্পানিটির বাজার মূলধন ছিল ১০ হাজার ৩৮৫ কোটি টাকা। সর্বশেষ ২৮ ডিসেম্বর তা দাঁড়িয়েছে ১০ হাজার ৩৮৬ কোটি টাকায়।

