ভারতের রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান ‘কোল ইন্ডিয়া লিমিটেড’ (সিআইএল) প্রতিবেশী দেশগুলোতে কয়লা রপ্তানি বাড়াতে বড় ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছে। এখন থেকে বাংলাদেশ, ভুটান ও নেপালের ক্রেতারা কোনো মধ্যস্থতাকারীর ওপর নির্ভর না করে সরাসরি কোল ইন্ডিয়ার ই-নিলামে অংশ নিতে পারবেন। সিদ্ধান্তটি ১ জানুয়ারি থেকে কার্যকর হয়েছে।
গতকাল শুক্রবার কোল ইন্ডিয়া জানিয়েছে, এর আগে বাংলাদেশসহ অন্যান্য প্রতিবেশী দেশের ক্রেতারা কেবল ভারতীয় ট্রেডারদের মাধ্যমে সংস্থার কয়লা কিনতে পারতেন। নতুন নিয়ম অনুযায়ী ‘সিঙ্গল উইন্ডো মোড অ্যাগনস্টিক’ (এসডব্লিউএমএ) ই-নিলামে তারা সরাসরি অংশ নিতে পারবেন। কোল ইন্ডিয়ার বোর্ড সম্প্রতি এই প্রকল্পের নিয়মে প্রয়োজনীয় সংশোধন এনেছে।
সংস্থার এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, “বিদেশি ক্রেতাদের জন্য নিলাম উন্মুক্ত করার মাধ্যমে আমরা বিশ্ববাজারের সঙ্গে আরও নিবিড়ভাবে যুক্ত হতে চাই। এতে প্রতিযোগিতার পরিবেশ তৈরি হবে এবং পুরো প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা বাড়বে।”
নতুন কাঠামোর অধীনে বিদেশি ক্রেতাদের জন্য এককালীন রেজিস্ট্রেশন, ডিজিটাল বিডিং এবং অগ্রিম ইলেকট্রনিক পেমেন্টের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। পেমেন্ট হবে বৈদেশিক মুদ্রা নিয়ন্ত্রণ আইন (এফইএমএ) অনুযায়ী। নেপাল পেমেন্ট করতে পারবে ভারতীয় রুপি বা মার্কিন ডলারে, আর বাংলাদেশ ও ভুটান মার্কিন ডলারে অর্থ পরিশোধ করবে (মূল্যমান রুপিতে নির্ধারিত হবে)।
কোল ইন্ডিয়া চলতি অর্থবছরে ৯০০ মিলিয়ন টন কয়লা সরবরাহের উচ্চাভিলাষী লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে, যা গত বছরের তুলনায় প্রায় ১৮ শতাংশ বেশি। তবে বছরের প্রথম নয় মাসে সরবরাহ কমে ৫৪৪.৭ মিলিয়ন টনে দাঁড়িয়েছে, যা গত বছরের তুলনায় ২.২ শতাংশ কম। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, বিদেশি বাজার সম্প্রসারণ এই ঘাটতি পূরণ ও উদ্বৃত্ত কয়লার সঠিক ব্যবহারে সহায়ক হবে।
এই ঘোষণার পরই ভারতের শেয়ার বাজারে কোল ইন্ডিয়ার শেয়ারের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। শুক্রবার লেনদেন শেষে শেয়ারের দাম ৬.৮৮ শতাংশ বাড়ে এবং ৪২৭.৯০ রুপিতে পৌঁছায়, যা গত এক বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ। কর্তৃপক্ষ আশা করছে, স্বচ্ছতা বৃদ্ধি ও মধ্যস্বত্বভোগীদের নিয়ন্ত্রণের কারণে এই পদক্ষেপ দক্ষিণ এশিয়ার জ্বালানি বাণিজ্যে নতুন মাত্রা যোগ করবে।

