নতুন প্রতিযোগিতামূলক বৈশ্বিক ব্যবস্থায় প্রবেশের প্রেক্ষাপটে ভূ-অর্থনৈতিক সংঘাতকে ২০২৬ সালের সবচেয়ে বড় বৈশ্বিক ঝুঁকি হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এর পরের চারটি ঝুঁকি হিসেবে উঠে এসেছে রাষ্ট্রভিত্তিক সংঘাত, চরম আবহাওয়া, সামাজিক মেরূকরণ এবং ভুল ও বিভ্রান্তিকর তথ্য।
গতকাল ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরাম (ডব্লিউইএফ) প্রকাশিত গ্লোবাল রিস্ক রিপোর্ট–২০২৬-এ স্বল্প মেয়াদে এসব ঝুঁকির কথা বলা হয়েছে। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, অর্থনৈতিক ও ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা দ্রুত বাড়ছে। এর ফলে বৈশ্বিক স্থিতিশীলতা আরও চাপের মুখে পড়ছে। স্বল্প মেয়াদে অর্থনৈতিক ঝুঁকিই সবচেয়ে দ্রুত বেড়েছে। অর্থনৈতিক মন্দা ও মূল্যস্ফীতির ঝুঁকি দুটিই শীর্ষের দিকে উঠে এসেছে। একই সঙ্গে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই নিয়ে উদ্বেগ তীব্র হয়েছে। তবে স্বল্প মেয়াদে পরিবেশগত ঝুঁকির অবস্থান কিছুটা নিচে নেমেছে।
বিশ্ব পরিস্থিতি নিয়ে নেতৃবৃন্দ ও বিশেষজ্ঞদের দৃষ্টিভঙ্গি দিন দিন আরও হতাশাব্যঞ্জক হয়ে উঠছে। জরিপে অংশ নেওয়া অর্ধেক বিশেষজ্ঞ মনে করছেন, আগামী দুই বছর হবে অস্থির। এটি গত বছরের তুলনায় ১৪ শতাংশ পয়েন্ট বেশি। আরও ৪০ শতাংশের মতে, পরিস্থিতি অন্তত অস্বস্তিকর থাকবে। মাত্র ৯ শতাংশ স্থিতিশীলতার আশা করছেন। আর ‘শান্ত’ পরিস্থিতির প্রত্যাশা করছেন মাত্র ১ শতাংশ উত্তরদাতা। আগামী ১০ বছরের চিত্র আরও উদ্বেগজনক। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ৫৭ শতাংশ উত্তরদাতা দীর্ঘ মেয়াদে বিশ্ব পরিস্থিতিকে অস্থির বা ঝোড়ো হিসেবে দেখছেন।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ভূ-অর্থনৈতিক সংঘাত সরবরাহ শৃঙ্খল, বৈশ্বিক বাণিজ্য এবং সামগ্রিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য বড় হুমকি হয়ে উঠছে। ২০২৬ সালে এই ঝুঁকিকেই বৈশ্বিক সংকট সৃষ্টির সবচেয়ে সম্ভাব্য কারণ হিসেবে দেখছেন ১৮ শতাংশ উত্তরদাতা।
ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের প্রেসিডেন্ট ও সিইও বর্গে ব্রেন্ডে বলেন, ‘প্রধান শক্তিগুলো যখন নিজেদের প্রভাবক্ষেত্র নিশ্চিত করতে চাইছে, তখন একটি নতুন প্রতিযোগিতামূলক ব্যবস্থা গড়ে উঠছে। এই পরিবর্তনশীল বাস্তবতায় সহযোগিতা আগের মতো না থাকলেও সহযোগিতামূলক দৃষ্টিভঙ্গি ও সংলাপের মনোভাব এখনো অত্যাবশ্যক। দাভোসে আমাদের বার্ষিক সভা ঝুঁকি ও সুযোগ বোঝার পাশাপাশি সেগুলো মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় সেতুবন্ধন তৈরির একটি গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্ম হবে।’
প্রতিবেদনটি তিনটি সময়সীমায় ঝুঁকি বিশ্লেষণ করেছে। এগুলো হলো তাৎক্ষণিক সময়কাল (২০২৬), স্বল্প থেকে মধ্য মেয়াদ (আগামী দুই বছর) এবং দীর্ঘ মেয়াদ (আগামী ১০ বছর)। ভূ-অর্থনৈতিক বিরোধ স্বল্প মেয়াদেও শীর্ষ ঝুঁকি হিসেবে রয়েছে। গত বছরের তুলনায় এটি আট ধাপ ওপরে উঠে এসেছে। রাষ্ট্রভিত্তিক সশস্ত্র সংঘাত ২০২৬ সালে দ্বিতীয় স্থানে থাকলেও দুই বছরের সময়সীমায় তা নেমে এসেছে পঞ্চম স্থানে। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, নিকট ভবিষ্যতে সশস্ত্র সংঘাত, অর্থনৈতিক অস্ত্রায়ন এবং সামাজিক বিভাজন একসঙ্গে তীব্র হচ্ছে। এসব তাৎক্ষণিক ঝুঁকি বাড়ার পাশাপাশি প্রযুক্তির দ্রুত অগ্রগতি ও পরিবেশগত অবনতি থেকে দীর্ঘমেয়াদি পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াও তৈরি হচ্ছে।

