আন্তর্জাতিক বাজারে শুক্রবার রুপার দাম প্রতি আউন্স ১০০ ডলারের ওপরে উঠে গেছে, এবং নতুন ২০২৬ সালে প্রবেশের পরও এই ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা থামেনি। খুচরা বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ এবং দ্রুতগতির কেনাবেচার পাশাপাশি বাস্তব বাজারে দীর্ঘদিনের সরবরাহ সংকট দাম বাড়াতে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রেখেছে। খবরটি জানিয়েছে রয়টার্স।
শুক্রবার স্পট মার্কেটে রুপার দাম ৫ দশমিক ১ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে প্রতি ট্রয় আউন্সে ১০১ ডলারে দাঁড়িয়েছে। রূপা শুধু বিনিয়োগের মাধ্যম হিসেবেই নয়, গহনা, ইলেকট্রনিক পণ্য এবং সৌর প্যানেল তৈরিতেও ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয়।
বাজার বিশ্লেষকরা জানান, ২০২৫ সালে রুপার দাম প্রায় ১৪৭ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছিল। আর নতুন বছর শুরু হওয়ার পর থেকে ২০২৬ সালে এখন পর্যন্ত দাম আরও প্রায় ৪০ শতাংশ উর্ধ্বমুখী হয়েছে।
তবে এই দ্রুত উল্লম্ফন নিয়ে সতর্ক করে দিচ্ছেন কারিগরি বিশ্লেষকরা। অতীতের বাজারের তথ্য বিশ্লেষণ করে তারা মনে করছেন, এত দ্রুত দামের ওঠানামা রুপাকে বড় ধরনের মূল্য সংশোধনের মুখে ফেলতে পারে। বিশেষ করে স্বর্ণের দামের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলা রুপার বাজারে হঠাৎ পতনের ঝুঁকি থাকে।
একই দিনে আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দামও নতুন রেকর্ড গড়েছে। শুক্রবার প্রতি আউন্স স্বর্ণের দাম পৌঁছেছে ৪,৯৮৮ ডলারে, যা বিনিয়োগকারীদের মধ্যে নিরাপদ সম্পদের প্রতি আগ্রহ আরও বৃদ্ধি করেছে। বাজার বিশ্লেষকরা বলছেন, গ্লোবাল অর্থনৈতিক অস্থিরতা, মুদ্রার মান এবং বিনিয়োগকারীদের নিরাপত্তা চাহিদা মিলিয়ে রুপা ও স্বর্ণের চাহিদা বাড়ছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই অবস্থায় বিনিয়োগকারীদের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে সতর্ক থাকা এবং বাজারের গতিশীলতার সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলা। দীর্ঘমেয়াদে রুপা ও স্বর্ণের দাম আরও ওঠানামার মুখে পড়তে পারে, তাই বিনিয়োগের ক্ষেত্রে ঝুঁকি নিয়ন্ত্রণ গুরুত্বপূর্ণ।
বাজারের সাম্প্রতিক এই প্রান্তিক বৃদ্ধি রূপা ও স্বর্ণকে নতুন বিনিয়োগের কেন্দ্রবিন্দুতে নিয়ে এসেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আগামী মাসগুলোতে আন্তর্জাতিক সরবরাহ ও অর্থনীতির বিভিন্ন ইন্ডিকেটরের ওপর নজর রাখা বিনিয়োগকারীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হবে।

