চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে লাইটার জাহাজের সিরিয়াল এবং পণ্য খালাস ব্যবস্থাপনায় দীর্ঘদিন ধরে থাকা অনিয়ম এবং বৈষম্য দূর করতে নৌপরিবহন অধিদপ্তর নতুন জাহাজী সফটওয়্যার চালু করতে যাচ্ছে। আগামীকাল শুক্রবার চট্টগ্রামে বাংলাদেশ ওয়াটার ট্রান্সপোর্ট কো-অর্ডিনেশন সেলের (বিডব্লিউটিসিসি) কার্যালয়ে সফটওয়্যারটি উদ্বোধন করা হবে। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন নৌপরিবহন অধিদপ্তরের চিফ ইঞ্জিনিয়ার ও শিপ সার্ভেয়ার মির্জা সাইফুর রহমান।
নৌপরিবহন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক কমোডোর মো. শফিউল বারী জানান, সফটওয়্যারটি চালু হলে বিডব্লিউটিসিসির অধীনে পরিচালিত লাইটার জাহাজগুলোকে স্বচ্ছতা ও ন্যায্যতার ভিত্তিতে পরিচালনা করা সম্ভব হবে।
তিনি বলেন, “বাজারে কখনও কখনও কৃত্রিম সংকট তৈরি করতে লাইটারেজ জাহাজকে ভাসমান গুদাম হিসেবে ব্যবহার করার অভিযোগ পাওয়া যায়। বর্তমানে কোন জাহাজে কী পণ্য আছে বা কোথায় অবস্থান করছে, তা জানা যায় না। সফটওয়্যার চালু হলে, কোন রুটে কতটি জাহাজ, কী পণ্য বহন করছে এবং কোথায় আছে—সবই জানা যাবে।”
বর্তমানে একটি লাইটার জাহাজকে সিরিয়াল দেওয়ার জন্য জাহাজের স্টাফদের একাধিক দপ্তরে সরাসরি উপস্থিত হয়ে হাতে-কলমে আবেদন করতে হয়। এরপর সিরিয়াল এন্ট্রি, অ্যালটমেন্ট, পাইলটিং, ছাড়পত্র ও ড্যামারেজ সেটেলমেন্ট সবই ম্যানুয়ালি হয়।
সফটওয়্যারের চিফ অপারেটিং অফিসার অভিনন্দন জোতদার জানান, নতুন সফটওয়্যার চালু হলে পুরো প্রক্রিয়া অটোমেশনের আওতায় আসবে। জাহাজ নির্ধারিত এলাকায় পৌঁছালেই জিও-ফেন্সিং প্রযুক্তি ব্যবহার করে স্বয়ংক্রিয়ভাবে সিরিয়াল নির্ধারিত হবে। আর কার্গো এজেন্টের পণ্যের চাহিদা ও উপস্থিত জাহাজের তালিকা ডিজিটাল লটারি সিস্টেমে মিলানো হবে, যাতে পক্ষপাত বা প্রভাব খাটানোর সুযোগ থাকবে না।
প্রতিটি লাইটারেজ জাহাজে সফটওয়্যারটির একটি ডিভাইস যুক্ত করার মাধ্যমে এটি নিশ্চিত করা হবে।
বিডব্লিউটিসিসির মুখপাত্র পারভেজ আহমেদ জানিয়েছেন, বর্তমানে অনেক জাহাজ মালিক ব্যক্তিগতভাবে এই সফটওয়্যার ব্যবহার করেন। কিন্তু এখন থেকে সব জাহাজ মালিককে বাধ্যতামূলকভাবে সফটওয়্যার বাস্তবায়ন করতে হবে।
নৌপরিবহন অধিদপ্তরের এই উদ্যোগের ফলে চট্টগ্রাম বন্দরের লাইটারেজ খালাস প্রক্রিয়া হবে আরও স্বচ্ছ, দ্রুত ও সুষ্ঠু।

