নতুন মাসের শুরুতেই দেশের অর্থনীতির জন্য এসেছে একটি স্বস্তিদায়ক খবর। চলতি আগস্ট মাসের প্রথম তিন দিনেই বৈধ ব্যাংকিং ব্যবস্থার মাধ্যমে দেশে এসেছে ৪০৬ মিলিয়ন মার্কিন ডলার প্রবাসী আয়। গত বছরের একই সময়ের তুলনায় এ প্রবাহ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে, যা বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ, আমদানি ব্যয় নির্বাহ এবং সামগ্রিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য ইতিবাচক হিসেবে দেখা হচ্ছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ হালনাগাদ তথ্য অনুযায়ী, গত বছরের একই সময়ে দেশে রেমিট্যান্স এসেছিল ২২০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। সেই হিসাবে এবার আগস্টের প্রথম তিন দিনের আয় অনেকটাই বেশি, যা প্রবাসী আয়ের ধারাবাহিক ইতিবাচক প্রবণতারই ইঙ্গিত দিচ্ছে।
তথ্য বলছে, ৩ আগস্ট একদিনেই দেশে এসেছে ১৩৩ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। মাসের শুরুতেই একদিনে এত বড় অঙ্কের রেমিট্যান্স দেশের বৈদেশিক মুদ্রা প্রবাহকে আরও শক্তিশালী করেছে।
এদিকে চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের শুরু থেকে ৩ আগস্ট পর্যন্ত, অর্থাৎ জুলাই থেকে ৩ আগস্ট সময়কালে দেশে মোট রেমিট্যান্স এসেছে ৩ দশমিক ২৬৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। গত অর্থবছরের একই সময়ে এই পরিমাণ ছিল ২ দশমিক ৬৯৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলার।
বাংলাদেশ ব্যাংকের হিসাব অনুযায়ী, আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় চলতি অর্থবছরের ৩ আগস্ট পর্যন্ত রেমিট্যান্স প্রবাহ ২০ দশমিক ৯ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। অর্থনীতিবিদদের মতে, এই প্রবৃদ্ধি দেশের বৈদেশিক মুদ্রার সরবরাহ বাড়ানোর পাশাপাশি আর্থিক খাতেও ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
বিশ্লেষকদের মতে, প্রবাসী আয় ধারাবাহিকভাবে বাড়তে থাকলে তা শুধু রিজার্ভ শক্তিশালী করতেই নয়, আমদানি ব্যয় মেটানো, মুদ্রাবাজারে স্থিতিশীলতা বজায় রাখা এবং সামগ্রিক অর্থনৈতিক চাপ কমাতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। পাশাপাশি বৈধ পথে অর্থ পাঠাতে প্রবাসীদের আগ্রহ বৃদ্ধি, ব্যাংকিং সেবার সহজলভ্যতা এবং সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগও এই ইতিবাচক প্রবণতার পেছনে ভূমিকা রাখছে বলে মনে করা হচ্ছে।
নতুন অর্থবছরের শুরুতে রেমিট্যান্স প্রবাহের এই ঊর্ধ্বমুখী ধারা অব্যাহত থাকলে দেশের অর্থনীতির জন্য এটি আরও বড় স্বস্তির কারণ হয়ে উঠতে পারে।

