চট্টগ্রাম বন্দরের আমদানি ও রফতানি কার্যক্রম নির্বিঘ্ন রাখতে বন্দর সংলগ্ন গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি এলাকায় সব ধরনের সভা-সমাবেশ ও মিছিল নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ (সিএমপি)। একই সঙ্গে এসব এলাকায় অস্ত্র ও বিস্ফোরক বহনেও কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছে।
গতকাল শনিবার (৩১ জানুয়ারি) সিএমপি কমিশনার হাসিব আজিজের স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ নিষেধাজ্ঞার কথা জানানো হয়। ঘোষিত আদেশ অনুযায়ী, আগামী ১ ফেব্রুয়ারি রাত থেকে ২ মার্চ পর্যন্ত এক মাস এই বিধিনিষেধ কার্যকর থাকবে।
নিষেধাজ্ঞার আওতায় রয়েছে বন্দর সংলগ্ন বারেক বিল্ডিং মোড়, নিমতলা মোড়, ৩ নম্বর জেটি গেট, কাস্টমস মোড়, সল্টগোলা ক্রসিংসহ আশপাশের এলাকাগুলো। এসব স্থানে কোনো ধরনের মিছিল, সভা-সমাবেশ, মানববন্ধন কিংবা পথসভা করা যাবে না। বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়েছে, নিষিদ্ধ এলাকায় অস্ত্রশস্ত্র, তলোয়ার, বল্লম, বন্দুক, ছোরা, লাঠি, বিস্ফোরক দ্রব্য এবং ইট-পাথর বহন বা ব্যবহার সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ থাকবে।
সিএমপি জানিয়েছে, চট্টগ্রাম বন্দর দেশের অর্থনীতির প্রাণকেন্দ্র এবং ‘ক’ শ্রেণির অতি গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা বা কেপিআই হিসেবে চিহ্নিত। প্রতিদিন ৫ থেকে ৬ হাজার ভারী যানবাহন এই বন্দর ব্যবহার করে। বন্দর এলাকায় সভা-সমাবেশ বা মিছিল হলে তীব্র যানজট সৃষ্টি হয়, যা আমদানি-রফতানি কার্যক্রম ব্যাহত করে। এতে জাতীয় অর্থনীতি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি জাতীয় নিরাপত্তাও ঝুঁকির মুখে পড়ে।
তবে সামনে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন–২০২৬ অনুষ্ঠিত হওয়ার প্রেক্ষাপটে এই নিষেধাজ্ঞায় কিছুটা শিথিলতা রাখা হয়েছে। নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী রাজনৈতিক দল এবং স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য পদপ্রার্থীদের নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণা, মিছিল ও সমাবেশ এই আদেশের আওতামুক্ত থাকবে। পুলিশ প্রশাসন স্পষ্ট করে জানিয়েছে, ঘোষিত আদেশ অমান্য করলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

