এ বছরের আয়কর রিটার্ন জমা দেওয়ার শেষ সময় নির্ধারিত হয়েছে ২৮ ফেব্রুয়ারি। এর আগে সরকারের পক্ষ থেকে তিন দফা সময় বৃদ্ধি করা হয়েছিল।
গতবারের মতো এবারও সাড়ে তিন লাখ টাকা পর্যন্ত ব্যক্তিগত আয় করমুক্ত থাকবে। তবে এই বছর রিটার্ন জমার ক্ষেত্রে পাঁচটি নতুন কর ছাড় চালু করা হয়েছে। তাই শেষ মুহূর্তে রিটার্ন জমা দেবেন এমন করদাতাদের এই বিষয়গুলো খেয়াল রাখতে হবে।
এবার অনলাইনে রিটার্ন জমা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। তাই কাগজে বা সনাতনি পদ্ধতিতে রিটার্ন জমা দেওয়ার সুযোগ নেই। নিচে ব্যক্তিশ্রেণির করদাতাদের জন্য নতুন কর ছাড়গুলো তুলে ধরা হলো:
১. ভাইবোনের দেওয়া টাকায় করমুক্তি: ভাইবোন থেকে পাওয়া দান বা উপহার করা অর্থ ও সম্পদ করমুক্ত থাকবে। বিদেশ থেকে দেশে টাকা পাঠানো বা উৎসব উপলক্ষে উপহার দেওয়ার ক্ষেত্রে কোনো কর নেই। তবে পাঁচ লাখ টাকার বেশি হলে ব্যাংকিং চ্যানেলের মাধ্যমে দিতে হবে। এতে পারিবারিক সম্পদ যেমন জমি, ফ্ল্যাট হস্তান্তর সহজ হবে। এর আগে শুধু স্বামী-স্ত্রী, বাবা-মা ও সন্তানদের দান করমুক্ত ছিল।
২. কৃষি খাতের আয়ে পাঁচ লাখ টাকা পর্যন্ত কর ছাড়: এ বছরের বাজেটে কৃষি খাতের আয়ের ওপর কর ছাড় দেওয়া হয়েছে। কৃষি খাতের আয়ের ৫ লাখ টাকা পর্যন্ত কর দিতে হবে না। এ উদ্যোগের লক্ষ্য বাণিজ্যিক কৃষিকে উৎসাহিত করা। এখন অনেকে জমি লিজ নিয়ে কৃষিকাজ করছেন।
৩. বেসরকারি চাকরিজীবীদের কর ছাড়: বেসরকারি চাকরিজীবীদের করযোগ্য আয়ের হিসাবের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ বাদযোগ্য অঙ্ক বাড়ানো হয়েছে। আগে ভাতা ও অন্যান্য ছাড়সহ সাড়ে চার লাখ টাকা পর্যন্ত আয় বাদ দেওয়া যেত, এবার তা পাঁচ লাখ টাকা করা হয়েছে।
৪. পেনশনের আয় করমুক্ত: জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষ ও সর্বজনীন পেনশন স্কিম থেকে প্রাপ্ত আয় করমুক্ত রাখা হয়েছে। এতে পেনশনভোগীরা কিছুটা স্বস্তি পাবেন। বর্তমানে সর্বজনীন পেনশন স্কিমের আওতায় প্রায় দুই লাখ গ্রাহক রয়েছে।
৫. মরণব্যাধির চিকিৎসা খরচ করমুক্ত: চাকরিজীবীদের সুবিধার জন্য তাদের মরণব্যাধির চিকিৎসা খরচ করমুক্ত রাখা হয়েছে। তালিকায় আছে কিডনি, লিভার, ক্যানসার, হার্টের চিকিৎসা, মস্তিষ্কে অস্ত্রোপচার ও কৃত্রিম অঙ্গ প্রতিস্থাপন। এসব চিকিৎসায় প্রতিষ্ঠান থেকে পাওয়া অর্থ করমুক্ত হবে।
এবারের কর ছাড়ের ধারা বিশেষভাবে পরিবার, কৃষি ও স্বাস্থ্য খাতকে উৎসাহিত করার দিকে লক্ষ্য রাখছে। করদাতাদের সুবিধা নিতেই শেষ সময়ের আগে অনলাইনে রিটার্ন জমা দেওয়াই গুরুত্বপূর্ণ।

