বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে বিশ্বব্যাংক গ্রুপের আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থা (আইডিএ)-এর আরও একটি অর্থায়ন চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। এর আওতায় দেশের অনানুষ্ঠানিক খাতে কর্মসংস্থান জোরদারে বাস্তবায়নাধীন ‘রিকভারি অ্যান্ড অ্যাডভান্সমেন্ট অব ইনফরমাল সেক্টর এমপ্লয়মেন্ট (রেইজ)’ প্রকল্পের জন্য অতিরিক্ত অর্থ সহায়তা পাওয়া যাচ্ছে।
গত রবিবার স্বাক্ষরিত চুক্তি অনুযায়ী প্রকল্পটির জন্য বাংলাদেশকে ১৫০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার ঋণ এবং ০.৭৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার অনুদান দেওয়া হবে। এই অর্থায়ন বিশ্বব্যাংকের আইডিএ এবং আর্লি লার্নিং পার্টনারশিপ মাল্টি-ডোনার ট্রাস্ট ফান্ড (ইএলপি এমডিটিএফ) থেকে আসছে।
রেইজ প্রকল্পটি ২০২১ সাল থেকে বিশ্বব্যাংকের সহায়তায় বাস্তবায়িত হচ্ছে এবং এর মূল কার্যক্রম চলবে ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত। নতুন করে অনুমোদিত অতিরিক্ত অর্থায়নের বাস্তবায়নকাল নির্ধারণ করা হয়েছে ২০৩০ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত। চুক্তিতে নিজ নিজ পক্ষে স্বাক্ষর করেন অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) সচিব মো. শাহরিয়ার কাদের সিদ্দিকী এবং বাংলাদেশ ও ভুটানের জন্য বিশ্বব্যাংকের ডিভিশন ডিরেক্টর জ্যাঁ পেসমে।
ইআরডি থেকে প্রকাশিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, প্রকল্পটি অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের অধীন পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশন (পিকেএসএফ) বাস্তবায়ন করছে। এই প্রকল্পের মূল লক্ষ্য হলো নগর ও গ্রামীণ এলাকায় স্বল্প আয়ের যুবক-যুবতী এবং কোভিড-১৯ মহামারিতে ক্ষতিগ্রস্ত তরুণ জনগোষ্ঠীর আয় বাড়ানো ও টেকসই কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করা। এজন্য প্রয়োজনীয় আর্থিক ও সহায়ক সেবা প্রদান করা হচ্ছে।
চুক্তির শর্ত অনুযায়ী, আইডিএ’র দেওয়া ঋণের সুদের হার হবে ১.৫ শতাংশ। অব্যবহৃত ঋণের ওপর সর্বোচ্চ ০.৫০ শতাংশ কমিটমেন্ট ফি প্রযোজ্য হবে। ঋণের মেয়াদ নির্ধারণ করা হয়েছে ২৫ বছর, যার মধ্যে প্রথম পাঁচ বছর গ্রেস পিরিয়ড হিসেবে ধরা হয়েছে।
বিশ্বব্যাংক বর্তমানে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় বহুপক্ষীয় উন্নয়ন সহযোগী। অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়ন, প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার, অবকাঠামো নির্মাণ এবং জ্বালানি খাতসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ খাতে সংস্থাটির অর্থায়ন কার্যক্রম বিস্তৃত রয়েছে। নতুন এই অর্থায়ন বাংলাদেশ ও বিশ্বব্যাংকের দীর্ঘদিনের ঘনিষ্ঠ সহযোগিতারই আরেকটি উদাহরণ।

