সরকার তিনটি গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র—আশুগঞ্জ, সিদ্ধিরগঞ্জ ও হরিপুর—এর বিদ্যুতের ট্যারিফ পুনর্নির্ধারণ করেছে। এই সিদ্ধান্তে বিদ্যুৎ বিভাগের হিসাব অনুযায়ী বছরে সরকারের প্রায় ১১৯ কোটি ৬ লাখ টাকার সাশ্রয় হবে।
গতকাল মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটির বৈঠকে অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদের সভাপতিত্বে এই অনুমোদন দেওয়া হয়।
হরিপুর বিদ্যুৎকেন্দ্র:
হরিপুর ৪১২ মেগাওয়াট কম্বাইন্ড সাইকেল বিদ্যুৎকেন্দ্রের সমন্বিত ট্যারিফ পুনর্নির্ধারণের প্রস্তাব ইলেক্ট্রিসিটি জেনারেশন কোম্পানি অব বাংলাদেশ লিমিটেড (ইজিসিবি) থেকে আসে। বৈঠকে এই প্রস্তাব অনুমোদন করা হয়।
বিদ্যুৎ বিভাগের হিসাব অনুযায়ী, কিলোওয়াট/ঘণ্টার দাম ৪.৭৭৯৬ টাকা থেকে কমিয়ে ৪.৭৫৮৮ টাকা করা হয়েছে। নতুন ট্যারিফ আগস্ট ২০২৫ থেকে কার্যকর হবে।
এর ফলে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (বাবিউবো) বছরে প্রায় ৩৬ কোটি ৬৮ লাখ টাকা সাশ্রয় করতে পারবে। বিদ্যুৎকেন্দ্রটি বছরে ৩০৫.৩৩ কোটি ইউনিট বিদ্যুৎ উৎপাদন করছে এবং বাবিউবোকে বিদ্যুৎ ক্রয়ে বছরে প্রায় ১,৪৫৩ কোটি ১ লাখ ২০ হাজার টাকা দিতে হয়। চুক্তির বাকি ১৩ বছর ৮ মাস ৫ দিনে মোট খরচ দাঁড়াবে প্রায় ১৯,৮৬৪ কোটি ১২ লাখ ৭০ হাজার টাকা।
ইজিসিবি একটি সরকারি প্রতিষ্ঠান, যার ৯৫.৮০ শতাংশ মালিকানা বিদ্যুৎ বিভাগের এবং ৪.২০ শতাংশ বাবিউবোর। প্রতিষ্ঠানটির লভ্যাংশ সরকারের রাজস্ব হিসেবে যাবে।
সিদ্ধিরগঞ্জ বিদ্যুৎকেন্দ্র:
ইজিসিবি পরিচালিত সিদ্ধিরগঞ্জ ৩৩৫ মেগাওয়াট কম্বাইন্ড সাইকেল বিদ্যুৎকেন্দ্রের ট্যারিফও পুনর্নির্ধারণ করা হয়েছে। বিদ্যুৎ প্রতি কিলোওয়াট/ঘণ্টার দাম ৫.৫২১৬ টাকা থেকে কমিয়ে ৫.৪২০৪ টাকা করা হয়েছে। নতুন ট্যারিফ আগস্ট ২০২৫ থেকে কার্যকর হবে।
এর ফলে বাবিউবো বছরে প্রায় ৬৩ কোটি ১৩ লাখ টাকা সাশ্রয় করতে পারবে। বিদ্যুৎকেন্দ্রটি বছরে ২৪৮.২৭ কোটি ইউনিট বিদ্যুৎ সরবরাহ করছে এবং বিদ্যুৎ ক্রয়ে বাবিউবোকে বছরে প্রায় ১,৩৪৫ কোটি ৭০ লাখ ৭৩ হাজার টাকা দিতে হবে। অবশিষ্ট চুক্তির ১৬ বছর ১ মাস ৯ দিনে মোট খরচ দাঁড়াবে প্রায় ২১,৬৭৫ কোটি ৩ লাখ ৯০ হাজার টাকা।
আশুগঞ্জ বিদ্যুৎকেন্দ্র:
আশুগঞ্জ পাওয়ার স্টেশন কোম্পানি লিমিটেড (এপিএসসিএল) পরিচালিত ৪৫০ মেগাওয়াট কম্বাইন্ড সাইকেল বিদ্যুৎকেন্দ্রের ট্যারিফও কমানো হয়েছে। বিদ্যুৎ প্রতি কিলোওয়াট/ঘণ্টার দাম ৫.৭৮৪৪ টাকা থেকে কমিয়ে ৫.৭৬৩৪ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
নতুন ট্যারিফ কার্যকর হলে বাবিউবো বছরে প্রায় ১৯ কোটি ২৫ লাখ টাকা সাশ্রয় করবে। বিদ্যুৎ কেনার জন্য বাবিউবোকে বছরে প্রায় ১,৫৯৩ কোটি ১৭ লাখ টাকা দিতে হয়। বাকি চুক্তির ১৪ বছর ১১ মাস ২২ দিনে মোট খরচ দাঁড়াবে প্রায় ২৩,৮৮০ কোটি ২ লাখ টাকা।
এপিএসসিএলও একটি সরকারি প্রতিষ্ঠান এবং এর অর্জিত লভ্যাংশ সরকারের রাজস্ব হিসেবে যাবে। তিনটি বিদ্যুৎকেন্দ্রের ট্যারিফ পুনর্নির্ধারণ সরকারের বার্ষিক ব্যয় কমাতে প্রায় ১১৯ কোটি টাকা সাশ্রয় নিশ্চিত করবে।

