নির্বাচনকে সামনে রেখে গত দুই মাসে দেশে প্রবাসী আয় বা রেমিট্যান্স বেড়েছে এবং ফেব্রুয়ারিতেও সেই প্রবণতা অব্যাহত রয়েছে। চলতি মাসের প্রথম চার দিনে দেশে এসেছে ৫০ কোটি ৬০ লাখ ডলার, যা ৬ হাজার ১৭৩ কোটি টাকার সমপরিমাণ।
গত বছরের ফেব্রুয়ারির একই সময়ে দেশে প্রবাসী আয় এসেছিল ৪২ কোটি ২০ লাখ ডলার। সেক্ষেত্রে চলতি বছরের প্রথম চার দিনে প্রবাসী আয় বেড়েছে ১৯.৮ শতাংশ। এই হালনাগাদ তথ্য দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।
চলতি বছরের প্রথম মাস জানুয়ারিতে প্রবাসী আয় ছিল ৩১৭ কোটি ডলার, আর এর আগে ডিসেম্বরে তা ছিল ৩২২ কোটি ডলার। এর চেয়ে আগের পাঁচ মাসে দেশের প্রবাসী আয় তিন বিলিয়ন ডলারের কম ছিল। নভেম্বর মাসে সর্বোচ্চ ২৮৯ কোটি ডলার, জুলাই ও আগস্টে যথাক্রমে ২৪৮ ও ২৪২ কোটি ডলার, সেপ্টেম্বরে কিছু বেড়ে ২৬৯ কোটি ডলার, আর অক্টোবর মাসে কিছু কমে ২৫৬ কোটি ডলার প্রবাসী আয় এসেছে।
একাধিক ব্যাংক কর্মকর্তা জানান, সাধারণত দেশে দুই ঈদের আগে প্রবাসী আয় বেশি আসে। এবার নির্বাচনের প্রভাবে প্রবাসী আয় বাড়ছে। বিভিন্ন প্রার্থীর নির্বাচনের খরচ মেটানোর জন্য প্রবাসী অর্থ দেশে প্রবাহিত হচ্ছে। যেসব দেশে প্রবাসী বাংলাদেশির সংখ্যা বেশি, সেসব দেশ থেকেই বেশি রেমিট্যান্স আসছে। অনেক প্রার্থীর জন্য বিদেশে তহবিল সংগ্রহ করা হচ্ছে, যা প্রবাসী আয়ের নামে দেশে আসছে। নির্বাচনের আগ পর্যন্ত এই প্রবণতা অব্যাহত থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্যমতে, ২০২৫ সালে দেশে প্রবাসী আয় ছিল ৩,২৮২ কোটি ডলার, যা বর্তমান বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের প্রায় সমান। প্রবাসী আয়ের গতি ভালো থাকায় দেশের ডলারের তেমন সংকট দেখা যায়নি। ডলারের বাজার স্থিতিশীল রাখতে বছরের মধ্যে বিভিন্ন ব্যাংক থেকে ডলার কিনেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এর ফলে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বা মজুত বেড়েছে।

