চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) বিদেশি প্রতিষ্ঠান ডিপি ওয়ার্ল্ডকে ইজারা দেওয়ার প্রতিবাদে শুরু হওয়া টানা কর্মবিরতি বিভিন্ন খাতকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। সংশ্লিষ্টদের ধারণা, ক্ষতির পরিমাণ এখন হাজার কোটি টাকার ওপরে।
সূত্র জানায়, স্বাভাবিক সময়ে বন্দর থেকে প্রতিদিন দুই থেকে আড়াই হাজার কনটেইনার রপ্তানি হয় এবং প্রায় পাঁচ হাজার পণ্যভর্তি কনটেইনার খালাস করা হয়। কিন্তু অনির্দিষ্টকালের এই কর্মবিরতির কারণে বন্দর চত্বর, জেটিতে নোঙর করা জাহাজ এবং ২১টি বেসরকারি ডিপোতে আটকে রয়েছে প্রায় ১৩ হাজার টিইইউস রপ্তানি কনটেইনার। এই কনটেইনারে থাকা পণ্যের আনুমানিক মূল্য প্রায় ৬৬ কোটি মার্কিন ডলার, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৮ হাজার কোটি টাকা।
চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের হিসাব অনুযায়ী, গত বছর বন্দরটির বার্ষিক আয় ছিল ৫ হাজার ৪৬০ কোটি টাকা। এর অর্থ, প্রতিদিন গড়ে প্রায় ১৫ কোটি টাকা আয় হয়। একই সময়ে চট্টগ্রাম কাস্টম হাউস বছরে প্রায় ৭০ হাজার কোটি টাকা রাজস্ব আদায় করে, যা দৈনিক গড়ে প্রায় ১৯০ কোটি টাকা। কর্মবিরতির কারণে বন্দর ও কাস্টমসের রাজস্ব আদায় ৭০ শতাংশেরও বেশি কমে গেছে।
অচলাবস্থার প্রভাব পড়েছে শিপিং এজেন্ট, ফ্রেইট ফরোয়ার্ডার, সি অ্যান্ড এফ এজেন্ট, বন্দর ব্যবহারকারী ডিপো এবং পরিবহন খাতে। জেটিতে জাহাজ আসা-যাওয়া বন্ধ থাকায় শিপিং এজেন্টদের কার্যক্রম প্রায় ৮০ শতাংশ কমে গেছে। প্রতিটি জাহাজের অলস অবস্থার কারণে প্রতি দিন ২০–২২ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ দিতে হচ্ছে। ফ্রেইট ফরোয়ার্ডারদের কার্যক্রম প্রায় ৭০ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে। বেসরকারি ডিপোতে দৈনিক প্রায় ৮ কোটি টাকা আয় কমে প্রায় ৯০ শতাংশে নেমেছে।
সবচেয়ে বেশি ঝুঁকির মুখে পড়েছে রপ্তানিনির্ভর তৈরি পোশাক খাত। শিল্প সংশ্লিষ্টরা জানান, পণ্য সময়মতো জাহাজীকরণ না করতে পারলে বিদেশি ক্রেতারা মূল্যছাড় দাবি করতে পারেন বা ক্রয়াদেশ বাতিল করতে পারেন। এতে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি দেশের ব্যবসায়িক ভাবমূর্তিও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
বর্তমানে বন্দর জেটি ও ডিপোগুলোতে কনটেইনার জট ক্রমেই বাড়ছে। নতুন জাহাজ নোঙর করতে না পারায় সাগরে অপেক্ষমাণ জাহাজের সংখ্যা বেড়েছে। বিজিএমইএর সাবেক প্রথম সহসভাপতি ও এশিয়ান অ্যাপারেলস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এম. এ. সালাম বলেন, “টানা পাঁচ দিনের কর্মসূচি আমাদের বড় ক্ষতির মুখে ফেলেছে। প্রতিদিনের ক্ষতি হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়ে যাচ্ছে। রপ্তানি পণ্য সময়মতো ক্রেতার কাছে পৌঁছাতে না পারলে অপূরণীয় ক্ষতি হবে।”
ব্যবসায়ীরা সরকারের কাছে জরুরি পদক্ষেপের দাবি তুলেছেন, যদিও এ বিষয়ে বন্দর কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

