ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের আগে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার সঞ্চয় ফের শক্ত অবস্থানে ফিরেছে। প্রবাসী আয়ের ধারাবাহিক প্রবাহ এবং বাজার থেকে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ডলার কেনার ফলে দেশের রিজার্ভ আবারও ৩৪ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়েছে।
সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান এই তথ্য নিশ্চিত করেন।
বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ হিসাব অনুযায়ী, ৯ ফেব্রুয়ারি দিন শেষে দেশের গ্রস রিজার্ভ দাঁড়িয়েছে ৩৪ দশমিক ০৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। আর আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) বিপিএম–৬ পদ্ধতি অনুসারে রিজার্ভের পরিমাণ ২৯ দশমিক ৪৮ বিলিয়ন ডলার।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য বলছে, চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে প্রবাসীরা দেশে পাঠিয়েছেন ৩১৭ কোটি মার্কিন ডলার। ফেব্রুয়ারি মাসেও এই প্রবণতা অব্যাহত রয়েছে। মাসের প্রথম আট দিনেই দেশে এসেছে প্রায় এক বিলিয়ন ডলার বৈদেশিক মুদ্রা।
প্রবাসী আয়ের এই শক্ত প্রবাহের ফলে ব্যাংকিং খাতে ডলারের সরবরাহ চাহিদার তুলনায় বেশি হয়ে গেছে। এতে ডলারের দাম অস্বাভাবিকভাবে কমে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হলে বাজারে স্থিতিশীলতা ধরে রাখতে হস্তক্ষেপ করে বাংলাদেশ ব্যাংক।
সোমবার কেন্দ্রীয় ব্যাংক মাল্টিপল প্রাইস অকশন (এমপিএ) পদ্ধতিতে ১৯টি বাণিজ্যিক ব্যাংক থেকে ২০ কোটি ৯০ লাখ মার্কিন ডলার কিনেছে। এ সময় ডলারের এক্সচেঞ্জ রেট ও কাট-অফ রেট উভয়ই নির্ধারিত ছিল ১২২ টাকা ৩০ পয়সা।
সব মিলিয়ে চলতি ২০২৫–২৬ অর্থবছরে এখন পর্যন্ত কেন্দ্রীয় ব্যাংক বাজার থেকে মোট ৪৭৩ কোটি মার্কিন ডলার বা ৪ দশমিক ৭৩ বিলিয়ন ডলার কিনেছে।
বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্র জানায়, ২০২২ সাল থেকে ডলার বাজারে অস্থিরতা শুরু হলে রিজার্ভ থেকে ব্যাপক পরিমাণ ডলার বিক্রি করতে হয়। গত তিন অর্থবছরে কেন্দ্রীয় ব্যাংক প্রায় ৩৪ বিলিয়ন ডলার বিক্রি করেছে। একই সময়ে ব্যাংকগুলোর কাছ থেকে কেনা হয়েছিল মাত্র এক বিলিয়ন ডলারের মতো।
বর্তমান সরকার অর্থপাচার রোধে কঠোর অবস্থান নেওয়ায় রপ্তানি আয় ও প্রবাসী আয়—উভয় ক্ষেত্রেই ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে। সরবরাহ বাড়লেও চাহিদা তুলনামূলক কম থাকায় স্বাভাবিকভাবে ডলারের দাম কমে যাওয়ার কথা। তবে বাজারে অস্থিরতা ঠেকাতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক নিজ উদ্যোগে ডলার কিনে ভারসাম্য বজায় রাখছে।
এ বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান বলেন, বাজারে এখন ডলারের সরবরাহ চাহিদার চেয়ে বেশি। যদি ডলারের দাম অতিরিক্ত কমে যায়, তাহলে প্রবাসী আয় ও রপ্তানি খাত ক্ষতির মুখে পড়তে পারে। সে কারণেই কেন্দ্রীয় ব্যাংক বাজার থেকে ডলার কিনছে, যার ফলে রিজার্ভও বাড়ছে।

