সচিবালয়ের বাইরে থাকা দপ্তর, অধিদপ্তর ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের সব কর্মচারী সংগঠনের সমন্বয়ে গঠিত দাবি আদায় ঐক্য পরিষদ দেশের সরকারি চাকরিজীবীদের মধ্যে সর্ববৃহৎ সংগঠন। এই জোটের সঙ্গে শিক্ষকসহ প্রায় ২২ লাখ সরকারি কর্মচারী সম্পৃক্ত।
সরকারি চাকরিজীবীরা পে স্কেল বাড়ানোর দাবিতে দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলন চালিয়ে আসছেন। অন্তর্বর্তী সরকারের সময় থেকে আন্দোলন শুরু হলেও, নির্বাচনের আগে তাদের দাবি বাস্তবায়ন সম্ভব হয়নি। সেসময় সরকারের পক্ষ থেকে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছিল, তবে তা কার্যকর করতে পারেনি। অন্তর্বর্তী সরকার জানিয়েছিল, নতুন নির্বাচিত সরকার এই প্রক্রিয়া এগিয়ে নেবে।
গত বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের পর নতুন সরকার গঠনের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। এর মধ্যেই সরকারি চাকরিজীবীরা পে স্কেল বাস্তবায়নের নতুন পরিকল্পনা হাতে নিয়েছেন। তারা নতুন সরকার প্রধানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে তাদের দাবিগুলো তুলে ধরবেন।
গত শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) দাবি আদায় ঐক্য পরিষদের মুখ্য সমন্বয়ক ওয়ারেছ আলী গণমাধ্যমকে বলেন, “নবম পে স্কেল বাস্তবায়নের জন্য আমরা সংগঠনের পক্ষ থেকে তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করব। আমরা আশা করি, তিনি আমাদের দাবিগুলো ফলপ্রসূভাবে বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত নেবেন।”
ওয়ারেছ আলীর নেতৃত্বে ইতোমধ্যেই সংগঠনের পক্ষ থেকে তারেক রহমানের দপ্তরে একটি আবেদনপত্র জমা দেওয়া হয়েছে। আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ঐক্য পরিষদ সচিবালয়ের বাইরে থাকা দপ্তর, অধিদপ্তর ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের সকল কর্মচারী সংগঠনের সমন্বয়ে গঠিত এবং দেশের ২২ লাখ সরকারি কর্মকর্তা ও কর্মচারী এতে যুক্ত।
আবেদনে আরও বলা হয়েছে, ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ, শহীদ ও আহতদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে সংগঠন ২০১৫ সালের বৈষম্যমূলক পে স্কেল পুনর্গঠনসহ নানা কর্মসূচি পালন করে আসছে। বর্তমান বাজারমূল্যের ঊর্ধ্বমুখী মূল্যস্ফীতি, সেবা খাতের ব্যয় বৃদ্ধি এবং পরিবারের ভরণ-পোষণের ব্যয়ের কারণে ১১ থেকে ২০ গ্রেডভুক্ত সরকারি কর্মচারীরা মানবেতর জীবনযাপন করছেন। তাই তারা ৭টি মূল দাবি সরকারের নজরে তুলে ধরতে চান।
৭ মূল দাবি:
-
৪:৪ অনুপাতে ১২ ধাপে সর্বনিম্ন ৩৫ হাজার টাকায় বৈষম্যহীন নবম পে স্কেল বাস্তবায়ন। মূলবেতন শেষ ধাপে উন্নীত হওয়া কর্মচারীদের বার্ষিক বেতন বৃদ্ধি নিশ্চিত করা।
-
২০১৫ সালে গেজেটে প্রত্যাহারকৃত তিনটি টাইম স্কেল পুনর্বহাল, সিলেকশন গ্রেড ও বেতন জ্যেষ্ঠতা পুনঃস্থাপন। সব স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানে গ্রাচুইটি-সহ পেনশন প্রবর্তন।
-
ব্লক পোস্টসহ সকল পদে পদোন্নতি, অধঃস্তন আদালতের কর্মচারীদের বিচার বিভাগীয় কর্মচারী হিসেবে গণ্য, টেকনিক্যাল পদে কর্মরতদের যথাযথ মর্যাদা প্রদান।
-
বেতন স্কেল শেষ ধাপে উন্নীত হওয়ায় বার্ষিক বেতন বৃদ্ধি বাধাগ্রস্ত হওয়ায় তা অব্যাহত রাখা।
-
বাজারমূল্য ও মুদ্রাস্ফীতির প্রভাব বিবেচনা করে সব ভাতা পুনর্নির্ধারণ এবং রেশন ব্যবস্থার সংস্কার। চাকরিতে প্রবেশ সীমা ৩৫ বছর ও অবসরের বয়স ৬২ বছর নির্ধারণ।
-
উন্নয়ন প্রকল্প থেকে রাজস্ব খাতে স্থানান্তরিত পদধারীদের জন্য বৈষম্যমূলক আদেশ বাতিল।
-
শিক্ষার্থী ও কর্মচারীদের দাবিসমূহ সম্মানসহ প্রয়োগের জন্য সাক্ষাৎ ও সময় নির্ধারণ।
দাবি আদায় ঐক্য পরিষদ তাদের পক্ষ থেকে এই সাত দফা বাস্তবায়নের জন্য নতুন সরকারের সঙ্গে সাক্ষাতের ব্যবস্থা চেয়েছে।

