চলতি ফেব্রুয়ারি মাসে প্রবাসী আয়ের ধারায় ইতিবাচক প্রবণতা স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। মাসের মাঝামাঝি সময়ে এসে দেখা যাচ্ছে, বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের অন্যতম প্রধান উৎস রেমিট্যান্স প্রবাহ গত বছরের তুলনায় বেড়েছে।
১০ থেকে ১৪ ফেব্রুয়ারি—মাত্র পাঁচ দিনেই দেশে এসেছে ২২ কোটি ২০ লাখ মার্কিন ডলার। অর্থনীতির জন্য এটি নিঃসন্দেহে একটি বড় স্বস্তির খবর।
রবিবার (১৫ ফেব্রুয়ারি) বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস) এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, সরকারি হিসাব অনুযায়ী ১ থেকে ১৪ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত দেশে মোট রেমিট্যান্স এসেছে ১ হাজার ৩৫৪ মিলিয়ন মার্কিন ডলার।
গত বছরের একই সময়ে (১ হাজার ৩০৪ মিলিয়ন মার্কিন ডলার) যে পরিমাণ অর্থ দেশে এসেছিল, তার তুলনায় এ বছর প্রবাহ বেড়েছে ৩.৮ শতাংশ। অর্থাৎ ফেব্রুয়ারির প্রথম দুই সপ্তাহেই মাসভিত্তিক প্রবৃদ্ধির ইঙ্গিত স্পষ্ট।
অর্থনীতিবিদদের মতে, বছরের শুরুতেই এমন ধারাবাহিক বৃদ্ধি দেশের বৈদেশিক লেনদেন ভারসাম্য রক্ষায় ইতিবাচক ভূমিকা রাখে।
চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের শুরু থেকে ১৪ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত (জুলাই, ২০২৫- ১৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬) দেশে মোট রেমিট্যান্স এসেছে ২০ হাজার ৭৮৭ মিলিয়ন মার্কিন ডলার।
অন্যদিকে আগের অর্থবছরের একই সময়ে (জুলাই, ২০২৪- ১৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫) রেমিট্যান্স প্রবাহ ছিল ১৭ হাজার ২৬৬ মিলিয়ন মার্কিন ডলার।
এই হিসাবে দেখা যাচ্ছে, ২০২৫-২৬ অর্থবছরের ১৪ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত প্রবাসী আয় প্রবাহে ২০.৪ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জিত হয়েছে। অর্থাৎ শুধু মাসিক নয়, অর্থবছরজুড়েও প্রবৃদ্ধির ধারা বজায় রয়েছে।
বাংলাদেশের অর্থনীতিতে রেমিট্যান্স একটি প্রধান শক্তি। প্রবাসে কর্মরত লাখো বাংলাদেশির পাঠানো অর্থ শুধু তাঁদের পরিবারের জীবনমান উন্নত করে না, বরং দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ শক্তিশালী করতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
রেমিট্যান্স বাড়লে—
-
ডলারের সরবরাহ বৃদ্ধি পায়
-
আমদানি ব্যয় মেটাতে সুবিধা হয়
-
বৈদেশিক লেনদেনের চাপ কমে
-
রিজার্ভে স্থিতিশীলতা আসে
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, ২০.৪ শতাংশ প্রবৃদ্ধি দেশের সামগ্রিক অর্থনীতির জন্য ইতিবাচক বার্তা বহন করছে।
বিশ্বের বিভিন্ন দেশে কর্মরত বাংলাদেশিরা প্রতিনিয়ত তাঁদের উপার্জনের একটি বড় অংশ দেশে পাঠান। বৈশ্বিক অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ থাকা সত্ত্বেও তাঁদের এই ধারাবাহিক অবদান দেশের অর্থনীতিকে গতিশীল রাখছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রবাসী আয়ের প্রবাহ আরও বাড়াতে ব্যাংকিং চ্যানেল সহজ করা, প্রণোদনা অব্যাহত রাখা এবং হুন্ডি নিরুৎসাহিত করা জরুরি।
ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধের পরিসংখ্যান বলছে, মাস শেষে রেমিট্যান্সের পরিমাণ আরও বাড়তে পারে। অর্থবছরজুড়ে ইতিবাচক প্রবৃদ্ধি ধরে রাখতে পারলে তা রিজার্ভ স্থিতিশীলতা ও সামষ্টিক অর্থনীতির ভারসাম্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
সব মিলিয়ে বলা যায়, চলতি ফেব্রুয়ারিতে রেমিট্যান্স প্রবাহ অর্থনীতির জন্য আশাব্যঞ্জক বার্তা নিয়ে এসেছে। এখন নজর থাকবে—এই ধারা কতটা দীর্ঘস্থায়ী হয়।

