দেশের বেসরকারি শিক্ষা খাতে আর্থিক শৃঙ্খলা আনতে বড় ধরনের উদ্যোগ নিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের আয়-ব্যয়ে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে জারি করা হয়েছে নতুন নীতিমালা।
‘বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের আর্থিক স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি-সংক্রান্ত নীতিমালা, ২০২৬’ শিরোনামের এই প্রজ্ঞাপনে আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে কঠোর নিয়ন্ত্রণের আওতায় আনা হয়েছে। গত ৯ ফেব্রুয়ারি মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সচিব রেহেনা পারভীন এতে সই করেন। সোমবার শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে এটি প্রকাশ করা হয়।
নতুন নীতিমালায় প্রতিষ্ঠানের প্রধান ও পরিচালনা কমিটির সভাপতির ওপর যৌথ দায়বদ্ধতা আরোপ করা হয়েছে। কোনো অনিয়ম বা আর্থিক ব্যত্যয় প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের এমপিও স্থগিত বা বাতিল করা হতে পারে। প্রয়োজনে পরিচালনা কমিটি ভেঙে দেওয়ারও বিধান রাখা হয়েছে। এর ফলে অর্থ ব্যবস্থাপনায় ব্যক্তিগত দায় এড়ানোর সুযোগ কমে আসবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
নীতিমালার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো সম্পূর্ণ ক্যাশলেস লেনদেন ব্যবস্থা চালু করা। টিউশন ফি, ভর্তি ফি, সেশন চার্জসহ সব ধরনের আয় তপশিলি ব্যাংক বা সোনালি পেমেন্ট গেটওয়ে (এসপিজি) এর মাধ্যমে গ্রহণ করতে হবে। অনলাইন পেমেন্ট ব্যবস্থা চালু হওয়ার পর কোনো অবস্থাতেই সরাসরি নগদ অর্থ নেওয়া যাবে না। আদায় করা অর্থ দুই কার্যদিবসের মধ্যে সংশ্লিষ্ট ব্যাংক হিসাবে জমা দিতে হবে। এ ছাড়া শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পূর্বানুমতি ছাড়া নতুন কোনো খাতে ফি আদায় সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এতে অতিরিক্ত বা অঘোষিত ফি নেওয়ার প্রবণতা কমবে বলে আশা করা হচ্ছে।
নীতিমালায় মানবিক বিষয়ও গুরুত্ব পেয়েছে। চিকিৎসা, দুর্ঘটনা বা প্রাকৃতিক দুর্যোগের মতো জরুরি পরিস্থিতিতে শিক্ষক ও কর্মচারীরা বিশেষ আর্থিক সহায়তা পাবেন। পরিচালনা কমিটির অনুমোদন সাপেক্ষে তারা মূল বেতনের সর্বোচ্চ ছয় মাসের সমপরিমাণ অর্থ অগ্রিম বা ঋণ হিসেবে নিতে পারবেন। পরবর্তীতে মাসিক কিস্তিতে তা সমন্বয় করা হবে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এই পদক্ষেপ বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের আর্থিক ব্যবস্থাপনায় নতুন মানদণ্ড স্থাপন করবে বলে মনে করা হচ্ছে।

