রমজান সামনে রেখে নিত্যপণ্যের বাজারে তৈরি হয়েছে দ্বিমুখী চিত্র। এক বছরের ব্যবধানে কিছু পণ্যের দাম কমেছে। আবার বেশ কয়েকটির ক্ষেত্রে বেড়েছে উল্লেখযোগ্য হারে। ফলে সার্বিক স্বস্তি ফিরছে না নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারে। বরং নতুন করে বাড়ছে অস্বস্তি ও অনিশ্চয়তা।
রাজধানীর একাধিক খুচরা বাজার ঘুরে দেখা গেছে, ক্রেতাদের মুখে উদ্বেগের ছাপ স্পষ্ট। দৈনন্দিন প্রয়োজনীয় পণ্য কিনতেই তাদের হিসাব মেলাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। কেউ বলছেন, গত বছরের তুলনায় কিছু পণ্যে স্বস্তি থাকলেও বেশ কয়েকটি অপরিহার্য পণ্যে অস্বাভাবিক বৃদ্ধি সামগ্রিক ব্যয় বাড়িয়ে দিচ্ছে। এতে মাসিক বাজেট ভেঙে পড়ছে অনেক পরিবারের।
পেছনে ফিরে তাকালে দেখা যায়, আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে দ্রব্যমূল্যের চাপে সাধারণ মানুষকে দীর্ঘ সময় কাটাতে হয়েছে। পরবর্তীতে অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে সেই চাপ কিছুটা কমেছিল। বিশেষ করে গত বছরের রমজানে অতি জরুরি কয়েকটি পণ্যের দাম সহনীয় পর্যায়ে নেমে আসায় স্বস্তি ফিরেছিল বাজারে। কিন্তু এবার সরকার পরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে রমজানের আগমুহূর্তে বাজার আবার অস্থির হয়ে উঠেছে।
খুচরা ব্যবসায়ীরা বলছেন, সাম্প্রতিক বন্দর ধর্মঘটের কারণে সময়মতো পণ্য খালাস সম্ভব হয়নি। পাশাপাশি নির্বাচনী ছুটির প্রভাবেও চাহিদা বেড়েছে। এতে সরবরাহে সাময়িক ঘাটতি তৈরি হয়েছে। তাদের দাবি, এ ঘাটতির সুযোগে পাইকারি পর্যায়ে দাম বেড়েছে, যার প্রভাব পড়ছে খুচরা বাজারে।
অন্যদিকে সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, রমজানকে সামনে রেখে প্রয়োজনীয় প্রায় সব ধরনের নিত্যপণ্যের পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে। সরবরাহে বড় ধরনের কোনো সংকট নেই। তাই অযৌক্তিকভাবে দাম বাড়ার সুযোগ নেই। তবে বাজারে ঘুরপাক খাচ্ছে আরেকটি প্রশ্ন। সরবরাহ ঘাটতির আড়ালে কোনো অসাধু চক্র বা সিন্ডিকেট কি দাম নিয়ন্ত্রণ করছে? বাড়তি চাহিদাকে পুঁজি করে কৃত্রিম সংকট তৈরি করা হচ্ছে কি না, তা নিয়ে ভোক্তাদের মধ্যে সন্দেহ বাড়ছে।

রোজার বাজারে চাহিদা–জোগানের চিত্র:
রমজান ঘিরে আমদানি নির্ভর খাদ্যপণ্যের বাজারে প্রতি বছরই বাড়তি চাপ তৈরি হয়। বিশেষ করে ভোজ্যতেল, চিনি, ছোলা, মসুর ডাল, এঙ্কর ডাল, পেঁয়াজ, আটা ও খেজুরের চাহিদা এ সময় বেড়ে যায় কয়েক গুণ। এ কারণে আগেভাগেই আমদানি, মজুত ও সরবরাহ পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে।
বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, শুধু রমজান মাসেই সয়াবিন তেলের চাহিদা প্রায় ৩ লাখ টন। একই সময়ে চিনির চাহিদাও ৩ লাখ টন। ছোলার চাহিদা ১ লাখ ৫০ হাজার থেকে ২ লাখ টনের মধ্যে। মসুর ডালের প্রয়োজন ২ লাখ ৫ হাজার টন। পেঁয়াজের চাহিদা দাঁড়ায় প্রায় ৫ লাখ টন। আর খেজুরের চাহিদা ৬০ থেকে ৮০ হাজার টন পর্যন্ত পৌঁছায়। এই পরিসংখ্যান থেকেই স্পষ্ট, রমজান শুধু ধর্মীয় নয়, অর্থনৈতিক দিক থেকেও একটি উচ্চচাপের সময়। আমদানি, গুদামজাত ও বিতরণ ব্যবস্থায় সামান্য ব্যত্যয়ও বাজারে প্রভাব ফেলতে পারে।

তবে সরবরাহ ঘাটতির আশঙ্কা উড়িয়ে দিয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড। জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)–এর তথ্য অনুযায়ী, প্রায় প্রতিটি পণ্যের ক্ষেত্রেই ২৫ শতাংশ থেকে ৭৫ শতাংশ পর্যন্ত অতিরিক্ত মজুত রয়েছে। অর্থাৎ বিদ্যমান চাহিদা মেটানোর মতো পর্যাপ্ত পণ্য দেশে রয়েছে।
যদি বাস্তবেই মজুত পরিস্থিতি স্বস্তিদায়ক হয়, তবে বাজারে অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির যৌক্তিকতা কমে যায়। তখন প্রশ্ন ওঠে সরবরাহ শৃঙ্খল, পাইকারি পর্যায়ের মূল্য নির্ধারণ ও বাজার তদারকি নিয়ে। রমজান সামনে রেখে এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো—পর্যাপ্ত মজুত থাকা সত্ত্বেও যেন কৃত্রিম সংকট তৈরি না হয়। কার্যকর নজরদারি ও স্বচ্ছ সরবরাহ ব্যবস্থাই পারে বাজারকে স্থিতিশীল রাখতে।
বাজারে নিত্যপণ্যের মূল্য তালিকা:
রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা গেছে, ছোলার দাম কিছুটা কমেছে। গত বছরের তুলনায় কেজিতে ১০ থেকে ১৫ টাকা কমে বর্তমানে বিক্রি হচ্ছে ৯০ টাকায়। এতে এ পণ্যে কিছুটা স্বস্তি মিলেছে ক্রেতাদের।
কিন্তু মসুর ডাল ও এঙ্কর ডালের ক্ষেত্রে চিত্র ভিন্ন। গত বছর রোজার একদিন আগে, অর্থাৎ ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৫ তারিখে ছোট দানার মসুর ডাল প্রতি কেজি ১৩৫ টাকায় বিক্রি হয়েছিল। চলতি বছরের ১৭ ফেব্রুয়ারি বাজারে একই ডাল বিক্রি হচ্ছে ১৪০ থেকে ১৫০ টাকায়। অর্থাৎ কেজিতে বেড়েছে ৫ থেকে ১৫ টাকা।
মোটা দানার মসুর ডালের দাম আরও বেশি বেড়েছে। গত বছর যা ছিল ৮০ টাকা, এখন তা ১০০ টাকায় উঠেছে। একইভাবে এঙ্কর ডাল গত বছর বিক্রি হয়েছিল ৭০ টাকা কেজি দরে। এ বছর তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১১০ থেকে ১২০ টাকায়। অর্থাৎ এ পণ্যে এক বছরে বৃদ্ধি হয়েছে ৪০ থেকে ৫০ টাকা পর্যন্ত।

রোজার ঠিক আগ মুহূর্তে আটা, সয়াবিন তেল ও পেঁয়াজের দামও ঊর্ধ্বমুখী। গত বছর রমজানের আগে দুই কেজির প্যাকেট আটা বিক্রি হয়েছিল ১০০ টাকায়। এ বছর তা বিক্রি হচ্ছে ১২০ টাকায়। সয়াবিন তেলের দামও বেড়েছে। প্রতি লিটার ১৭৫ টাকা থেকে বেড়ে হয়েছে ১৯৫ টাকা। পেঁয়াজের ক্ষেত্রেও একই প্রবণতা। গত বছর রোজার একদিন আগে ৪০ থেকে ৪৫ টাকায় বিক্রি হওয়া পেঁয়াজ এখন রোজা শুরুর আগেই ৬০ টাকায় পৌঁছেছে।
তবে সব পণ্যে ঊর্ধ্বগতি নেই। আলুর দাম গত বছরের মতোই রয়েছে। প্রতি কেজি ২০ থেকে ২৫ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে। সামগ্রিকভাবে দেখা যাচ্ছে, কিছু পণ্যে আংশিক স্বস্তি থাকলেও অধিকাংশ অপরিহার্য পণ্যে দামের চাপ বেড়েছে। এতে রমজান সামনে রেখে বাজারে স্বস্তির বদলে বাড়ছে উদ্বেগ।
বছরের ব্যবধানে যেসব পণ্যে স্বস্তি:
রাজধানীর খুচরা বাজারে দেখা গেছে, গত বছর রোজার একদিন আগে চিনি বিক্রি হয়েছিল প্রতি কেজি ১২০ থেকে ১৪৫ টাকায়। চলতি বছরে একই সময়ে তা পাওয়া যাচ্ছে ১০০ থেকে ১১০ টাকায়। অর্থাৎ কেজিতে কমেছে সর্বনিম্ন ১০ টাকা, সর্বোচ্চ ৪৫ টাকা পর্যন্ত।
দেশি রসুনের দামও কমেছে। গত বছর প্রতি কেজি ১৫০ টাকা থাকলেও এখন তা ১২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। একইভাবে ডিমের বাজারেও কিছুটা স্বস্তি রয়েছে। ডজনপ্রতি দাম ১৪০ টাকা থেকে কমে দাঁড়িয়েছে ১২০ টাকায়। ব্রয়লার মুরগির দামও বছরের ব্যবধানে কিছুটা নিম্নমুখী রয়েছে, যদিও বাজারভেদে দামে পার্থক্য দেখা যাচ্ছে।
সামগ্রিক চিত্র বলছে, একদিকে ডাল, তেল ও পেঁয়াজে চাপ বাড়ছে। অন্যদিকে চিনি, রসুন ও ডিমে কিছুটা স্বস্তি মিলছে। ফলে রমজানকে সামনে রেখে বাজারে তৈরি হয়েছে দ্বৈত প্রবণতা। ভোক্তাদের জন্য এটি পুরোপুরি স্বস্তির নয়, আবার পুরোপুরি সংকটেরও নয়।
বাজারে গুরুত্বপূর্ণ কাঁচাপণ্যের দাম কত:
রমজান সামনে এলেই সবজি বাজারে দামের অস্বাভাবিক ওঠানামা নতুন কিছু নয়। বিশেষ করে বেগুন, লেবু ও কাঁচামরিচ—ইফতার টেবিলের অপরিহার্য এই তিন পণ্যে প্রায় প্রতি বছরই বড় পরিবর্তন দেখা যায়। চলতি বছরও তার ব্যতিক্রম হয়নি। রাজধানীর বিভিন্ন বাজারে গোল কালো বেগুন বিক্রি হচ্ছে প্রতি কেজি ৮০ টাকায়। গত বছর রমজান শুরুর একদিন আগে একই বেগুনের দাম ছিল ৭০ টাকা। অর্থাৎ কেজিতে বেড়েছে ১০ টাকা। কালো লম্বা বেগুন ও সাদা গোল বেগুনের দামও ঊর্ধ্বমুখী। গত বছর ৫০ টাকায় পাওয়া গেলেও এবার তা ৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
লেবুর বাজারে আবারও দেখা গেছে হঠাৎ লাফ। কয়েকদিনের ব্যবধানে হালিপ্রতি দাম ২০ টাকা থেকে বেড়ে ১০০ টাকায় পৌঁছেছে। বর্তমানে বড় সাইজের লেবুর হালি বিক্রি হচ্ছে ৮০ থেকে ১০০ টাকায়। গত বছরও রমজানের একদিন আগে একই দরে লেবু বিক্রি হয়েছিল। অর্থাৎ লেবুর বাজারে বার্ষিক তুলনায় স্থিতি থাকলেও রোজার আগমুহূর্তে আকস্মিক উল্লম্ফন অব্যাহত রয়েছে।
কাঁচামরিচের দাম আরও বেশি বেড়েছে। গত বছর রমজানের শুরুতে প্রতি কেজি ৮০ থেকে ১০০ টাকায় বিক্রি হয়েছিল। বর্তমানে রাজধানীর বাজারে তা ১৪০ থেকে ১৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। অর্থাৎ কেজিতে বেড়েছে সর্বনিম্ন ৪০ টাকা, সর্বোচ্চ ৮০ টাকা পর্যন্ত।
বাজার পরিস্থিতি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ক্রেতারা। মুগদা বাজারে সবজি কিনতে আসা মোজাম্মেল মিয়া বলেন, ভোটের সময় ব্যবসায়ীরা গাড়ি না আসার অজুহাত দিয়ে দাম বাড়িয়েছিল। এখন সেই সমস্যা নেই। তারপরও কেন দাম বাড়ছে, তা বোধগম্য নয়। তাঁর অভিযোগ, প্রতি বছর রমজানের আগে ব্যবসায়ীরা দাম বাড়ানোর চেষ্টা করে। বিষয়টি সবার জানা থাকলেও সময়মতো কার্যকর পদক্ষেপ দেখা যায় না।
সার্বিক চিত্র বলছে, রমজান ঘিরে চাহিদা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বাজারে মানসিক চাপও তৈরি হচ্ছে। সরবরাহে বড় ঘাটতির প্রমাণ না থাকলেও খুচরা পর্যায়ে দামের উল্লম্ফন ভোক্তাদের মধ্যে প্রশ্ন তুলছে—বাজার কি স্বাভাবিক নিয়মে চলছে, নাকি আগাম প্রত্যাশাকেই পুঁজি করা হচ্ছে?
বেড়েছে মুরগি-গরুর মাংসেও দাম:
এক বছর আগে প্রতি কেজি ২০০ টাকায় বিক্রি হওয়া ব্রয়লার মুরগি বর্তমানে একই দামে রয়েছে। তবে উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, মাত্র দুই সপ্তাহ আগেও এ মুরগি ১৬০ থেকে ১৭০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়েছিল। অর্থাৎ স্বল্প সময়ে দাম বেড়ে আবার ২০০ টাকায় স্থির হয়েছে।
সোনালী মুরগির ক্ষেত্রে বছরের ব্যবধানে বৃদ্ধি স্পষ্ট। গত বছর ৩০০ থেকে ৩২০ টাকায় বিক্রি হলেও এবার রোজা শুরুর আগেই তা ৩২০ থেকে ৩৪০ টাকায় পৌঁছেছে। অর্থাৎ কেজিতে বেড়েছে সর্বোচ্চ ২০ টাকা পর্যন্ত। গরুর মাংসের বাজারেও ঊর্ধ্বগতি রয়েছে। বর্তমানে প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ৮০০ থেকে ৮৫০ টাকায়। গত বছর রোজার আগে একই পণ্য পাওয়া যেত ৭৫০ থেকে ৮০০ টাকায়। অর্থাৎ কেজিতে বেড়েছে ৫০ টাকা পর্যন্ত। তবে খাসির মাংসে বড় পরিবর্তন নেই। গত বছরের মতোই প্রতি কেজি ১২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
সব মিলিয়ে দেখা যাচ্ছে, ব্রয়লার মুরগিতে স্থিতি থাকলেও সোনালী ও গরুর মাংসে বেড়েছে দাম। খাসির মাংস অপরিবর্তিত রয়েছে। রমজান সামনে রেখে বাজারে চাহিদা বাড়ার প্রভাব এখন স্পষ্টভাবে প্রতিফলিত হচ্ছে মাংসের দামে।
শুল্ক হ্রাসের পরও খেজুরের দাম উর্ধ্বমুখী:
রমজান ঘিরে খেজুরের বাজারেও দেখা যাচ্ছে স্পষ্ট মূল্যবৃদ্ধি। যদিও ভোক্তাদের স্বস্তি দিতে গত বছরের মতো এবারও শুল্কহার ২৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১৫ শতাংশে নামানো হয়েছে, তবুও খুচরা বাজারে দাম কমেনি। বরং বেশিরভাগ জনপ্রিয় খেজুরেই বেড়েছে দর। সবচেয়ে বেশি বিক্রি হওয়া জাহিদী খেজুর বর্তমানে প্রতি কেজি ২৮০ থেকে ৩০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। গত বছর রোজা শুরুর একদিন আগে একই খেজুর ২৩০ থেকে ২৫০ টাকায় পাওয়া গিয়েছিল। অর্থাৎ বছরের ব্যবধানে কেজিতে বেড়েছে সর্বোচ্চ ৫০ টাকা।
বাজারে সবচেয়ে কম দামে মিলছে বস্তা খেজুর। প্রতি কেজি ২২০ থেকে ২৫০ টাকার মধ্যে বিক্রি হচ্ছে। এ ছাড়া দাবাস ৫৫০ থেকে ৫৭০ টাকা, বড়ই ৪৮০ থেকে ৫০০ টাকা, কালমি ৭০০ টাকা, সুক্কারি ৮০০ টাকা, মাবরুম ৮৫০ থেকে ১২০০ টাকা, মরিয়ম ১১০০ থেকে ১৪০০ টাকা এবং মেডজুল ১২০০ থেকে ১৫০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এসব খেজুরের দামও আগের তুলনায় কিছুটা বেড়েছে।
কারওয়ান বাজারের এক পাইকারি ও খুচরা বিক্রেতা আরাফাত হোসেন বলেন, হঠাৎ করেই জাহিদী খেজুরের ১০ কেজির প্যাকেটে ৬০০ টাকা দাম বেড়েছে। দাবাসে বেড়েছে ৪০০ টাকা। তাঁর দাবি, বন্দরে খেজুর আটকে থাকায় সরবরাহে চাপ তৈরি হয়েছে। গত এক সপ্তাহে প্রায় সব ধরনের খেজুরের দামই বেড়েছে।
বাজার নিয়ন্ত্রণে করণীয় কী:
রমজান ঘিরে বাজার পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এখনই কার্যকর পদক্ষেপ প্রয়োজন বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। তাদের মতে, জাতীয় নির্বাচনের প্রভাবে বাজার ব্যবস্থায় যে ব্যত্যয় তৈরি হয়েছে, তা দ্রুত ঠিক না করলে রমজানে ভোক্তাদের বাড়তি মূল্য গুনতে হতে পারে। অর্থনীতি বিশ্লেষণে যুক্তরা বলছেন, চাহিদা ও সরবরাহের মধ্যে বড় অসামঞ্জস্যের প্রমাণ নেই। তবুও বাজারে অস্থিরতা দেখা যাচ্ছে মূলত বিতরণ ও বাজারজাতকরণ পর্যায়ের সমস্যার কারণে।
সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি)–এর সম্মাননীয় ফেলো মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, রোজার পণ্যের উৎপাদন ও আমদানি চাহিদার তুলনায় সামঞ্জস্যপূর্ণ রয়েছে। তবে নির্বাচনের কারণে বাজারজাতকরণে কিছু ব্যত্যয় ঘটেছে। তাঁর মতে, আগামী কয়েকদিন কারখানা ও গুদাম থেকে রোজার পণ্য সরবরাহে বিশেষ নজর দিলে মূল্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়বে না।
অন্যদিকে কনজুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব)–এর সভাপতি এএইচএম সফিকুজ্জামান মনে করেন, সরবরাহ ব্যবস্থা ঠিক রাখা এবং বাজার মনিটরিং জোরদার না করলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ কঠিন হবে। তিনি বলেন, রমজানকে কেন্দ্র করে প্রতি বছরই ফল ও নিত্যপণ্যের চাহিদা বাড়ে। কিন্তু চাহিদা বৃদ্ধির সঙ্গে তাল মিলিয়ে সরবরাহ ব্যবস্থাপনা ও তদারকি না হলে অযৌক্তিক মূল্যবৃদ্ধি ঘটে।
তাঁর মতে, আমদানি সহজীকরণ, পর্যাপ্ত মজুত নিশ্চিত করা এবং পাইকারি থেকে খুচরা পর্যায় পর্যন্ত নজরদারি বাড়ানো জরুরি। অন্যথায় বাজারে কৃত্রিম সংকট বা অতিরিক্ত মূল্যবৃদ্ধির ঝুঁকি থেকেই যাবে।
সব মিলিয়ে রমজানের বাজার স্থিতিশীল রাখতে এখনই সমন্বিত উদ্যোগ দরকার। সরবরাহ, বিতরণ ও তদারকির ঘাটতি দূর করা গেলে ভোক্তাদের স্বস্তি নিশ্চিত করা সম্ভব।

