বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ আবারও ৩০ বিলিয়ন ডলারের ঘর অতিক্রম করেছে। বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক আরিফ হোসেন খান সাংবাদিকদের এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
তিনি জানান, বর্তমানে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ দাঁড়িয়েছে ৩০ দশমিক ০৬ বিলিয়ন ডলারে। সাম্প্রতিক সময়ে রেমিট্যান্স প্রবাহ বেড়ে যাওয়ায় এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সক্রিয় বাজার ব্যবস্থাপনার ফলে এই অগ্রগতি সম্ভব হয়েছে।
রিজার্ভ বাড়ানোর ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর কাছ থেকে নিলামের মাধ্যমে ডলার ক্রয়। ব্যাংকিং চ্যানেলে প্রবাসী আয়ের প্রবৃদ্ধির কারণে বাজারে ডলারের সরবরাহ বেড়েছে। সেই অতিরিক্ত সরবরাহ থেকে কেন্দ্রীয় ব্যাংক ডলার কিনে রিজার্ভে যোগ করছে।
পরিসংখ্যান বলছে, ২০২৬ সালের প্রথম মাস জানুয়ারিতে দেশে ৩১৭ কোটি ডলারের প্রবাসী আয় এসেছে, যা দেশের ইতিহাসে তৃতীয় সর্বোচ্চ। ২০২৫ সালের একই মাসের তুলনায় এ প্রবৃদ্ধি ৪৫.৪১ শতাংশ বেশি। গত বছরের জানুয়ারিতে রেমিট্যান্স এসেছিল ২১৮ কোটি ডলার।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, রেমিট্যান্স প্রবাহ বাড়ার কারণে ব্যাংকগুলোতে ডলারের সরবরাহ আগের চেয়ে বেড়েছে। তবে ডলারের দর যেন হঠাৎ করে পড়ে না যায়, সেজন্য কেন্দ্রীয় ব্যাংক নিলামের মাধ্যমে ডলার কিনছে। এতে একদিকে রিজার্ভ বাড়ছে, অন্যদিকে বাজারে ডলারের দামের স্থিতিশীলতাও বজায় থাকছে।
তিনি বলেন, বাণিজ্যিক ব্যাংক থেকে ডলার কেনার ফলে বাজারে অতিরিক্ত চাপ তৈরি হচ্ছে না। ডলারের দর নিয়ন্ত্রণে রেখে রিজার্ভ শক্তিশালী করার এই কৌশল আপাতত ইতিবাচক ফল দিচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, রিজার্ভ ৩০ বিলিয়ন ডলার অতিক্রম করা অর্থনীতির জন্য মনস্তাত্ত্বিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ একটি মাইলফলক। তবে এই ধারা টিকিয়ে রাখতে হলে রেমিট্যান্স প্রবাহ ধরে রাখা, রপ্তানি আয় বাড়ানো এবং বৈদেশিক লেনদেনে স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা জরুরি।

