উত্তাপ ছড়ানো ঘটনাবলীল মধ্যে দায়িত্ব পাওয়ার পরদিন বাংলাদেশ ব্যাংকে কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলাপ সেরে অর্থমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন নতুন গভর্নর মোস্তাকুর রহমান।
বৃহস্পতিবার দুপুর ৩টা ৩৪ মিনিটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর দপ্তরে আসেন তিনি; তাকে নিয়ে আসেন আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিব নাজমা মোবারেক।
গভর্নর অর্থমন্ত্রীর কক্ষে প্রবেশ করলেও সচিব নাজমা অর্থমন্ত্রীর একান্ত সচিবের কক্ষে অপেক্ষায় থাকেন। ৪টার পর সাক্ষাৎ শুরু হয়, তাতে যোগ দেন আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিবও।
এর আগে এডিবির সঙ্গে আলোচনায় ছিলেন অর্থমন্ত্রী। তাই গভর্নরকে তার কক্ষে নিলেও তখন নাজমা মোবারেক অর্থমন্ত্রীর একান্ত সচিবের কক্ষে অপেক্ষায় ছিলেন।
এদিন বেলা ১০টা ৪০ মিনিটে নতুন গভর্নর কেন্দ্রীয় ব্যাংকে পৌঁছলে ফুল দিয়ে স্বাগত জানান ডেপুটি গভর্নর ও গভর্নর কার্যালয়ের কর্মকর্তারা।
তিনি এলিয়ন সিরিজের এ-১৫ মডেলের গাড়িতে চড়ে কর্মস্থলে আসেন।
এ সময় সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে গভর্নর বলেন, “আগে কাজ করি তারপরে কথা বলব। যোগদান করি…।”
নতুন গভর্নর বসানো হবে, এমন গুঞ্জনেরে মধ্যে বুধবার দুপুরে বাংলাদেশ ব্যাংক ছাড়েন গভর্নর আহসান এইচ মনসুর। যাওয়ার আগে দেখেন তার বিরুদ্ধে বিক্ষোভ, প্রতিবাদ। পরে কর্মকর্তাদের তোপের মুখে অফিস ছাড়তে বাধ্য হন তার এক উপদেষ্টাও।
নজিরবিহীন এমন উত্তাপ ছড়ানো ঘটনাবলীর মধ্যে বিকালের দিকে পোশাক খাতের ব্যবসায়ী মো. মোস্তাকুর রহমানকে গভর্নরের দায়িত্ব দেয় তারেক রহমানের বিএনপি সরকার।
এর আগে অর্থনীতিবিদ, সাবেক আমলা ও শিক্ষকদের মধ্যে থেকে গভর্নর হলেও এবারই প্রথম ব্যবসায়ীকে সেই দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
মোস্তাকুর রহমান একসময় পুঁজিবাজারের ব্রোকারেজ হাউজ এবং আবাসন ব্যবসাতেও যুক্ত ছিলেন। ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে বিএনপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্য ছিলেন তিনি।
গণঅভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর অন্তর্বর্তী সরকার ২০২৪ সালের ১৪ অগাস্ট অর্থনীতিবিদ আহসান এইচ মনসুরকে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর হিসেবে দায়িত্ব দেয়। তার নেতৃত্বে শুরু হয় ব্যাংক খাতের সংস্কারের কাজ।
দেড় বছরের মাথায় অবশিষ্ট মেয়াদ বাতিলে করে তাকে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে বুধবার আলাদা প্রজ্ঞাপন জারি করেছে আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ।
নতুন গভর্নর মোস্তাকুর রহমান হেরা সোয়েটার্স গার্মেন্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিইও। ১৯৬৬ সালে ঢাকায় তার জন্ম; বাড়ি নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ উপজেলার জামপুর ইউনিয়নে। তার বড় ভাই মো. মোস্তাফিজুর রহমান মামুন ছিলেন থানা বিএনপির সিনিয়র সহসভাপতি।

