ফেব্রুয়ারি মাসে দেশের অর্থনৈতিক কার্যক্রমে গতি বেড়েছে। প্রধান চারটি খাতের মধ্যে তিনটিতেই সম্প্রসারণের ধারা জোরালো হয়েছে। তবে ব্যতিক্রম নির্মাণ খাত। জানুয়ারিতে কিছুটা সম্প্রসারণ দেখা গেলেও ফেব্রুয়ারিতে এ খাত আবার সংকোচনের মুখে পড়েছে।
সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ফেব্রুয়ারি মাসে দেশের পারচেজিং ম্যানেজার্স ইনডেক্স (পিএমআই) দাঁড়িয়েছে ৫৫ দশমিক ৭ পয়েন্টে। জানুয়ারিতে এই সূচক ছিল ৫৩ দশমিক ৯। অর্থাৎ এক মাসের ব্যবধানে সূচক বেড়েছে ১ দশমিক ৮ পয়েন্ট। সাধারণত ৫০-এর ওপরে পিএমআই মানে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে সম্প্রসারণ বোঝায়।
প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, কৃষি খাত টানা ষষ্ঠ মাসের মতো সম্প্রসারণের ধারায় রয়েছে। ফেব্রুয়ারিতে এ খাতে প্রবৃদ্ধির গতি উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। জানুয়ারিতে কৃষি খাতের সূচক ছিল ৫৩। ফেব্রুয়ারিতে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬৪ দশমিক ৫-এ। নতুন ব্যবসা এবং ব্যবসায়িক কার্যক্রমের সূচক দ্রুত বেড়েছে। তবে কর্মসংস্থান সূচক এখনো সংকোচনের মধ্যেই রয়েছে। এমনকি এই খাতে কর্মসংস্থান কমার গতি আগের তুলনায় আরও বেড়েছে।
দেশের উৎপাদন খাতও ধারাবাহিকভাবে সম্প্রসারণের পথে রয়েছে। টানা ১৮ মাস ধরে এ খাতে ইতিবাচক প্রবৃদ্ধি দেখা যাচ্ছে। ফেব্রুয়ারিতে প্রবৃদ্ধির গতি আরও বেড়েছে। নতুন কার্যাদেশ, কারখানার উৎপাদন, আমদানি, উৎপাদন উপকরণের দাম এবং সরবরাহকারীদের সরবরাহ—এসব গুরুত্বপূর্ণ উপসূচকে সম্প্রসারণ অব্যাহত রয়েছে।
তবে উৎপাদন খাতে সব সূচক সমানভাবে ইতিবাচক নয়। নতুন রপ্তানি, উৎপাদিত পণ্য এবং কর্মসংস্থান সূচক এখনো সংকোচনের মধ্যে রয়েছে। অন্যদিকে উৎপাদন উপকরণ ক্রয়ের সূচক আবার সম্প্রসারণে ফিরেছে। তবে অমীমাংসিত কার্যাদেশের সূচক আবারও সংকুচিত হয়েছে।
নির্মাণ খাতে জানুয়ারিতে সম্প্রসারণ থাকলেও ফেব্রুয়ারিতে তা কমে গেছে। নতুন ব্যবসা, কর্মসংস্থান এবং অমীমাংসিত কার্যাদেশ—এই তিনটি গুরুত্বপূর্ণ উপসূচকে সংকোচন দেখা গেছে। যদিও নির্মাণ কার্যক্রম এবং উৎপাদন উপকরণের ব্যয় সূচকে সম্প্রসারণ অব্যাহত রয়েছে।
অন্যদিকে সেবা খাত টানা ১৭ মাস ধরে সম্প্রসারণের ধারায় রয়েছে। ফেব্রুয়ারিতে এ খাতের প্রবৃদ্ধি আরও বেড়েছে। নতুন ব্যবসা, ব্যবসায়িক কার্যক্রম, কর্মসংস্থান, উৎপাদন উপকরণের ব্যয় এবং অমীমাংসিত কার্যাদেশ—সবগুলো উপসূচকেই ইতিবাচক প্রবণতা দেখা গেছে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, সামনের সময়ের ব্যবসায়িক প্রত্যাশাও ইতিবাচক। ভবিষ্যৎ ব্যবসা সূচকের তথ্য বলছে, কৃষি, উৎপাদন, নির্মাণ এবং সেবা—চারটি প্রধান খাতেই সম্প্রসারণের ধারা অব্যাহত থাকতে পারে। এতে বোঝা যাচ্ছে, ব্যবসায়ীদের আস্থা ধীরে ধীরে বাড়ছে।
পলিসি এক্সচেঞ্জ বাংলাদেশের চেয়ারম্যান ও প্রধান নির্বাহী এম মাসরুর রিয়াজ বলেন, মৌসুমি কারণে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে কিছুটা গতি বেড়েছে। সামনে রমজানকে ঘিরে ভোগব্যয় বাড়ার কারণে কৃষি ও সেবা খাতে চাহিদা বেড়েছে। সামগ্রিক অর্থনৈতিক কার্যক্রমেও এর প্রভাব পড়ছে।
তিনি আরও বলেন, ভবিষ্যৎ ব্যবসা সূচক ইঙ্গিত দিচ্ছে যে অর্থনীতিতে সম্প্রসারণের ধারা অব্যাহত থাকতে পারে। তবে মধ্যপ্রাচ্যে বাড়তে থাকা সামরিক উত্তেজনা বৈশ্বিক অর্থনীতির মতো বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধিতেও নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
উল্লেখ্য, ব্যবসায়ী ও উদ্যোক্তাদের সংগঠন মেট্রোপলিটন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (এমসিসিআই) এবং গবেষণা প্রতিষ্ঠান পলিসি এক্সচেঞ্জ অব বাংলাদেশ যৌথভাবে পিএমআই সূচক তৈরি করে। রোববার ফেব্রুয়ারি মাসের পিএমআই আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়েছে।

