বাংলাদেশে জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে ভারত থেকে আরও ৩৪ হাজার টন ডিজেল আমদানির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আগামী এপ্রিল মাসে এই ডিজেল দেশে পৌঁছাবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। ইতোমধ্যে ভারতীয় রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান Indian Oil Corporation Limited জ্বালানি বিভাগকে তেল সরবরাহের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।
এর আগে ১১ মার্চ বাংলাদেশ–ভারত সীমান্ত পাইপলাইনের মাধ্যমে ৫ হাজার টন ডিজেল সরবরাহ করা হয়েছে।
জ্বালানি বিভাগের কর্মকর্তারা বলছেন, ভারত থেকে আরও ৪৩ হাজার টন ডিজেল বিক্রির প্রস্তাব বাংলাদেশের জন্য ইতিবাচক খবর। এতে দেশে তেলের ওপর আরোপ করা রেশনিং ধীরে ধীরে তুলে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
সম্প্রতি ঢাকায় নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনারের সঙ্গে বৈঠক করেন জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী। সেই বৈঠকে সরকার ভারতের কাছে চলতি বছরের জন্য ২ লাখ ৬০ হাজার টন ডিজেল সরবরাহের অনুরোধ জানায়। আলোচনার পর ভারত জানায়, আপাতত তারা ৩৪ হাজার টন ডিজেল দিতে পারবে এবং বাকি চাহিদা নিয়ে পরে সিদ্ধান্ত জানানো হবে।
চুক্তি অনুযায়ী বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক বাজারদরে ভারত থেকে পরিশোধিত ডিজেল কিনে থাকে। এর পাশাপাশি পরিবহন ব্যয় হিসেবে প্রতি ব্যারেলে ৫ ডলার প্রিমিয়াম দিতে হয় Bangladesh Petroleum Corporation-কে।
দুই দেশের মধ্যে বিদ্যমান জ্বালানি সহযোগিতা চুক্তির আওতায় ভারতের Numaligarh Refinery থেকে প্রতি বছর প্রায় ১ লাখ ৮০ হাজার টন ডিজেল কেনার কথা রয়েছে। তবে মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতের কারণে এ বছর বাংলাদেশ সরকার চাহিদা বাড়িয়ে ২ লাখ ৬০ হাজার টন ডিজেল চেয়েছে।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্র সম্প্রতি রাশিয়ার তেল বিক্রির ওপর কিছু শর্তে বিধিনিষেধ শিথিল করায় আন্তর্জাতিক বাজারে নতুন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। ভারত যেহেতু রাশিয়ার তেলের বড় ক্রেতাদের একটি, তাই এই সিদ্ধান্তের ফলে ভারতের পক্ষে প্রতিবেশী দেশগুলোতে জ্বালানি সরবরাহ সহজ হয়েছে।
বাংলাদেশে বছরে প্রায় ৬৬ লাখ টন জ্বালানি তেল প্রয়োজন হয়, যার মধ্যে ডিজেলের চাহিদাই ৪৪ লাখ টনের বেশি। গ্যাস সংকটের কারণে চলতি বছরে এই চাহিদা আরও বাড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
বর্তমানে দেশে ইরি–বোরো মৌসুম চলায় সেচ কাজে কৃষকদের প্রায় ৮ লাখ টন ডিজেল দরকার হয়। তবে উত্তরাঞ্চলে চাষাবাদ অনেকটাই শেষ পর্যায়ে থাকায় এখন ডিজেলের চাহিদা কিছুটা কমেছে বলে জানিয়েছেন কর্মকর্তারা।
জ্বালানি বিভাগ জানিয়েছে, মার্চ মাসে ডিজেল, অকটেন ও পেট্রোল সরবরাহে বড় ধরনের সমস্যা হওয়ার আশঙ্কা নেই। এপ্রিলে ভারতসহ অন্যান্য উৎস থেকে তেল পাওয়া গেলে দেশের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড সচল রাখতে জ্বালানি সরবরাহে কোনো বাধা থাকবে না।

