পাবলিক পরীক্ষায় অনুত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের জন্য বড় ধরনের পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। তিনি জানিয়েছেন, ভবিষ্যতে কোনো শিক্ষার্থী দুইবারের বেশি একই পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার সুযোগ পাবে না। অর্থাৎ, একাধিকবার ফেল করে বারবার পরীক্ষায় বসার যে সুযোগ এতদিন ছিল, সেটি সীমিত করার পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে।
শনিবার (১১ এপ্রিল ২০২৬) দুপুরে রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মিলনায়তনে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় তিনি এই কথা বলেন। সভায় রাজশাহী বিভাগের বিভিন্ন কেন্দ্রের সচিব ও শিক্ষা কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। সেখানে পরীক্ষার পরিবেশ, মূল্যায়ন পদ্ধতি এবং সামগ্রিক শিক্ষাব্যবস্থার মান নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, বর্তমানে এমন অনেক শিক্ষার্থী রয়েছে যারা একবার নয়, দুইবার নয়—তিন বা চারবার পর্যন্ত একই পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছে। প্রতি বছর তাদের জন্য নতুন করে রেজিস্ট্রেশন করা, ক্লাস নেওয়া এবং পরীক্ষার ব্যবস্থা করা হচ্ছে। এতে পুরো ব্যবস্থার কার্যকারিতা নিয়েই প্রশ্ন উঠছে। তিনি সরাসরি প্রশ্ন তোলেন—শিক্ষাব্যবস্থার লক্ষ্য কি শুধুই ফেল করা শিক্ষার্থীদের পাস করানো, নাকি তাদের সত্যিকার অর্থে দক্ষ ও যোগ্য করে তোলা?
বর্তমান পরীক্ষাপদ্ধতি নিয়েও অসন্তোষ প্রকাশ করেন তিনি। তার মতে, এখন প্রায় ৫৬ ধরনের প্রশ্নপত্র তৈরি করে শিক্ষার্থীদের পাস করানোর ওপর অতিরিক্ত গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। কিন্তু এতে শিক্ষার প্রকৃত মান কতটা উন্নত হচ্ছে, সেটি ভেবে দেখার সময় এসেছে। শুধু পাসের হার বাড়ানো নয়, শিক্ষার্থীদের প্রকৃত জ্ঞান ও দক্ষতা নিশ্চিত করাই হওয়া উচিত মূল লক্ষ্য।
তিনি আরও বলেন, বিশ্ব এখন দ্রুত পরিবর্তনশীল। এই বাস্তবতায় শিক্ষার্থীদের এমনভাবে গড়ে তুলতে হবে, যাতে তারা বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে পারে। সেজন্য পুরো শিক্ষাব্যবস্থাকে আরও মানসম্মত ও বাস্তবমুখী করা জরুরি।
এই পরিবর্তনের প্রস্তাব বাস্তবায়িত হলে শিক্ষার্থীদের মধ্যে পড়াশোনার প্রতি দায়িত্ববোধ বাড়বে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। একই সঙ্গে শিক্ষার মানোন্নয়নের দিকেও এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হতে পারে।
সব মিলিয়ে, পরীক্ষায় বারবার অংশ নেওয়ার সুযোগ সীমিত করার এই উদ্যোগ শিক্ষাব্যবস্থায় একটি নতুন দৃষ্টিভঙ্গি তৈরি করতে পারে—যেখানে শুধু পাস নয়, বরং মানসম্মত শিক্ষাকেই অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।

