যুক্তরাজ্যভিত্তিক আন্তর্জাতিক শিক্ষা ও গবেষণা সংস্থা কোয়াককোয়ারেলি সায়মন্ডসের (কিউএস) এশিয়া ২০২৭ বিশ্ববিদ্যালয় র্যাঙ্কিংয়ে বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে শীর্ষস্থান ধরে রেখেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। এশিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে প্রতিষ্ঠানটির অবস্থান ১৩৬তম। দক্ষিণ এশিয়ার তালিকায় তাদের অবস্থান ১৬তম। গত বছরও দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে সবার ওপরে ছিল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।
কিউএস গত মঙ্গলবার এই র্যাঙ্কিং প্রকাশ করেছে। এবারের তালিকায় এশিয়ার ২৬টি দেশের ১ হাজার ৭২২টি বিশ্ববিদ্যালয় স্থান পেয়েছে। এর মধ্যে প্রথম হয়েছে হংকং বিশ্ববিদ্যালয়। দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে চীনের পিকিং বিশ্ববিদ্যালয়।
র্যাঙ্কিং নিয়ে প্রতিক্রিয়ায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম বলেন, আন্তর্জাতিক পরিসরে বিশ্ববিদ্যালয়ের এই অবস্থান আনন্দ ও গর্বের। তাঁর মতে, দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে ধারাবাহিকভাবে শীর্ষে থাকা শিক্ষক, শিক্ষার্থী, গবেষকসহ সংশ্লিষ্ট সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টার স্বীকৃতি।
উপাচার্য আরও বলেন, কেবল র্যাঙ্কিংয়ে অবস্থান ধরে রাখাই লক্ষ্য নয়। শিক্ষা ও গবেষণার মান বাড়িয়ে আন্তর্জাতিক পরিসরে বিশ্ববিদ্যালয়ের অবস্থান আরও সুদৃঢ় করতে কাজ চলছে। গবেষণার পরিবেশ সমৃদ্ধ করা, সুযোগ-সুবিধা বাড়ানো, আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সম্প্রসারণ এবং শিক্ষার্থীদের বৈশ্বিক মানের দক্ষতা অর্জনের সুযোগ তৈরি করাকে তিনি অগ্রাধিকার হিসেবে উল্লেখ করেন। এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের সহযোগিতা গুরুত্বপূর্ণ বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
কিউএস এশিয়া র্যাঙ্কিংয়ে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর অবস্থান নির্ধারণে একাধিক সূচক বিবেচনা করা হয়। এর মধ্যে রয়েছে একাডেমিক সুনাম, শিক্ষক-শিক্ষার্থী অনুপাত, গবেষণার মান ও প্রভাব, পিএইচডিধারী শিক্ষকের হার, আন্তর্জাতিক গবেষণা সহযোগিতা এবং আন্তর্জাতিক শিক্ষক-শিক্ষার্থীর উপস্থিতি।
বাংলাদেশের উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য এশিয়ার বড় তালিকায় টিকে থাকা সহজ নয়। প্রায় পৌনে দুই হাজার বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিযোগিতায় শীর্ষ দেড়শর মধ্যে জায়গা ধরে রাখা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য ইতিবাচক বার্তা। তবে গবেষণার মান, আন্তর্জাতিকীকরণ ও শিক্ষক-শিক্ষার্থী অনুপাতের মতো সূচকে উন্নতি না হলে অবস্থান আরও এগিয়ে নেওয়া কঠিন হবে বলে শিক্ষাসংশ্লিষ্টরা মনে করেন।

