দীর্ঘ ১৭ বছরের বিরতির পর ফের ‘মঞ্জুলিকা’ চরিত্রে পর্দায় হাজির হয়ে বলিউড অভিনেত্রী বিদ্যা বালান সবার দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন। সময়ের প্রভাবে এবং তার চেহারা নিয়ে অনেক সমালোচনা শুনতে হয়েছিল এই অভিনেত্রীকে, তবে তিনি কখনও হতাশ হননি। বরং, নিজের মেধা ও সক্ষমতা দিয়েই তিনি প্রমাণ করেছেন যে, শারীরিক গঠন কখনো সৌন্দর্যের একমাত্র মাপকাঠি নয়। তার এই দৃঢ়তা এবং আত্মবিশ্বাস নারীদের জন্য একটি প্রেরণার উৎস।

সম্প্রতি বিদ্যা তার পরিবর্তিত রূপ নিয়ে সবাইকে অবাক করেছেন। পেশাগত কারণে তিনি ওজন কমিয়েছেন এবং এখন তার দেহের আকৃতি ছিপছিপে ও সুগঠিত। তার এই রূপসী চেহারা যেন ফিরিয়ে এনেছে পুরোনো মঞ্জুলিকার স্মৃতি।
বিদ্যা সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে জানান, তিনি ওজন কমানোর জন্য ব্যাপক চেষ্টা চালিয়েছেন। নিয়মিত শরীরচর্চা ও ডায়েটের মাধ্যমে স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন করার চেষ্টায় তার প্রচেষ্টার অভাব ছিল না। কিন্তু ফল সত্ত্বেও, তার ওজন আগের মতোই বাড়তে থাকে। অবশেষে, তিনি চেন্নাইয়ের একজন পুষ্টিবিদের কাছে গিয়ে এই বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করেন।
পুষ্টিবিদ তাকে জানান, শরীরে কিছু সংক্রমণের কারণে তার ওজন কমছে না। তিনি বিদ্যাকে কিছু নির্দিষ্ট খাবার থেকে দূরে থাকতে বলেন, যা তার ওজন বৃদ্ধির কারণ হতে পারে। বিশেষ করে, দই এবং পালং খাওয়ার বিষয়টি এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেন। পুষ্টিবিদের পরামর্শ অনুসরণ করে বিদ্যা এই খাবারগুলো খাওয়া সম্পূর্ণরূপে বন্ধ করে দেন।

শারীরিক গঠন নিয়ে প্রশ্নের জবাবে বিদ্যা বলেন, তিনি বিশেষভাবে রোগা হওয়ার জন্য জিমে যাননি বরং পুষ্টিবিদের নির্দেশনার কারণে শরীরচর্চা বন্ধ করেছেন। অতীতে নিয়মিত জিমে যাওয়ার পরও তিনি তেমন কোন সুফল পাননি। তবে ‘ভুলভুলাইয়া ৩’ ছবির শুটিংয়ের জন্য তিনি আবারও শরীরচর্চা শুরু করেন।
পুষ্টিবিদের পরামর্শ অনুযায়ী বিদ্যার ওজন কমানোর যাত্রা শুরু হয়। তার প্রচেষ্টা এবং কঠোর পরিশ্রমের ফলাফল আজ স্পষ্ট। বিদ্যা বালান আবারও প্রমাণ করেছেন যে, অধ্যবসায় এবং আত্মবিশ্বাসের মাধ্যমে যে কেউ সফলতা অর্জন করতে পারে। তার এই চমকপ্রদ প্রত্যাবর্তন শুধু তার ক্যারিয়ার নয় বরং সবার জন্য অনুপ্রেরণা হিসেবে কাজ করবে।

