২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের দ্বিতীয় সেমিফাইনালে আজ (বাংলাদেশ সময় রাত ১টা) আটলান্টার মার্সিডিজ-বেঞ্জ স্টেডিয়ামে মুখোমুখি হবে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা ও ইংল্যান্ড। দীর্ঘ ২৪ বছর পর বিশ্বকাপের মঞ্চে আবারও দেখা হচ্ছে দুই ফুটবল পরাশক্তির।
বিশ্বকাপের ইতিহাসে এটি হবে আর্জেন্টিনা ও ইংল্যান্ডের ষষ্ঠ মুখোমুখি লড়াই। আগের পাঁচ ম্যাচে পরিসংখ্যানের বিচারে এগিয়ে ইংল্যান্ড। তারা জিতেছে তিনটি ম্যাচ, আর আর্জেন্টিনার জয় দুটি।
তবে নকআউট পর্বের ইতিহাস বলছে ভিন্ন গল্প। বিশ্বকাপের নকআউটে তিনবার মুখোমুখি হয়ে দুইবারই জয় পেয়েছে আর্জেন্টিনা, আর একবার জিতেছে ইংল্যান্ড।
দুই দলের প্রথম বিশ্বকাপ সাক্ষাৎ হয় ১৯৬২ সালে চিলিতে। গ্রুপ পর্বের সেই ম্যাচে আর্জেন্টিনাকে ৩-১ গোলে হারিয়েছিল ইংল্যান্ড।
চার বছর পর ১৯৬৬ সালে নিজেদের মাটিতে অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালেও ১-০ গোলের জয় তুলে নেয় ইংলিশরা। সেই জয় তাদের সেমিফাইনালে নিয়ে যায়। পরে পর্তুগালকে হারিয়ে ফাইনালে উঠে পশ্চিম জার্মানিকে ৪-২ গোলে পরাজিত করে প্রথম ও এখন পর্যন্ত একমাত্র বিশ্বকাপ শিরোপা জেতে ইংল্যান্ড।
১৯৮৬ সালের মেক্সিকো বিশ্বকাপে দুই দলের লড়াই ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম আলোচিত ম্যাচ হিসেবে বিবেচিত হয়। কোয়ার্টার ফাইনালে দিয়েগো ম্যারাডোনার জোড়া গোলে ২-১ ব্যবধানে জয় পায় আর্জেন্টিনা।
সেই ম্যাচেই জন্ম নেয় ফুটবল ইতিহাসের কিংবদন্তি ‘হ্যান্ড অব গড’ মুহূর্ত। ম্যাচের ৫১তম মিনিটে হাত দিয়ে বল জালে পাঠান ম্যারাডোনা। গোলটি বৈধ ঘোষণা করেন রেফারি। পরে এ বিষয়ে ম্যারাডোনা বলেছিলেন, ‘গোলটি হয়েছে একটু মাথা দিয়ে, আরেকটু ঈশ্বরের হাত দিয়ে।’ এরপর থেকেই গোলটি ‘হ্যান্ড অব গড’ নামে পরিচিতি পায়।
মাত্র চার মিনিট পর অসাধারণ একক নৈপুণ্যে দ্বিতীয় গোল করে আর্জেন্টিনাকে ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে দেন ম্যারাডোনা। ইংল্যান্ডের হয়ে গ্যারি লিনেকার একটি গোল শোধ করলেও শেষ পর্যন্ত ২-১ ব্যবধানে জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে আর্জেন্টিনা। পরে তারা বেলজিয়ামকে হারিয়ে ফাইনালে ওঠে এবং পশ্চিম জার্মানিকে পরাজিত করে দ্বিতীয় বিশ্বকাপ শিরোপা জেতে।
এরপর ১৯৯৮ সালের ফ্রান্স বিশ্বকাপের শেষ ষোলোতে আবারও মুখোমুখি হয় দুই দল। নির্ধারিত সময় ২-২ গোলে শেষ হওয়ার পর টাইব্রেকারে ৪-৩ ব্যবধানে জয় পেয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠে আর্জেন্টিনা।
সর্বশেষ ২০০২ সালের দক্ষিণ কোরিয়া-জাপান বিশ্বকাপে গ্রুপ পর্বে দেখা হয়েছিল দুই দলের। সেই ম্যাচে ডেভিড বেকহ্যামের পেনাল্টি গোলে ১-০ ব্যবধানে জয় পায় ইংল্যান্ড। তবে ওই বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনা গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায় নেয়, আর ইংল্যান্ড কোয়ার্টার ফাইনালে ব্রাজিলের কাছে ২-১ গোলে হেরে টুর্নামেন্ট শেষ করে।
সব মিলিয়ে বিশ্বকাপে মুখোমুখি লড়াইয়ের পরিসংখ্যানে এগিয়ে ইংল্যান্ড (৩-২)। তবে নকআউট পর্বের ইতিহাসে আধিপত্য আর্জেন্টিনার। তাই ২৪ বছর পরের এই সেমিফাইনাল শুধু ফাইনালে ওঠার লড়াই নয়, দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ফুটবল শক্তির আরেকটি ঐতিহাসিক অধ্যায়েরও অপেক্ষা।

