মাত্র ১৮ বছর বয়সেই বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম আলোচিত নাম হয়ে উঠেছেন স্পেনের তরুণ তারকা লামিন ইয়ামাল। অসাধারণ নৈপুণ্য, পরিণত পারফরম্যান্স এবং আত্মবিশ্বাসী ফুটবলে তিনি ইতোমধ্যেই নিজের আলাদা পরিচয় গড়ে তুলেছেন। এবার আর্জেন্টিনার বিপক্ষে গুরুত্বপূর্ণ লড়াইয়েও স্পেনের অন্যতম ভরসা এই উইঙ্গার।
এই ম্যাচে যদি ইয়ামালের বাঁ পা থেকে আরেকটি গোল আসে, তাহলে দর্শকরা সম্ভবত আবারও দেখতে পাবেন তার পরিচিত উদযাপন। গোল করার পর তিনি দুই হাত ক্রস করে একটি বিশেষ ভঙ্গিতে আঙুলের সাহায্যে ‘৩০৪’ সংখ্যা তৈরি করেন। অনেকের কাছেই এটি রহস্যময় মনে হলেও এর পেছনের গল্পটি বেশ আবেগঘন।
‘৩০৪’ আসলে স্পেনের কাতালুনিয়া অঞ্চলের মাতারো শহরের রোকাফোন্দা এলাকার পোস্টকোডের শেষ তিনটি সংখ্যা। পুরো পোস্টকোড হলো ০৮৩০৪। শৈশবের বড় একটি সময় এই এলাকাতেই কেটেছে ইয়ামালের। নিজের শেকড়কে স্মরণ করতেই প্রতিটি গোলের পর এই সংখ্যাটি প্রদর্শন করেন তিনি। যদিও ইয়ামালের জন্ম এসপ্লুগেস দে ইয়োব্রেগাতে, জন্মের কিছুদিন পরই তার পরিবার রোকাফোন্দায় চলে যায়। সেখান থেকেই শুরু হয় তার বেড়ে ওঠার গল্প।
রোকাফোন্দা থেকে বার্সেলোনার বিখ্যাত যুব একাডেমি লা মাসিয়ায় পৌঁছাতে ট্রেনে প্রায় ৯০ মিনিট সময় লাগত। মাত্র সাত বছর বয়সে সেই একাডেমিতে যোগ দিয়ে নিজের প্রতিভাকে শাণিত করেন ইয়ামাল। সেখান থেকেই বিশ্ব ফুটবলে তার উত্থানের ভিত্তি তৈরি হয়।
তবে মাঠে নিজের শেকড়ের প্রতি শ্রদ্ধা জানানো শুধু ‘৩০৪’ সংখ্যাতেই সীমাবদ্ধ নয়। লামিন ইয়ামাল নাসরাউই এবানার বিশেষভাবে তৈরি অ্যাডিডাস এফ৫০ বুটে ‘৩০৪’ সংখ্যার পাশাপাশি রয়েছে তার বাবা-মায়ের জন্মভূমি মরক্কো ও ইকুয়েটোরিয়াল গিনির জাতীয় পতাকা। তার বাবা মুনির নাসরাউই মরক্কোর এবং মা শিলা এবানা ইকুয়েটোরিয়াল গিনির নাগরিক।
এদিকে চলমান টুর্নামেন্টে ছোটখাটো চোট নিয়ে খেললেও ইয়ামাল দলের হয়ে নিয়মিত মাঠে নেমেছেন। গোল করার পর ‘৩০৪’ দেখানোর পাশাপাশি তিনি সিজদা করে সৃষ্টিকর্তার প্রতি কৃতজ্ঞতাও প্রকাশ করেন। তার এই উদযাপন এখন বিশ্বজুড়ে ফুটবলপ্রেমীদের কাছে অন্যতম পরিচিত দৃশ্য হয়ে উঠেছে।

