ম্যাকাই টেস্টের শুরুতেই ভয়াবহ ব্যাটিং বিপর্যয়ে পড়েছে বাংলাদেশ। অস্ট্রেলিয়ার বাঁহাতি পেসার মিচেল স্টার্কের বিধ্বংসী বোলিংয়ের সামনে দাঁড়াতেই পারেনি বাংলাদেশের টপ অর্ডার। মাত্র ১২ রানেই ৫ উইকেট হারিয়ে ম্যাচের প্রথম সেশনেই বড় চাপে পড়ে সফরকারীরা।
লাঞ্চ বিরতিতে যাওয়ার সময় বাংলাদেশের সংগ্রহ দাঁড়ায় ২৩ ওভারে ৬ উইকেটে ৩৫ রান। মেহেদী হাসান মিরাজ ১১ এবং হাসান মাহমুদ ৮ রানে অপরাজিত আছেন। তাদের ১৪ রানের অবিচ্ছিন্ন জুটিই এখন পর্যন্ত বাংলাদেশের ইনিংসের সবচেয়ে বড় স্বস্তি।
ডারউইনে অবিশ্বাস্য জয় পাওয়ার পর ম্যাকাই টেস্টেও আত্মবিশ্বাসী শুরু করার প্রত্যাশা ছিল বাংলাদেশের। কিন্তু টস হেরে ব্যাটিংয়ে নামার পর পরিস্থিতি পুরোপুরি উল্টো হয়ে যায়। নতুন বল হাতে স্টার্ক যেন বাংলাদেশের ব্যাটিং লাইনআপকে একাই গুঁড়িয়ে দেন।
বাংলাদেশের ইনিংসের প্রথম ২২ বলের মধ্যেই পাঁচ ব্যাটারকে সাজঘরে ফেরান স্টার্ক। মাত্র ৬.৪ ওভারে বাংলাদেশের স্কোর হয়ে যায় ১২ রানে ৫ উইকেট।
এই সময় স্টার্ক চার ওভার বোলিং করে তিনটি মেডেনসহ মাত্র চার রান দেন। তার গতি, সুইং এবং নিখুঁত লাইন-লেংথের সামনে বাংলাদেশের ব্যাটাররা কোনোভাবেই নিজেদের মেলে ধরতে পারেননি।
শুরুতেই সাদমান ইসলামকে ক্যামেরন গ্রিনের ক্যাচে পরিণত করেন স্টার্ক। এরপর পরপর দুই বলে তানজিদ হাসান তামিম ও অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্তকে ফেরান তিনি। ফলে বাংলাদেশের প্রথম তিন ব্যাটারই কোনো রান না করেই মাঠ ছাড়েন।
এরপর মুমিনুল হক ৯ রান করে স্টার্কের চতুর্থ শিকার হন। কিছুক্ষণ পর লিটন দাসও পাঁচ বল খেলে রানের খাতা খোলার আগেই বিদায় নেন।
১২ রানে পাঁচ উইকেট হারানোর পর বাংলাদেশের সামনে তখন দুটি বড় আশঙ্কা। একদিকে টেস্ট ইতিহাসের সর্বনিম্ন ২৬ রানে অলআউট হওয়ার লজ্জা, অন্যদিকে নিজেদের সর্বনিম্ন ৪৩ রানের স্কোর।
পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়ে যায় মুশফিকুর রহিমও ফিরে গেলে। ৪২ বল মোকাবিলা করে মাত্র পাঁচ রান করা অভিজ্ঞ এই ব্যাটার ষষ্ঠ ব্যাটার হিসেবে আউট হন। এতে বাংলাদেশের স্কোর দাঁড়ায় ২১ রানে ৬ উইকেট।
অর্থাৎ তখনও নিজেদের সর্বনিম্ন ৪৩ রানের রেকর্ড থেকে বাংলাদেশ বেশ দূরে ছিল। তবে মিরাজ ও হাসান মাহমুদের প্রতিরোধে অন্তত ইনিংস আরও কিছুটা এগিয়ে নেওয়ার সুযোগ তৈরি হয়।
দলের বিপর্যয়ের মধ্যে ব্যাট হাতে কিছুটা দায়িত্ব নেন মেহেদী হাসান মিরাজ ও হাসান মাহমুদ। দুজন মিলে লাঞ্চ পর্যন্ত আর কোনো উইকেট পড়তে দেননি।
তাদের ১৪ রানের অবিচ্ছিন্ন জুটিতে বাংলাদেশ ৩৫ রানে পৌঁছায়। মিরাজ ১১ এবং হাসান ৮ রানে অপরাজিত থেকে লাঞ্চে যান।
এখন বাংলাদেশের মূল লক্ষ্য হবে ইনিংসটিকে যতটা সম্ভব লম্বা করা। শুরুতে ছয় উইকেট হারানোর পর অন্তত সম্মানজনক সংগ্রহে পৌঁছাতে হলে নিচের সারির ব্যাটারদের বড় ভূমিকা রাখতে হবে।
মিচেল স্টার্কের জন্যও এটি বিশেষ এক বোলিং স্পেল। এর আগে ক্যারিয়ারে জ্যামাইকায় ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে মাত্র ১৫ বলের মধ্যে পাঁচ উইকেট নেওয়ার কীর্তি ছিল তার।
ম্যাকাইয়ে আবারও নতুন বলে তার বিধ্বংসী বোলিং বাংলাদেশের ব্যাটিংকে কার্যত অচল করে দিয়েছে। মাত্র চার ওভারে তিন মেডেন এবং চার রান দিয়ে পাঁচ উইকেট—প্রথম সেশনে এমন পরিসংখ্যানই বলে দিচ্ছে, বাংলাদেশের ব্যাটারদের জন্য পরিস্থিতি কতটা কঠিন ছিল।
ম্যাকাই টেস্টে বাংলাদেশের একাদশে একটি পরিবর্তন আনা হয়েছে। চোট কাটিয়ে দলে ফিরেছেন শরিফুল ইসলাম। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ঘরের মাঠের ওয়ানডে সিরিজে ছয় উইকেট নেওয়া শরিফুল এবার ইবাদত হোসেনের জায়গায় একাদশে ফিরেছেন।
বাংলাদেশের একাদশে রয়েছেন—সাদমান ইসলাম, তানজিদ হাসান তামিম, মুমিনুল হক, নাজমুল হোসেন শান্ত, মুশফিকুর রহিম, লিটন দাস, মেহেদী হাসান মিরাজ, হাসান মাহমুদ, তাইজুল ইসলাম, তাসকিন আহমেদ ও শরিফুল ইসলাম।
অস্ট্রেলিয়ার একাদশে রয়েছেন ট্র্যাভিস হেড, ম্যাট রেনশ, মার্নাস লাবুশেন, স্টিভেন স্মিথ, ক্যামেরন গ্রিন, অ্যালেক্স ক্যারি, বেউ ওয়েবস্টার, প্যাট কামিন্স, মিচেল স্টার্ক, নাথান লায়ন ও জশ হ্যাজেলউড।
ডারউইনে দুর্দান্ত জয়ের পর ম্যাকাইয়ে বাংলাদেশের কাছ থেকে বড় প্রত্যাশা ছিল। কিন্তু ম্যাচের প্রথম সেশনেই সেই প্রত্যাশায় বড় ধাক্কা দিয়েছে স্টার্কের পেস আক্রমণ। এখন ইনিংসের বাকি অংশে মিরাজ ও হাসান কতটা প্রতিরোধ গড়তে পারেন, সেটিই বাংলাদেশের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

