ইউয়েফা নেশনস লিগের ম্যাচে ইসরায়েলের বিপক্ষে মাঠে নামার আগে দুই দলের খেলোয়াড়দের মধ্যে প্রচলিত হ্যান্ডশেক করেনি আয়ারল্যান্ডের ফুটবলাররা। একই সঙ্গে গাজা যুদ্ধের সব নিহত ব্যক্তির প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে তারা কালো বাহুবন্ধনী পরে মাঠে নামে।
রোববার রাতে হাঙ্গেরির ডেব্রেসেনের প্রায় ফাঁকা নাগিয়ারদেই স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ম্যাচে আয়ারল্যান্ড ৩-০ গোলে জয় পায়। প্রথমার্ধেই ট্রয় প্যারট, অ্যাডাম ইদাহ ও জ্যাক ময়লানের গোলে এগিয়ে যায় দলটি।
ম্যাচের আগে ইসরায়েলের জাতীয় সংগীত চলার সময় আয়ারল্যান্ডের খেলোয়াড়রা মাথা নিচু করে দাঁড়িয়ে থাকে এবং তাদের হাত পেছনে রাখা ছিল।
ইসরায়েলি দলের সঙ্গে হ্যান্ডশেক না করার সিদ্ধান্ত ম্যাচের আগেই নেওয়া হয়েছিল। ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন অব আয়ারল্যান্ডের প্রধান নির্বাহী ডেভিড কোরেল জানান, খেলোয়াড়দের বড় অংশ ম্যাচ খেলতে সম্মত হলেও তারা হ্যান্ডশেক না করার বিষয়ে একমত হয়।
এর আগে আয়ারল্যান্ডের গোলরক্ষক গ্যাভিন বাজুনু ইসরায়েলের বিপক্ষে খেলায় অংশ নেওয়া নিয়ে অস্বস্তি প্রকাশ করেছিলেন। তিনি ব্যক্তিগত বিশ্বাসের কথা উল্লেখ করে দল ছাড়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেন।
বাজুনু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লিখেছিলেন, নিরপরাধ মানুষের হত্যার বিষয়টি তিনি সমর্থন করেন না।
তার এই সিদ্ধান্তের পর আয়ারল্যান্ড দলের খেলোয়াড়দের মধ্যে কয়েক ঘণ্টা আলোচনা হয় এবং ম্যাচ বর্জন করা হবে কি না, তা নিয়ে ভোটাভুটি হয়। শেষ পর্যন্ত দল ম্যাচে অংশ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়।
ম্যাচে ইসরায়েল সমর্থকদের জন্য সীমিতসংখ্যক টিকিট দেওয়া হয়েছিল। আয়ারল্যান্ড সমর্থকদের জন্য কোনো টিকিট বরাদ্দ ছিল না। তবে আয়ারল্যান্ড গোল করার সময় কয়েকজন সমর্থককে উদযাপন করতে দেখা যায়।
আয়ারল্যান্ড দীর্ঘদিন ধরে গাজা যুদ্ধ নিয়ে ইসরায়েলের কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করে আসছে। ফেব্রুয়ারিতে নেশনস লিগের ড্রয়ের পর থেকেই দুই দলের ম্যাচ আয়োজন নিয়ে দেশটিতে বিভিন্ন প্রতিবাদ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
আগামী ৪ অক্টোবর আয়ারল্যান্ডের ঘরের মাঠের ম্যাচটি সার্বিয়ায় অনুষ্ঠিত হবে এবং সেটি দর্শকশূন্য মাঠে আয়োজন করা হবে।

