এশিয়ান গেমসের পুরুষ ক্রিকেটে ফাইনালে ওঠার স্বপ্ন পূরণ হলো না বাংলাদেশের। বৃষ্টিবিঘ্নিত সেমিফাইনালে পাকিস্তানের কাছে ৬ উইকেটে হেরে বিদায় নিয়েছে লিটন দাসের দল।
বৃহস্পতিবার জাপানের নিশিনের কোরোগি স্পোর্টস পার্কে অনুষ্ঠিত ম্যাচটি বৃষ্টির কারণে দেরিতে শুরু হয়। পরে ম্যাচ কমিয়ে ১৩ ওভারে নামিয়ে আনা হয়।
প্রথমে ব্যাট করতে নেমে বাংলাদেশ ১৩ ওভারে ৭ উইকেট হারিয়ে ১১১ রান সংগ্রহ করে। দলের হয়ে সবচেয়ে বড় অবদান রাখেন তাওহীদ হৃদয়। তিনি ২৫ বলে ৪২ রানের ঝড়ো ইনিংস খেলেন।
তবে লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে পাকিস্তান শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ব্যাটিং করে। ৯ বল হাতে রেখেই ৬ উইকেটের জয় তুলে নেয় তারা।
বাংলাদেশের ইনিংস শুরুতেই চাপে পড়ে যায়। পাওয়ারপ্লের মধ্যেই ৩ উইকেট হারিয়ে দলীয় সংগ্রহ দাঁড়ায় ২১ রান।
তানজিদ হাসান, লিটন দাস ও পারভেজ হোসেন ইমন দ্রুত ফিরে গেলে বিপদে পড়ে বাংলাদেশ। এরপর সাইফ হাসান এক প্রান্ত ধরে রাখার চেষ্টা করেন। তিনি ১৭ বলে ১৯ রান করেন।
৪৫ রানে ৪ উইকেট হারানোর পর তাওহীদ হৃদয় ও মোসাদ্দেক হোসেনের জুটিতে ঘুরে দাঁড়ায় বাংলাদেশ। দুজন মিলে ৩০ বলে ৫৩ রান যোগ করেন।
হৃদয় ১৫ বলে ৩১ রান যোগ করার পর শেষ পর্যন্ত ৪২ রানে আউট হন। মোসাদ্দেক করেন ১১ রান। শেষ দিকে মাহেদী হাসানের দুটি বাউন্ডারিতে বাংলাদেশ ১১১ রানের সংগ্রহ পায়।
পাকিস্তানের হয়ে সুফিয়ান মোকিম ৩ উইকেট নেন এবং আরাফাত মিনহাস নেন ২ উইকেট।
জবাব দিতে নেমে পাকিস্তানও শুরুতে কিছুটা চাপে পড়ে। প্রথম ওভারে মাহেদী হাসান সাজঘরে ফেরান সাহিবজাদা ফারহানকে। পরের ওভারে নাসুম আহমেদ আউট করেন মাজ সাদাকাতকে।
তবে এরপর পাকিস্তান ব্যাটাররা দ্রুত রান তোলার কৌশল ধরে রাখে। উসমান খান ১৪ এবং সাইম আইয়ুব ২১ রান করে ফিরে গেলেও ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখে পাকিস্তান।
শেষ পর্যন্ত হাসান নেওয়াজ ও আবদুল সামাদের অপরাজিত ৫৯ রানের জুটি পাকিস্তানের জয় নিশ্চিত করে।
সামাদ ১৫ বলে অপরাজিত ৩০ রান করেন। মুস্তাফিজুর রহমানের করা দশম ওভারে তিনি একটি ছক্কা ও টানা চারটি চার মেরে ২৩ রান তুলে নেন।
হাসান নেওয়াজ অপরাজিত থাকেন ২৭ রানে। বাংলাদেশের হয়ে মুস্তাফিজুর রহমান ২ ওভারে ৪১ রান দিয়ে একটি উইকেট নেন।
এই হারের পর বাংলাদেশকে এখন ব্রোঞ্জ পদকের জন্য লড়াই করতে হবে। আগামী ৩ অক্টোবর ভারত ও শ্রীলঙ্কার মধ্যকার অন্য সেমিফাইনালের পরাজিত দলের বিপক্ষে মাঠে নামবে বাংলাদেশ।

