ত্রিদেশীয় সিরিজের প্রথম ম্যাচেই বড় ধাক্কা খেল বাংলাদেশ। জিম্বাবুয়ের দেওয়া ২৭২ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে মাত্র ১৭২ রানেই গুটিয়ে গেছে বাংলাদেশের ইনিংস। ফলে ৯৯ রানের বড় জয় দিয়ে টুর্নামেন্ট শুরু করেছে জিম্বাবুয়ে। ব্যাটিংয়ের একের পর এক ব্যর্থতায় আবারও প্রশ্নের মুখে পড়েছে বাংলাদেশের ওয়ানডে দলের পারফরম্যান্স।
আবুধাবিতে অনুষ্ঠিত ম্যাচে শুরুতে বাংলাদেশের ব্যাটিং দেখে অবশ্য এমন পরিণতির ইঙ্গিত পাওয়া যায়নি। প্রথম ছয় ওভারে কোনো উইকেট না হারিয়ে ৪২ রান তুলে নেয় দলটি। কিন্তু সৌম্য সরকার আউট হওয়ার পরই ছন্দপতন ঘটে। এরপর নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারাতে থাকে বাংলাদেশ। একপর্যায়ে বড় লক্ষ্য তাড়া করার আশা কার্যত শেষ হয়ে যায়।
বাংলাদেশের ব্যর্থতার বড় কারণ ছিল ব্যাটসম্যানদের দায়িত্বহীনভাবে উইকেট বিলিয়ে দেওয়া। জিম্বাবুয়ের বোলাররা খুব বেশি অসাধারণ কিছু না করলেও বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানরা নিজেদের ভুলেই বিপদ ডেকে আনেন। তাওহিদ হৃদয়, নাজমুল হোসেন ও মোসাদ্দেক হোসেনের মতো ব্যাটসম্যানরা বলের লাইন ঠিকমতো বুঝতে না পেরে এলবিডব্লিউ হয়ে ফিরে যান। আগের বলে জীবন পাওয়া তানজিদ হাসানও পরের বলেই ক্যাচ দিয়ে বসেন। সৌম্য সরকার স্লিপে ক্যাচ তুলে বিদায় নেন।
বাংলাদেশের হয়ে সর্বোচ্চ ৪৬ রান করেন তানজিদ হাসান। সাইফ হাসান করেন ২৬ রান, আর রিশাদ হোসেনের ব্যাট থেকে আসে ২৩ রান। তবে অন্য ব্যাটসম্যানদের কাছ থেকে বড় অবদান না আসায় লক্ষ্য থেকে অনেক দূরেই থেমে যায় বাংলাদেশের ইনিংস। ৩৩.৪ ওভার খেলেই অলআউট হয়ে যায় দলটি।
এর আগে ব্যাট করতে নেমে জিম্বাবুয়েকে বড় সংগ্রহ এনে দেন অধিনায়ক ক্রেইগ আরভিন ও ব্রেন্ডন টেলর। আরভিন করেন ৯৩ রান, আর টেলরের ব্যাট থেকে আসে ৮১ রান। তাঁদের গুরুত্বপূর্ণ ইনিংসে ভর করে নির্ধারিত ৫০ ওভারে ৮ উইকেট হারিয়ে ২৭১ রান সংগ্রহ করে জিম্বাবুয়ে।
বাংলাদেশের বোলারদের মধ্যে তাসকিন আহমেদ ৪৪ রান দিয়ে তিনটি উইকেট নেন। সাইফ হাসান দুটি উইকেট পেতে খরচ করেন ১৭ রান। শরীফুল ইসলামও দুটি উইকেট শিকার করেন, তবে তাঁর খরচ ছিল ৪৭ রান। জিম্বাবুয়ের ব্যাটিংয়ে আরভিনের ৯৩ রানের ইনিংসই ম্যাচের অন্যতম বড় পার্থক্য গড়ে দেয়। তাঁর পারফরম্যান্সের স্বীকৃতি হিসেবে ম্যাচসেরার পুরস্কারও পান তিনি।
এই হারে ত্রিদেশীয় সিরিজের ফাইনালে ওঠার পথ বাংলাদেশের জন্য কঠিন হয়ে পড়েছে। আগামী ২১ অক্টোবর আফগানিস্তানের বিপক্ষে পরের ম্যাচে জয়ের বিকল্প নেই বললেই চলে। শুধু জিতলেই হবে না, ফাইনালে ওঠার হিসাবেও নজর রাখতে হবে বাংলাদেশকে। এর আগে জিম্বাবুয়ে ও আফগানিস্তানের মধ্যকার ম্যাচের ফলও বাংলাদেশের সম্ভাবনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। জিম্বাবুয়ে জিতলে শেষ ম্যাচটি বাংলাদেশের জন্য কার্যত অলিখিত সেমিফাইনালে পরিণত হতে পারে।
প্রথম ম্যাচের হার বাংলাদেশের সামনে স্পষ্ট করে দিয়েছে, শুধু বোলিং দিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা গড়া সম্ভব নয়; ব্যাটিংয়েও ধারাবাহিকতা ও দায়িত্বশীলতা জরুরি। পরের ম্যাচে ঘুরে দাঁড়াতে হলে শুরুটা ভালো করার পাশাপাশি মাঝের ওভারগুলোতে উইকেট ধরে রাখা এবং চাপের মুখে ভুল কমানোই হবে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।

