বায়ার্ন মিউনিখের তারকাদের দীর্ঘদিনের আক্ষেপ অবশেষে ঘুচিয়েছেন হ্যারি কেইন। দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের স্বীকৃতি হিসেবে ফুটবলের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ ব্যক্তিগত পুরস্কার ব্যালন ডি’অর জিতে ইতিহাস গড়েছেন ইংল্যান্ডের এই ফরোয়ার্ড। তাঁর হাত ধরেই ৪৫ বছর পর জার্মান ক্লাবটির কোনো খেলোয়াড়ের কাছে ফিরল এই পুরস্কার।
সোমবার রাতে লন্ডনের প্যালাডিয়াম থিয়েটারে অনুষ্ঠিত ব্যালন ডি’অরের ৭০তম আসরে বর্ষসেরা পুরুষ ফুটবলার নির্বাচিত হন ৩৩ বছর বয়সী কেইন। এর আগে ১৯৮১ সালে বায়ার্নের হয়ে ব্যালন ডি’অর জিতেছিলেন কার্ল-হাইনৎস রুমেনিগে। দীর্ঘ অপেক্ষার পর এবার সেই তালিকায় নতুন করে যুক্ত হলো কেইনের নাম।
এই অর্জন শুধু বায়ার্নের জন্যই নয়, ইংলিশ ফুটবলের জন্যও বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। সর্বশেষ ২০০১ সালে মাইকেল ওয়েন এই পুরস্কার জিতেছিলেন। এরপর দীর্ঘ ২৫ বছর কোনো ইংলিশ ফুটবলার ব্যালন ডি’অর পাননি। কেইনের হাত ধরে সেই অপেক্ষারও অবসান ঘটল।
পুরস্কার জয়ের লড়াইয়ে কেইনকে কঠিন প্রতিদ্বন্দ্বিতার মুখে পড়তে হয়েছে। রিয়াল মাদ্রিদের কিলিয়ান এমবাপে ও বার্সেলোনার লামিনে ইয়ামালও ছিলেন আলোচনায়। শেষ পর্যন্ত ভোটাভুটিতে দ্বিতীয় হন এমবাপে, তৃতীয় স্থান পান ইয়ামাল। চতুর্থ হন রদ্রি। আটবারের ব্যালন ডি’অরজয়ী লিওনেল মেসি রয়েছেন পঞ্চম স্থানে।
গত মৌসুমে গোলের সামনে অসাধারণ ধারাবাহিকতা দেখিয়েছেন কেইন। বায়ার্ন মিউনিখের হয়ে ৫১ ম্যাচে তাঁর গোলসংখ্যা ৬১। ইংল্যান্ড জাতীয় দলের হয়ে করেছেন আরও ১২ গোল। সব মিলিয়ে ৬৫ ম্যাচে ৭৩ গোল করে মৌসুমজুড়ে নিজের কার্যকারিতা প্রমাণ করেছেন এই ফরোয়ার্ড।
ব্যক্তিগত সাফল্যের পাশাপাশি দলীয় অর্জনেও বড় অবদান ছিল তাঁর। কেইনের গোলের ওপর ভর করে বায়ার্ন জিতেছে বুন্দেসলিগা ও জার্মান কাপ। অন্যদিকে বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডকে তৃতীয় স্থানে পৌঁছে দিতে ছয়টি গোল করেন তিনি। ক্লাব ও জাতীয় দলের হয়ে এমন পারফরম্যান্সই তাঁকে ব্যালন ডি’অর জয়ের দৌড়ে এগিয়ে রাখে।
তবে বায়ার্নের ইতিহাসে দুর্দান্ত মৌসুম কাটিয়েও ব্যক্তিগত স্বীকৃতি না পাওয়ার নজির কম নেই। ২০১৩ সালে ক্লাবটিকে পাঁচটি শিরোপা জেতাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেও ব্যালন ডি’অর জিততে পারেননি ফ্রাঙ্ক রিবেরি। সেবার ভোটের সময়সীমা বাড়ানো নিয়ে বিতর্কের মধ্যেই পুরস্কার জেতেন ক্রিস্তিয়ানো রোনালদো। ওই বছর কোনো শিরোপা না জিতলেও ব্যক্তিগত পারফরম্যান্সের স্বীকৃতি পান তিনি। রিবেরিকে সন্তুষ্ট থাকতে হয় তৃতীয় স্থান নিয়ে।
ম্যানুয়েল নয়্যারও বিশ্বকাপ জয়ের পর ব্যালন ডি’অর পাননি। আর রবার্ট লেভানদোভস্কির দুর্দান্ত মৌসুমের পর ২০২০ সালে পুরস্কারটি বাতিল হওয়ায় তৈরি হয়েছিল ব্যাপক হতাশা।
বায়ার্নের এই অতীত অভিজ্ঞতাগুলোই কেইনের এবারের অর্জনকে আরও তাৎপর্যপূর্ণ করে তুলেছে। দীর্ঘদিন ধরে ব্যক্তিগত নৈপুণ্য দেখিয়েও পুরস্কার না পাওয়ার যে আক্ষেপ ক্লাবটির তারকাদের ঘিরে ছিল, কেইনের হাত ধরে আপাতত তার অবসান ঘটল।

