ঢাকা জাতীয় স্টেডিয়ামে আগামীকাল বৃহস্পতিবার শুরু হচ্ছে সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ। বল গড়ানোর আগেই টুর্নামেন্টের স্পন্সরশিপ, কমিশন ও বাণিজ্যিক স্বত্ব নিয়ে আলোচনা তৈরি হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, স্পন্সরশিপের অর্থ থেকে তিন কোটি টাকা কমিশন নেওয়া হয়েছে। এ অভিযোগে সাফ সভাপতি কাজী সালাউদ্দিন ও মাহফুজা আক্তার কিরনের নাম জড়িয়েছে। এর মধ্যে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সালাউদ্দিনের উপস্থিতি নিয়েও জটিলতা দেখা দিয়েছে। অভিযোগগুলো এখনো প্রমাণিত নয়, সংশ্লিষ্ট কেউ প্রকাশ্যে কোনো মন্তব্যও করেননি।
সূত্র জানায়, সাফের শিরোপা পৃষ্ঠপোষক প্রতিষ্ঠান টেকনো। স্পন্সরশিপের অঙ্ক ধরা হচ্ছে ১০ কোটি টাকা। এর মধ্য থেকে তিন কোটি টাকা কমিশন নেওয়ার অভিযোগের সঙ্গে সালাউদ্দিন ও কিরনের পাশাপাশি বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের (বাফুফে) দুজন কর্মকর্তার নামও আলোচনায় এসেছে। তবে টেকনোর কাছ থেকে মোট কত টাকা এসেছে, মধ্যস্থতাকারী কেউ কমিশন পেয়েছেন কি না এবং সেই অর্থের সুবিধাভোগী কারা, এসব বিষয়ে কেউ প্রকাশ্যে কথা বলতে চাননি।
সালাউদ্দিন দীর্ঘ ১৬ বছর বাফুফের সভাপতি ছিলেন। বর্তমানে তিনি সাফের সভাপতি। কিরনও দীর্ঘদিন দেশের ফুটবলের সঙ্গে যুক্ত। অভিযোগের বিষয়ে তাঁদের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
সূত্রের দাবি, বুধবার গভীর রাত পর্যন্ত সালাউদ্দিনের নিরাপত্তা ছাড়পত্র মেলেনি। আওয়ামী লীগ সরকারের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত হওয়ায় তাঁকে ‘ফ্যাসিস্টের দোসর’ বলে আখ্যায়িত করা হয়। সেই রাজনৈতিক পরিচয় ও অতীত বিতর্কের কারণেই তাঁর উপস্থিতি নিয়ে জটিলতা তৈরি হয়েছে বলে জানা গেছে। ফলে সাফের আয়োজনে হওয়া প্রতিযোগিতার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তাঁর থাকা হচ্ছে না।
বাণিজ্যিক স্বত্ব পাওয়া প্রতিষ্ঠান টিএসএকে ঘিরেও প্রশ্ন উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রমের নেপথ্যে বাফুফের এক প্রভাবশালী সহসভাপতি ভূমিকা রাখছেন। আওয়ামী লীগ আমলে বঙ্গবন্ধু, বঙ্গমাতা ও শেখ কামালের নামে আয়োজিত ফুটবল প্রতিযোগিতার ব্যবস্থাপনার সঙ্গেও তাঁর সম্পৃক্ততা ছিল বলে জানা যায়। তবে টিএসএর সঙ্গে তাঁর ব্যবসায়িক বা আর্থিক সম্পর্কের কোনো প্রমাণ সূত্রটি দিতে পারেনি।
বাফুফে সভাপতি তাবিথ আউয়াল বলেছেন, প্রতিযোগিতার পুরো ব্যবস্থাপনা সাফ করছে। স্বাগতিক ফেডারেশন হিসেবে বাফুফে শুধু সহযোগিতা করছে।
টুর্নামেন্ট শুরুর আগে এমন অভিযোগ ওঠায় আয়োজনের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। স্পন্সরশিপের অর্থ কোথায় গেছে এবং বাণিজ্যিক স্বত্ব কীভাবে দেওয়া হয়েছে, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট পক্ষ স্পষ্ট ব্যাখ্যা না দিলে বিতর্ক থেকেই যাবে। সূত্রের দাবির পক্ষে এখনো কোনো প্রমাণ সামনে আসেনি, তাই অভিযুক্তদের বক্তব্য ও নথিপত্র সামনে এলেই বিষয়টি পরিষ্কার হবে।

