এই তালিকায় রয়েছেন আর্জেন্টিনার লিওনেল মেসি, ফ্রান্সের জিনেদিন জিদান, জার্মানির টনি ক্রুস, ইতালির জিয়ানলুইজি বুফন, সুইডেনের জ্লাতান ইব্রাহিমোভিচ এবং ক্যামেরুনের রজার মিলা।
আজ বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) পর্তুগালের জাতীয় দল থেকে অবসরের ঘোষণা দিয়েছেন ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো। তাঁর ঘোষণার পর আবারও আলোচনায় এসেছে আন্তর্জাতিক ফুটবলে অবসর ভেঙে ফিরে আসা তারকাদের গল্প।
মেসি: হতাশা কাটিয়ে প্রত্যাবর্তন
২০১৬ সালের কোপা আমেরিকার ফাইনালে চিলির কাছে হারের পর আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে অবসরের ঘোষণা দেন লিওনেল মেসি। ফাইনালে টাইব্রেকারে পেনাল্টি মিস করার হতাশা থেকেই আর্জেন্টাইন অধিনায়ক এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন।
তবে ভক্তদের ভালোবাসা, সতীর্থদের অনুরোধ এবং জাতীয় দলের হয়ে খেলার আকাঙ্ক্ষা তাঁকে সিদ্ধান্ত পরিবর্তনে উৎসাহিত করে। মাত্র দুই মাসের মধ্যেই অবসর ভেঙে আর্জেন্টিনা দলে ফেরেন তিনি।
পরবর্তী সময়ে জাতীয় দলের হয়ে তাঁর সাফল্যের খাতায় যুক্ত হয় ২০২১ সালের কোপা আমেরিকা, ২০২২ সালের ফিনালিসিমা এবং ২০২২ সালের বিশ্বকাপ।
জিদান: অবসর ভেঙে বিশ্বকাপের ফাইনালে
ফ্রান্সের কিংবদন্তি জিনেদিন জিদানও আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে অবসরের সিদ্ধান্ত বদলেছিলেন। ২০০৪ সালের ইউরোতে গ্রিসের কাছে হেরে বিদায়ের পর জাতীয় দলকে বিদায় জানান তিনি।
তবে ২০০৫ সালের আগস্টে আবারও ফ্রান্সের জার্সিতে ফেরার ঘোষণা দেন জিদান। তাঁর সঙ্গে লিলিয়ান থুরাম ও ক্লদ মাকেলেলেও জাতীয় দলে ফিরে আসেন।
তাঁদের প্রত্যাবর্তনে শক্তিশালী হয়ে ওঠা ফ্রান্স ২০০৬ বিশ্বকাপের ফাইনালে পৌঁছায়। ইতালির বিপক্ষে সেই ফাইনালেই শেষবারের মতো আন্তর্জাতিক ফুটবলে খেলেন জিদান। যদিও টাইব্রেকারে হেরে শিরোপা হাতছাড়া হয় ফ্রান্সের।
টনি ক্রুস: ইউরো খেলে বিদায়
জার্মানির মিডফিল্ডার টনি ক্রুস ২০২১ সালের ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপের পর আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে অবসরের ঘোষণা দেন।
তবে প্রায় তিন বছর পর ২০২৪ সালে জার্মানির কোচের অনুরোধে আবারও জাতীয় দলে ফেরার সিদ্ধান্ত নেন তিনি। ঘরের মাঠে অনুষ্ঠিত ইউরো ২০২৪-এ জার্মানির হয়ে খেলেন এই বিশ্বকাপজয়ী তারকা।
স্পেনের কাছে কোয়ার্টার ফাইনালে হেরে টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নেয় জার্মানি। ওই ম্যাচের মধ্য দিয়েই জাতীয় দল ও পেশাদার ফুটবল- দুই পর্যায়েই নিজের ক্যারিয়ারের ইতি টানেন ক্রুস।
বুফন: বিদায়ের পর আবারও ইতালির গোলপোস্টে
ইতালির কিংবদন্তি গোলরক্ষক জিয়ানলুইজি বুফনও অবসর ভেঙে জাতীয় দলে ফিরেছিলেন। ২০১৭ সালে সুইডেনের কাছে হেরে ইতালি ২০১৮ বিশ্বকাপে জায়গা করে নিতে ব্যর্থ হলে আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে বিদায়ের ঘোষণা দেন তিনি।
তবে ২০১৮ সালের মার্চে আবারও জাতীয় দলে ফেরেন বুফন। ইংল্যান্ড ও আর্জেন্টিনার বিপক্ষে দুটি প্রীতি ম্যাচে ইতালির গোলপোস্ট সামলান এই অভিজ্ঞ গোলরক্ষক। এরপর অবশ্য আর দীর্ঘ সময় জাতীয় দলে খেলেননি তিনি।
ইব্রাহিমোভিচ: ৩৯ বছর বয়সে প্রত্যাবর্তন
সুইডেনের তারকা ফুটবলার জ্লাতান ইব্রাহিমোভিচ ২০১৬ সালের ইউরো চ্যাম্পিয়নশিপের পর আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে অবসরের ঘোষণা দেন।
তবে পাঁচ বছর পর ২০২১ সালে ৩৯ বছর বয়সে আবারও সুইডেনের জাতীয় দলে ফেরেন তিনি। বয়সের বাধা উপেক্ষা করে বিশ্বকাপ বাছাইপর্বসহ বিভিন্ন ম্যাচে দলের হয়ে খেলেন এই অভিজ্ঞ স্ট্রাইকার। তাঁর প্রত্যাবর্তন সুইডিশ ফুটবলে নতুন করে আলোচনার জন্ম দেয়।
রজার মিলা: ৩৮ বছর বয়সে বিশ্বকাপে চার গোল
ক্যামেরুনের কিংবদন্তি রজার মিলা অবসর ভেঙে ফেরার সবচেয়ে স্মরণীয় উদাহরণগুলোর একটি। ১৯৮৮ সালে আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে অবসর নিয়েছিলেন তিনি।
তবে দেশের তৎকালীন প্রেসিডেন্টের অনুরোধে ১৯৯০ বিশ্বকাপের আগে আবারও জাতীয় দলে ফেরেন। ৩৮ বছর বয়সে ইতালিতে অনুষ্ঠিত সেই বিশ্বকাপে চারটি গোল করেন মিলা। তাঁর অসাধারণ পারফরম্যান্সে ক্যামেরুন আফ্রিকার প্রথম দল হিসেবে বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে পৌঁছায়।
রোনালদো কি ফিরবেন কখনো?
আজ বৃহস্পতিবার আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে অবসরের ঘোষণা দিয়েছেন পর্তুগিজ মহাতারকা ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো। ৪১ বছর বয়সী এই ফরোয়ার্ড সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক ভিডিও বার্তায় জানিয়েছেন, নভেম্বরে আন্তর্জাতিক বিরতির পর জাতীয় দলের সাত নম্বর জার্সি ভবিষ্যৎ প্রজন্মের হাতে তুলে দেবেন।
পর্তুগালের হয়ে ২৩ বছরের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারে ২৩৪টি ম্যাচ খেলেছেন রোনালদো। গোল করেছেন ১৪৬টি। পুরুষদের আন্তর্জাতিক ফুটবলে ম্যাচ ও গোল—দুই রেকর্ডই তাঁর দখলে। ২০১৬ সালে পর্তুগালকে ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপ এবং ২০১৯ ও ২০২৫ সালে উয়েফা নেশনস লিগ জেতাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন তিনি।
তবে রোনালদোর এই সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত কি না, তা সময়ই বলে দেবে। মেসি, জিদান কিংবা ইব্রাহিমোভিচের মতো তিনিও কখনো সিদ্ধান্ত বদলে জাতীয় দলে ফিরবেন কি না, সেই সম্ভাবনা নিয়ে ভক্তদের মধ্যে আলোচনা থাকতেই পারে। আপাতত অবশ্য তাঁর ঘোষণায় পর্তুগালের হয়ে দীর্ঘ আন্তর্জাতিক অধ্যায়ের সমাপ্তি ঘটতে যাচ্ছে।

