বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) কাছে গেটমানি ও প্রচারস্বত্ব বাবদ বকেয়া অর্থ পরিশোধের দাবি জানিয়েছে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ (এনএসসি)। মঙ্গলবার (৯ এপ্রিল) বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসান পাপন বরাবর পাঠানো এক চিঠিতে এ দাবি জানান এনএসসির সচিব মো. আমিনুল ইসলাম।
চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, মন্ত্রিপরিষদের সিদ্ধান্ত এবং যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী, যেকোনো ফেডারেশন বা অ্যাসোসিয়েশন আয়োজিত খেলার টিকিট (গেটমানি) বিক্রির ১৫ শতাংশ এবং বিপণন ও প্রচারস্বত্ব থেকে প্রাপ্ত আয়ের (ভ্যাট ও আয়কর বাদে) ১০ শতাংশ জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের পাওয়ার কথা।
২০০৭ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত বিসিবি মাত্র ২ কোটি ৪২ লাখ ৭৭ হাজার ৩৪৭ টাকা গেটমানি বাবদ এনএসসিকে দিয়েছে। এনএসসির দাবি, এটি বাস্তব আয় ও হিস্যার তুলনায় অনেক কম। বিশেষ করে, প্রচারস্বত্ব বাবদ জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ এখনো কোনো অর্থই পায়নি।
এনএসসির তথ্যমতে, ২০১৯-২০২২ অর্থবছরে বিসিবি গেটমানির খাত থেকে ৫৩ লাখ ৪৫ হাজার ৯৭৭ টাকা দিয়েছে। অথচ সাম্প্রতিক বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগে (বিপিএল) ১০ কোটি টাকার বেশি টিকিট বিক্রি হয়েছে- যার ১৫ শতাংশ হিসাবেই এক কোটি টাকার বেশি পাওয়ার কথা ক্রীড়া পরিষদের। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক ও ঘরোয়া অনেক সিরিজের আয় হিসাবেও জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের প্রাপ্য আরো বড় অঙ্কের।
এছাড়া, বিসিবি নিয়মিত এই দুই খাতে অর্থ না দেওয়ায় এনএসসি নিয়মিত অডিট আপত্তির মুখে পড়ছে বলেও জানানো হয় চিঠিতে।
চিঠিতে বিসিবির কাছে ২০২২-২৩ অর্থবছর থেকে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক ম্যাচের গেটমানির ১৫ শতাংশ এবং প্রচারস্বত্ব আয়ের ১০ শতাংশ পরিশোধের পাশাপাশি সম্পূর্ণ আর্থিক হিসাবও চাওয়া হয়েছে।
অভিযোগ রয়েছে, বিসিবি কখনোই এই দুই খাতের সঠিক হিসাব ক্রীড়া পরিষদকে দেয় না। অন্যদিকে, অভিভাবক সংস্থা হয়েও এনএসসি তা আদায়ে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে ব্যর্থ হয়েছে বারবার।
উল্লেখ্য, ২০০৬ সালে এনএসসি বিসিবিকে পাঁচটি স্টেডিয়াম বরাদ্দ দেয়। সে সময় শর্ত ছিল- এসব স্টেডিয়ামের সংস্কার ব্যয় বিসিবিকেই বহন করতে হবে। কিন্তু বাস্তবে দেখা গেছে, উল্টো বিসিবি বিভিন্ন ব্যয় দেখিয়ে এনএসসির কাছে টাকা চেয়ে চিঠি দিয়েছে।
সর্বশেষ চিঠিতে বিসিবির কাছে এনএসসি দাবি করেছে, নির্ধারিত অনুপাতে গেটমানি ও প্রচারস্বত্বের পূর্ণাঙ্গ ও নির্ভরযোগ্য হিসাব দ্রুত প্রদান করতে হবে।

