২০২৫ সালের ৫ আগস্টের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের পর পাল্টে যায় দেশের রাজনৈতিক দৃশ্যপট। বিগত সরকার প্রধানের দেশত্যাগের সঙ্গে সঙ্গে পরিবর্তনের ছোঁয়া লাগে ক্রীড়াঙ্গনেও। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) পায় নতুন সভাপতি, আর একইসঙ্গে প্রধান কোচ চন্ডিকা হাথুরুসিংহের বিদায় হয় হঠাৎভাবেই।
বিসিবির নতুন সভাপতি ফারুক আহমেদ দায়িত্ব নিয়েই হাথুরুসিংহেকে কোচের পদ থেকে সরিয়ে দেন। ২০২৩ সালের ভারত বিশ্বকাপ চলাকালে স্পিনার নাসুম আহমেদকে শারীরিকভাবে হেনস্তার অভিযোগ এবং আরও কিছু আচরণগত সমস্যার কারণে হাথুরুকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেয় বিসিবি। তার জবাব ‘অগ্রহণযোগ্য’ উল্লেখ করে চুক্তিও বাতিল করে দেওয়া হয়।
সম্প্রতি অস্ট্রেলিয়ান সংবাদমাধ্যম ‘কোড স্পোর্টস’-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে হাথুরুসিংহে বলেন, দেশের পরিস্থিতি এবং বিসিবির আচরণ তাকে প্রাণনাশের ভয় পাইয়ে দিয়েছিল।
তিনি বলেন, “সিইও নিজাম উদ্দিন আমাকে বলেন- আপনার এখান থেকে চলে যাওয়া উচিত, কাউকে কিছু বলার দরকার নেই। তখনই বিষয়টা ভয়ংকর মনে হলো।”
তিনি আরো বলেন, টিভিতে চাকরিচ্যুতির খবর প্রচার হওয়ার সময় তিনি ব্যাংকে ছিলেন। ব্যাংক কর্মকর্তাই তাকে সতর্ক করে দেন যে রাস্তায় কেউ চিনে ফেললে বিপদ হতে পারে। “ব্যাংকের ম্যানেজার নিজেই বলেছিলেন- কোচ, আমি আপনার সঙ্গে যাব। মানুষ আপনাকে রাস্তায় দেখলে বিপদ হবে” বলেন হাথুরু।
এরপর তিনি হুডি ও টুপি পরে গোপনে বিমানবন্দরে যান। কোনো নিরাপত্তা ছাড়াই মধ্যরাতের সিঙ্গাপুর এয়ারলাইনসের ফ্লাইটে দেশ ছাড়েন।
তিনি আরো বলেন, “আমার ভয় হচ্ছিল যে, বিমানবন্দরে গ্রেপ্তার করা হতে পারে। এমনকি বাংলাদেশে আগের সরকারের এক মন্ত্রীর ক্ষেত্রেও বিমান থামিয়ে তাকে নামানো হয়েছিল। এসবই তখন মাথায় ঘুরছিল।”
হাথুরুসিংহের এসব দাবি নিয়ে বিসিবির পক্ষ থেকে এখনও আনুষ্ঠানিক কোনো মন্তব্য আসেনি। তবে এই সাক্ষাৎকার ঘিরে দেশের ক্রিকেট মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে নতুন করে।

