দেশের খাদ্য উৎপাদনের মূল ভরসা কৃষক। কিন্তু তাঁদের স্বাস্থ্য নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে একটি জরিপের তথ্য। ২০২১ সালে জাতীয় ক্যান্সার গবেষণা ইনস্টিটিউটের পরিচালিত এক জরিপে দেখা যায়, হাসপাতালে ভর্তি প্রতি ১০০ জন পুরুষ ক্যান্সার রোগীর মধ্যে প্রায় ৬৪ জন কোনো না কোনোভাবে কৃষিকাজের সঙ্গে সম্পৃক্ত।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিসংখ্যান কৃষকদের স্বাস্থ্যঝুঁকির বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে। তবে এর অর্থ এই নয় যে কৃষিকাজ বা কীটনাশকই ক্যান্সারের একমাত্র কারণ। ক্যান্সার একটি বহুমাত্রিক রোগ, যার পেছনে বিভিন্ন ধরনের ঝুঁকির কারণ কাজ করতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, দীর্ঘ সময় ধরে কীটনাশক ও অন্যান্য কৃষি রাসায়নিকের সংস্পর্শে থাকা, পর্যাপ্ত সুরক্ষা সরঞ্জাম ছাড়া জমিতে স্প্রে করা এবং বিষাক্ত রাসায়নিকের দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব কৃষকদের ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়াতে পারে। তবে শুধু কীটনাশক ব্যবহারের কারণেই কৃষকদের ক্যান্সার হচ্ছে—এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর মতো চূড়ান্ত বৈজ্ঞানিক প্রমাণ এখনো প্রতিষ্ঠিত হয়নি।
জনস্বাস্থ্য সংশ্লিষ্টরা মনে করেন, কৃষকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে মাঠপর্যায়ে সচেতনতা বাড়ানো, ব্যক্তিগত সুরক্ষা সরঞ্জামের ব্যবহার নিশ্চিত করা এবং কৃষি রাসায়নিক ব্যবহারে নিরাপদ পদ্ধতি অনুসরণ করা জরুরি। একই সঙ্গে তাঁদের জন্য নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও সহজলভ্য চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করার ওপরও গুরুত্ব দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।
দেশের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে যাঁরা প্রতিদিন মাঠে পরিশ্রম করছেন, তাঁদের সুস্বাস্থ্য রক্ষা করাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। তাই নিরাপদ কৃষি চর্চা ও কৃষকদের স্বাস্থ্যসুরক্ষায় কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার দাবি দিন দিন আরও জোরালো হচ্ছে।

