মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে বিদ্যুৎ চলে গেলেই নেমে আসে ঘোর অন্ধকার। পঞ্চাশ শয্যার এই হাসপাতালে লোডশেডিং এখন প্রায় নিত্যদিনের ঘটনা, আর রাতের বেলা বিদ্যুৎ না থাকলে জরুরি বিভাগে চিকিৎসকদের কাজ চালাতে হয় মোমবাতির আলোয়—যা রোগীর নিরাপত্তা ও চিকিৎসাসেবার মান নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তুলে দিচ্ছে।
গত বুধবার রাত নয়টার দিকে সরেজমিন দেখা যায়, বিদ্যুৎ না থাকায় হাসপাতালের জরুরি বিভাগের কক্ষ এবং মেডিকেল অফিসারের কক্ষ পুরোপুরি অন্ধকারে ডুবে আছে। দুই কক্ষেই মোমবাতি জ্বালিয়ে রোগী দেখছিলেন চিকিৎসক ও নার্সরা।
জরুরি বিভাগের দায়িত্বে থাকা এক চিকিৎসক জানান, বিদ্যুৎ চলে গেলেই তাঁদের পুরোপুরি অন্ধকারে পড়ে যেতে হয়। জেনারেটর ও আইপিএস কেন কাজ করছে না—এই প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এ বিষয়ে সদুত্তর দিতে পারবেন তাঁর ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষই।
হাসপাতালে সেবা নিতে আসা মানুষজনের অভিযোগ, স্বাস্থ্য কর্মকর্তার কক্ষে শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্র চালু থাকলেও দোতলার ভর্তি রোগীদের বারান্দায় চিকিৎসাধীনদের জন্য সাধারণ একটি ফ্যানেরও ব্যবস্থা নেই। হাসপাতালে আইপিএস ও জেনারেটর থাকলেও দুটিই অকেজো অবস্থায় পড়ে আছে বহুদিন ধরে।
অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগে হাসপাতাল থেকে আইপিএসের ব্যাটারি চুরি হয়ে যাওয়ার একটি ঘটনা ঘটেছিল, যার প্রেক্ষিতে একটি তদন্ত কমিটিও গঠন করা হয়। কিন্তু সেই তদন্তের পর কার্যকর কোনো পদক্ষেপ এখনো চোখে পড়েনি।
স্থানীয় বাসিন্দারা এ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, উপজেলার একমাত্র সরকারি হাসপাতালে রাতের বেলা পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থাও না থাকা অত্যন্ত হতাশাজনক একটি বিষয়। এ প্রসঙ্গে জানতে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তার সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি সাড়া দেননি।
তবে শ্রীমঙ্গল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, হাসপাতালে আইপিএস ও জেনারেটর থাকার কথা থাকলেও কেন তা সচল নেই, সে বিষয়ে স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তার সঙ্গে আলোচনা করে দ্রুত সমাধানের ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

