দেশে হামের প্রাদুর্ভাব এখনো নিয়ন্ত্রণে আসেনি, একই সঙ্গে বাড়ছে প্রাণহানির সংখ্যাও। সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে আরও চারজনের মৃত্যু হয়েছে, যা নিয়ে গত ১৫ মার্চ থেকে শুরু হওয়া এই প্রাদুর্ভাবে মোট মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৯৮৩ জনে।
আজ বুধবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়মিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়েছে। বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, গতকাল মঙ্গলবার সকাল ৮টা থেকে আজ সকাল ৮টা পর্যন্ত সময়ে মারা যাওয়া চারজনের মধ্যে তিনজনই ঢাকা বিভাগের বাসিন্দা, বাকি একজন ময়মনসিংহ বিভাগের।
সবমিলিয়ে হিসাব করলে দেখা যায়, শুধু হামের উপসর্গ নিয়েই এখন পর্যন্ত মারা গেছেন ৮৮৪ জন, আর সরাসরি হাম শনাক্তের পর মৃত্যু হয়েছে আরও ৯৯ জনের।
সংক্রমণের গতিও থামেনি এখনো। সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় সারা দেশে নতুন করে ১ হাজার ৩৪ জনের শরীরে হামের উপসর্গ দেখা গেছে, আর পরীক্ষায় ৬৩ জনের সংক্রমণ নিশ্চিত হয়েছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সামগ্রিক পরিসংখ্যান বলছে, ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত দেশজুড়ে সন্দেহভাজন হাম রোগীর সংখ্যা পৌঁছেছে প্রায় এক লাখ ষাট হাজারে, আর নিশ্চিতভাবে শনাক্ত রোগীর সংখ্যা প্রায় উনিশ হাজার সাড়ে চারশ। এই সময়ের মধ্যে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন প্রায় এক লাখ চল্লিশ হাজার রোগী, যাদের মধ্যে সুস্থ হয়ে ছাড়পত্র পেয়েছেন প্রায় এক লাখ পঁয়ত্রিশ হাজার জন।
তবে নিয়মিত এই পরিসংখ্যানে আক্রান্তদের বয়সভিত্তিক বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায় না। এ বিষয়ে রোগতত্ত্ববিদেরা বলছেন, হাম সব বয়সের মানুষকেই আক্রান্ত করতে পারে, তবে শিশুরাই এই রোগে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে থাকে। প্রাদুর্ভাব চলাকালীন হামের উপসর্গ নিয়ে ঘটা প্রতিটি মৃত্যুকেই হাম-সম্পর্কিত মৃত্যু হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, এই মাত্রায় দীর্ঘস্থায়ী প্রাদুর্ভাব এবং ক্রমাগত প্রাণহানি নির্দেশ করছে যে টিকাদান কার্যক্রম আরও জোরদার এবং সচেতনতামূলক উদ্যোগ আরও ব্যাপক পরিসরে চালানো প্রয়োজন, বিশেষত শিশুদের সুরক্ষার ক্ষেত্রে।

