ক্যানসার নিয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে সচেতনতা তৈরি এবং তাদেরকে রোগীকল্যাণমূলক স্বেচ্ছাসেবী কাজে যুক্ত করার উদ্দেশ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ চুক্তিতে সই করেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। বাংলাদেশ ক্যানসার এইড ট্রাস্ট নামের একটি সংস্থার সঙ্গে এই সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে রোববার, বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের সভাকক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে।
চুক্তিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষে সই করেন প্রতিষ্ঠানটির কোষাধ্যক্ষ, আর অংশীদার সংস্থার পক্ষে সই করেন এর প্রতিষ্ঠাতা ও নির্বাহী পরিচালক। অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের স্টুডেন্ট প্রমোশন অ্যান্ড সাপোর্ট ইউনিটের উপদেষ্টা, ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রারসহ অংশীদার সংস্থার প্রকল্প পরিচালক ও ব্যবস্থাপনা পর্যায়ের কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে কোষাধ্যক্ষ বলেন, শিক্ষার্থীদের শুধু পাঠ্যবইয়ের জ্ঞানেই সীমাবদ্ধ না রেখে মানবিকতা ও সামাজিক দায়বদ্ধতার চর্চায় সম্পৃক্ত করা জরুরি। এই সহযোগিতার মধ্য দিয়ে শিক্ষার্থীরা একদিকে যেমন ক্যানসার সম্পর্কে সচেতন হবে, অন্যদিকে রোগী ও তাদের পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর বাস্তব অভিজ্ঞতাও অর্জন করবে। তার ভাষায়, এই উদ্যোগ শিক্ষার্থীদের মধ্যে নেতৃত্বের মানসিকতা ও সহানুভূতিশীল দৃষ্টিভঙ্গি গড়ে তুলতে সহায়ক হবে।
চুক্তি অনুযায়ী, অংশীদার সংস্থার নিজস্ব স্বেচ্ছাসেবী প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে ঢাবি শিক্ষার্থীদের স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে নিবন্ধন করানো হবে। এজন্য ক্যাম্পাসে কর্মসূচি প্রচার, আগ্রহীদের নাম নথিভুক্তকরণ এবং তাদের জন্য ওরিয়েন্টেশন ও প্রশিক্ষণের আয়োজন করা হবে বলে জানানো হয়েছে।
এই সহযোগিতার আওতায় ক্যাম্পাসে বিভিন্ন সচেতনতামূলক সেমিনার, কর্মশালা ও প্রচারাভিযান চালানো হবে, পাশাপাশি অনলাইনেও চলবে সচেতনতামূলক কার্যক্রম। জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে পালিত বিভিন্ন ক্যানসার দিবস ঘিরেও বিশেষ কর্মসূচি নেওয়া হবে।
প্রশিক্ষণ শেষে শিক্ষার্থী স্বেচ্ছাসেবকরা ক্যানসার রোগী ও তাদের পরিবারকে মানসিক সহায়তা, সঙ্গ দান এবং বিনোদনমূলক নানা কার্যক্রমে যুক্ত রাখতে পারবেন। তবে স্পষ্ট করে বলা হয়েছে, যথাযথ যোগ্যতা বা অনুমোদন ছাড়া কোনো স্বেচ্ছাসেবক চিকিৎসা পরামর্শ দিতে পারবেন না বা রোগ নির্ণয়ের মতো কাজে জড়াতে পারবেন না—তাদের ভূমিকা শুধু অ-চিকিৎসামূলক সহায়তার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে।
রোগীদের ব্যক্তিগত গোপনীয়তা রক্ষার বিষয়টিতেও বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছে দুই পক্ষ। সংশ্লিষ্ট রোগী বা তার পরিবারের সম্মতি ছাড়া কোনো ছবি, ভিডিও কিংবা ব্যক্তিগত ও চিকিৎসাসংক্রান্ত তথ্য প্রকাশ না করার শর্তও রাখা হয়েছে চুক্তিতে। তিন বছর মেয়াদি এই সমঝোতা স্মারক ভবিষ্যতে উভয় পক্ষের লিখিত সম্মতিতে নবায়নযোগ্য হবে বলে জানানো হয়েছে।

