রাজধানীর কুয়েত-বাংলাদেশ মৈত্রী সরকারি হাসপাতাল আকস্মিক পরিদর্শনে গিয়ে সার্বিক ব্যবস্থাপনা ও পরিচ্ছন্নতার পরিস্থিতি দেখে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। হাসপাতালের পরিবেশ ও পরিচ্ছন্নতা ব্যবস্থার উন্নয়নে তিনি সাত দিনের সময় বেঁধে দিয়েছেন। শনিবার সকালে ডেঙ্গু পরিস্থিতি, চিকিৎসাসেবার মান ও পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম সরেজমিনে দেখতে তিনি রাজধানীর বিভিন্ন হাসপাতাল, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সরকারি ভবনে এই আকস্মিক পরিদর্শন করেন।
কুয়েত-বাংলাদেশ মৈত্রী সরকারি হাসপাতালে প্রধানমন্ত্রী চিকিৎসাধীন রোগীদের সঙ্গে কথা বলেন এবং তাঁদের চিকিৎসাসেবা নিয়ে খোঁজখবর নেন। এ সময় তিনি হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যাকেন্দ্র (আইসিইউ), অস্ত্রোপচারকক্ষসহ বিভিন্ন বিভাগ ঘুরে দেখেন। পরিদর্শনে যে পরিস্থিতি তাঁর চোখে পড়েছে, তাতে সন্তুষ্ট হতে পারেননি বলে জানা গেছে। তবে ঠিক কোন কোন জায়গায় ঘাটতি পাওয়া গেছে, তার বিস্তারিত প্রকাশ করা হয়নি।
হাসপাতাল পরিদর্শনের পর প্রধানমন্ত্রী যান রাজউক উত্তরা মডেল কলেজে। সেখানে তিনি শিক্ষক, শিক্ষার্থী এবং বাংলাদেশ ন্যাশনাল ক্যাডেট কোর (বিএনসিসি) ও স্কাউটের সদস্যদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। আলোচনার মূল বিষয় ছিল ডেঙ্গুর প্রকোপ, প্রতিরোধের উপায় এবং পরিচ্ছন্ন পরিবেশ বজায় রাখতে শিক্ষার্থীদের ভূমিকা।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বছরের এ সময়ে, বিশেষ করে নভেম্বর পর্যন্ত ডেঙ্গুর প্রকোপ বেড়ে যায়। প্রতিবছর বহু মানুষ ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হন, অনেকের মৃত্যুও হয়। তাঁর মতে, এই পরিস্থিতি মোকাবিলার সবচেয়ে কার্যকর উপায় প্রতিরোধ, আর প্রতিরোধ নিশ্চিত করতে হলে নিজেদের চারপাশ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা জরুরি। শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, এ কাজে তিনি তাদের সহায়তা চান।
প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, দেশের বিপুলসংখ্যক তরুণ যদি নিজেদের আশপাশ পরিচ্ছন্ন রাখার দায়িত্ব নেয়, তাহলে ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও পরিবেশ রক্ষায় বড় পরিবর্তন আনা সম্ভব। এর জন্য শিক্ষার্থীদের নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান তিনি।
রাজধানীর পরিচ্ছন্নতার বাস্তবতা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ঢাকা একটি বিশাল শহর, যেখানে দুই থেকে আড়াই কোটির বেশি মানুষ বসবাস করেন। সিটি করপোরেশনের পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা নিয়মিত কাজ করলেও তাঁদের সক্ষমতার সীমাবদ্ধতা আছে। ফলে শুধু সিটি করপোরেশন বা প্রশাসনের ওপর নির্ভর করে নগরীকে পরিচ্ছন্ন রাখা সম্ভব নয়। প্রত্যেক নাগরিককে নিজের দায়িত্ব বুঝে নিতে হবে।
শিক্ষার্থীদের নাগরিক দায়িত্বের কথা স্মরণ করিয়ে তিনি বলেন, স্কাউট, গার্ল গাইড বা রেড ক্রিসেন্টের সদস্য হোক বা না হোক, সবাই এ দেশের নাগরিক এবং দেশের ভবিষ্যৎ। তাই নিজের বাসা, স্কুল, পাড়া ও আশপাশ পরিষ্কার রাখার দায়িত্ব তাদেরও নিতে হবে।
এই পরিদর্শনের দুটি দিক স্পষ্ট। একদিকে সরকারি হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা ও পরিচ্ছন্নতা নিয়ে সরাসরি জবাবদিহির বার্তা দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে ডেঙ্গু প্রতিরোধে প্রশাসনের পাশাপাশি নাগরিক ও শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। হাসপাতালে পরিচ্ছন্নতার ঘাটতি ডেঙ্গুর মৌসুমে বাড়তি ঝুঁকি তৈরি করতে পারে, কারণ এ সময় রোগীর চাপ বেশি থাকে।
সাত দিনের সময়সীমা শেষে হাসপাতালের পরিস্থিতিতে কতটা পরিবর্তন আসে, সেদিকে নজর থাকবে। তবে সময়সীমা পার হওয়ার পর কী ধরনের পর্যবেক্ষণ বা ব্যবস্থা নেওয়া হবে, সে বিষয়ে এখন পর্যন্ত কিছু জানানো হয়নি।

