দেশে হামের প্রকোপ এখনো উদ্বেগজনক পর্যায়ে রয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে আরও দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে চলতি বছর উপসর্গ নিয়ে মারা গেছে ১ হাজার ১০৩ জন। এ ছাড়া হাম শনাক্ত হওয়ার পর মারা গেছে ১০৪ জন। সব মিলিয়ে হামজনিত মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ২০৭ জনে। বৃহস্পতিবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের বুলেটিনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। সর্বশেষ মারা যাওয়া দুজনই ঢাকা বিভাগের বাসিন্দা।
বিভাগভিত্তিক হিসাবে উপসর্গ নিয়ে সবচেয়ে বেশি মৃত্যু হয়েছে ঢাকা বিভাগে, ৪৯৬ জন। এরপর সিলেটে ১৯৪, চট্টগ্রামে ১০২, রাজশাহীতে ৯৩, ময়মনসিংহে ৮৫, বরিশালে ৬৫, খুলনায় ৫১ ও রংপুর বিভাগে ১৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। অর্থাৎ মোট মৃত্যুর প্রায় অর্ধেক ঢাকা বিভাগে, আর সিলেট বিভাগে মৃত্যুর সংখ্যা তুলনামূলক বেশি।
বুলেটিন অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় দেশের বিভিন্ন স্থানে ৯৯৫ জন হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে এসেছে, যার মধ্যে ৯১৩ জন ভর্তি হয়েছে। এই সময়ে ৩৬ জনের শরীরে হাম শনাক্ত হয়েছে। নতুন ভর্তি রোগীদের মধ্যে ঢাকা বিভাগে ৩০২, চট্টগ্রামে ১৯৩, সিলেটে ১২৫, বরিশালে ৯৪, খুলনায় ৮১, ময়মনসিংহে ৬৩, রংপুরে ৩০ ও রাজশাহীতে ২৩ জন।
চলতি বছর এ পর্যন্ত হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ১ লাখ ৯৩ হাজার ৬০৮ জন। এর মধ্যে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে ১ লাখ ৮৫ হাজার ৯২৭ জন। হামের উপসর্গ নিয়ে মোট রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ১৭ হাজার ৭৬০, যাদের মধ্যে ২৩ হাজার ২৪৮ জনের হাম নিশ্চিত হয়েছে।
পরিসংখ্যান বলছে, প্রতিদিন গড়ে হাজারের কাছাকাছি রোগী হাসপাতালে আসছে। এর মধ্যে খুব অল্প সংখ্যকের পরীক্ষায় হাম শনাক্ত হচ্ছে, ফলে বেশির ভাগ মৃত্যুই উপসর্গভিত্তিক হিসাবে গণনা হচ্ছে। এতে রোগ নির্ণয় ও নমুনা পরীক্ষার সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। একই সঙ্গে ভর্তি রোগীদের বড় অংশ সেরে ওঠার তথ্য আশার দিক হলেও মৃত্যু ঠেকাতে টিকাদান জোরদার, দ্রুত চিকিৎসা ও সংক্রমণ প্রতিরোধের উদ্যোগ আরও বাড়ানো জরুরি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

