দেশে হামের উপসর্গ নিয়ে গত ২৪ ঘণ্টায় আরও পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে। তবে এ সময়ে নিশ্চিত হামে কারও মৃত্যুর খবর নেই। আজ রোববার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের দেওয়া এক বার্তায় এ তথ্য জানানো হয়েছে। হিসাবটি গতকাল শনিবার সকাল ৮টা থেকে আজ সকাল ৮টা পর্যন্ত সময়ের।
অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ১৫ মার্চ থেকে আজ পর্যন্ত হাম ও এর উপসর্গ নিয়ে মোট ১ হাজার ২২৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে নিশ্চিত হামে মারা গেছেন ১০৪ জন। বাকি ১ হাজার ১২৩ জনের মৃত্যু হয়েছে হামের উপসর্গ নিয়ে।
গত ২৪ ঘণ্টায় যাঁরা উপসর্গ নিয়ে মারা গেছেন, তাঁদের মধ্যে চট্টগ্রাম বিভাগে দুজন এবং ঢাকা, সিলেট ও ময়মনসিংহ বিভাগে একজন করে রয়েছেন।
একই সময়ে নতুন করে ৭৬ জনের হাম শনাক্ত হয়েছে। এ নিয়ে চলতি বছর মোট ২৩ হাজার ৪০০ জনের শরীরে হাম নিশ্চিত হলো। এ ছাড়া নতুন করে ১ হাজার ২৮০ জনের মধ্যে হামের উপসর্গ পাওয়া গেছে। ফলে মোট সন্দেহভাজন রোগীর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ২১ হাজার ১৬৪ জনে।
পরিসংখ্যানে একটি বিষয় স্পষ্ট। মৃত্যুর বড় অংশই উপসর্গভিত্তিক, নিশ্চিত শনাক্তকরণের বাইরে। মোট ১ হাজার ২২৭ মৃত্যুর মধ্যে ১ হাজার ১২৩টিই উপসর্গ নিয়ে। এতে বোঝা যায়, অনেক রোগীর ক্ষেত্রে পরীক্ষার মাধ্যমে হাম নিশ্চিত করা সম্ভব হচ্ছে না। ফলে প্রকৃত সংক্রমণ ও মৃত্যুর চিত্র নিশ্চিত সংখ্যার চেয়ে বড় হতে পারে। তবে বার্তায় পরীক্ষার সীমাবদ্ধতা নিয়ে কিছু বলা হয়নি।
আরেকটি দিক হলো, নিশ্চিত শনাক্ত ২৩ হাজার ৪০০ জনের তুলনায় সন্দেহভাজন রোগী প্রায় ২ লাখ ২১ হাজার। অর্থাৎ বড় একটি অংশের ক্ষেত্রে পরীক্ষায় নিশ্চিত হওয়ার তথ্য নেই। এটি নজরদারি ও পরীক্ষার পরিসর নিয়ে প্রশ্ন তোলে। বিভাগভিত্তিক মৃত্যুর তথ্যে দেখা যায়, সংক্রমণ কোনো একটি অঞ্চলে সীমাবদ্ধ নয়। চার বিভাগেই গত এক দিনে মৃত্যু হয়েছে।
হাম টিকায় প্রতিরোধযোগ্য রোগ। বিশেষজ্ঞেরা সাধারণত শিশুদের সময়মতো টিকা নিশ্চিত করা এবং উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়ার পরামর্শ দেন। তবে চলতি বছর সংক্রমণ বাড়ার কারণ বা টিকাদান কার্যক্রম নিয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের বার্তায় কোনো তথ্য নেই। আপাতত নজর থাকছে আগামী দিনগুলোয় নতুন শনাক্ত ও মৃত্যুর প্রবণতার দিকে।

