সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিতর্কিত কনটেন্ট নতুন কিছু নয়, তবে এবার বিষয়টি সরাসরি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প-কে ঘিরে। তীব্র সমালোচনার মুখে পড়ে নিজের প্ল্যাটফর্ম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’ থেকে একটি আলোচিত ছবি সরিয়ে নিতে বাধ্য হয়েছেন তিনি।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দিয়ে তৈরি ওই ছবিতে ট্রাম্পকে যিশু খ্রিস্টের মতো এক অলৌকিক অবয়বে দেখা যায়। সেখানে তিনি একটি হাসপাতালের বিছানায় শুয়ে থাকা অসুস্থ ব্যক্তিকে স্পর্শ করে সুস্থ করে তুলছেন—যা অনেকের মতে ধর্মীয় প্রতীকের সঙ্গে সরাসরি তুলনীয়।
ছবিটি প্রকাশের পরপরই যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক অঙ্গন থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষের মধ্যেও ব্যাপক প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়। এমনকি ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ সমর্থক ও রক্ষণশীল মহলের মধ্যেও এ নিয়ে অসন্তোষ দেখা যায়, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তোলে।
এই বিতর্কিত পোস্টের ঠিক কয়েক ঘণ্টা আগেই ট্রাম্প সামাজিক মাধ্যমে একটি দীর্ঘ বার্তায় সমালোচনা করেছিলেন পোপ চতুর্দশ লিও-কে। বিশেষ করে ইরান ইস্যুতে পোপের অবস্থানকে তিনি কঠোর ভাষায় আক্রমণ করেন। উল্লেখ্য, পোপ লিও ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক অভিযানের কড়া সমালোচক হিসেবে পরিচিত।
পরে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে ট্রাম্প ছবিটি পোস্ট করার কথা স্বীকার করেন, তবে তার ব্যাখ্যা ছিল ভিন্ন। তিনি দাবি করেন, ছবিটিতে তাকে একজন চিকিৎসকের মতো দেখানো হয়েছে বলে তিনি ভেবেছিলেন। তার ভাষায়, এটি এমন একজনের ছবি, যিনি মানুষকে সুস্থ করছেন—এবং তিনি নিজেও মানুষকে উন্নতির পথে নিয়ে যান।
ছবিটির ভিজ্যুয়াল উপস্থাপনাও কম আলোচিত হয়নি। সেখানে সাদা আলখাল্লা পরিহিত ট্রাম্পের চারপাশে দেখা যায় স্ট্যাচু অব লিবার্টি, উড়ন্ত মার্কিন পতাকা, যুদ্ধবিমান, ঈগল এবং চিকিৎসা ও সামরিক পেশার প্রতিনিধিত্বকারী কয়েকজন চরিত্র। এই পুরো দৃশ্যটি অনেকের কাছে ধর্মীয় চিত্রকর্মের আধুনিক রূপান্তর হিসেবে মনে হয়েছে, যা থেকেই বিতর্কের সূত্রপাত।
সমালোচনা শুধু সাধারণ মানুষের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল না। খ্রিস্টান অ্যাক্টিভিস্ট শন ফিউচ এই ছবিকে ‘অগ্রহণযোগ্য’ বলে মন্তব্য করে দ্রুত সরানোর আহ্বান জানান। রক্ষণশীল কর্মী রাইলি গেইনসও সামাজিক মাধ্যমে বলেন, ধর্মীয় প্রতীককে এভাবে ব্যবহার করা উচিত নয়। এমনকি খ্রিস্টান ব্রডকাস্টিং নেটওয়ার্কের সাংবাদিক ডেভিড ব্রডিও মন্তব্য করেন, এটি গ্রহণযোগ্যতার সীমা অতিক্রম করেছে।
চাপের মুখে পড়ে অবশেষে ছবিটি সরিয়ে ফেলেন ট্রাম্প। পরে সিবিএস নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, মানুষ বিভ্রান্ত হচ্ছিল, আর তিনি কাউকে বিভ্রান্ত করতে চান না—এই কারণেই পোস্টটি মুছে দেওয়া হয়েছে।
এই ঘটনা আবারও প্রমাণ করে, রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদের সামাজিক মাধ্যম ব্যবহার এখন কতটা সংবেদনশীল একটি বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশেষ করে ধর্মীয় প্রতীক বা বিশ্বাসের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কোনো উপস্থাপনা মুহূর্তেই জনমতকে প্রভাবিত করতে পারে এবং তা বড় ধরনের বিতর্কের জন্ম দিতে পারে।
সবশেষে বলা যায়, ট্রাম্পের এই পদক্ষেপ কেবল একটি পোস্ট মুছে ফেলা নয়, বরং এটি আধুনিক রাজনীতিতে ইমেজ, বিশ্বাস এবং জনমতের জটিল সম্পর্কের আরেকটি উদাহরণ হয়ে থাকলো।

