মধ্যপ্রাচ্য ঘিরে চলমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে আবারও কূটনৈতিক সমাধানের পথ খুঁজছে আন্তর্জাতিক মহল। এই পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে নতুন করে বৈঠকের প্রস্তাব দিয়েছে পাকিস্তান, যা সংকট নিরসনে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
পাকিস্তানের দুই কর্মকর্তা জানিয়েছেন, আগামী কয়েক দিনের মধ্যে এবং চলমান দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি শেষ হওয়ার আগেই এই বৈঠক আয়োজনের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। যদিও বৈঠকটি কোথায় অনুষ্ঠিত হবে, তা এখনো চূড়ান্ত হয়নি। ইসলামাবাদ সম্ভাব্য স্থান হিসেবে বিবেচনায় থাকলেও সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর সম্মতির ওপর নির্ভর করছে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত।
কূটনৈতিক সূত্রগুলো বলছে, এই উদ্যোগ কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। বরং এটি চলমান আলোচনার ধারাবাহিকতারই অংশ। প্রথম দফার আলোচনায় কোনো চূড়ান্ত চুক্তি না হলেও, সংলাপের পথ পুরোপুরি বন্ধ হয়নি—এমন একটি বার্তা থেকেই এই নতুন প্রস্তাব এসেছে।
ইরানের পক্ষ থেকেও আলোচনার দরজা খোলা রাখার ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই রোববার এক বক্তব্যে বলেন, কূটনীতি কখনোই শেষ হয়ে যায় না। তার এই মন্তব্য থেকে স্পষ্ট, তেহরান এখনো সংলাপের মাধ্যমেই সংকট সমাধানের সম্ভাবনা দেখছে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে এখনো পর্যন্ত এ বিষয়ে স্পষ্ট কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
প্রসঙ্গত, প্রায় পাঁচ সপ্তাহ ধরে চলা রক্তক্ষয়ী সংঘাতের পর গত ৭ এপ্রিল পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান দুই সপ্তাহের একটি অস্থায়ী যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়। এরপরই ইসলামাবাদে দুই দেশের মধ্যে বহুল আলোচিত বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
১১ এপ্রিল শুরু হওয়া সেই আলোচনা প্রায় ২১ ঘণ্টা ধরে চলে এবং ১২ এপ্রিল সকালে শেষ হয়। তবে দীর্ঘ আলোচনার পরও কোনো সমঝোতায় পৌঁছানো সম্ভব হয়নি। পারমাণবিক কর্মসূচি ও নিরাপত্তা ইস্যুতে দুই দেশের অবস্থানের পার্থক্যই মূলত এই ব্যর্থতার কারণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
বর্তমান পরিস্থিতিতে পাকিস্তানের নতুন এই প্রস্তাবকে একটি ‘শেষ সুযোগের কূটনীতি’ হিসেবেও দেখছেন বিশ্লেষকরা। কারণ, যুদ্ধবিরতির সময়সীমা শেষ হওয়ার আগে যদি কোনো অগ্রগতি না হয়, তাহলে পুনরায় উত্তেজনা বৃদ্ধি পাওয়ার আশঙ্কা থেকেই যায়।
সব মিলিয়ে বলা যায়, পরিস্থিতি এখনো অনিশ্চিত হলেও কূটনৈতিক প্রচেষ্টা থেমে নেই। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান আলোচনার টেবিলে ফিরবে কি না, সেটিই এখন আন্তর্জাতিক রাজনীতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে।

