মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তনের ইঙ্গিত মিলেছে নতুন এক ঘটনায়। প্রায় এক দশক ধরে চলা সামরিক উপস্থিতির ইতি টেনে সিরিয়া থেকে সম্পূর্ণভাবে নিজেদের সেনা প্রত্যাহার করেছে যুক্তরাষ্ট্র। বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) হাসাকাহ অঞ্চলের কাসরাক সামরিক ঘাঁটি খালি করার মধ্য দিয়ে এই দীর্ঘ অধ্যায়ের সমাপ্তি ঘটে।
এই ঘাঁটিটি ছিল যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অবস্থান, যেখানে একটি কার্যকর বিমানঘাঁটিও ছিল। সেনা প্রত্যাহারের পরপরই সেখানে প্রবেশ করে সিরিয়ার সরকারি বাহিনীর একটি ডিভিশন, যা পরিস্থিতির দ্রুত পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেয়।
২০১৫ সাল থেকে ইসলামিক স্টেটবিরোধী অভিযানের অংশ হিসেবে সিরিয়ায় অবস্থান করছিল যুক্তরাষ্ট্রের সেনারা। তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এই উপস্থিতি শুধু সামরিক নয়, বরং রাজনৈতিক ও কৌশলগত গুরুত্বও পায়। এখন সেই অধ্যায়ের অবসান ঘটায় নতুন করে প্রশ্ন উঠছে—মধ্যপ্রাচ্যের শক্তির ভারসাম্য কোন দিকে যাচ্ছে?
বিশ্লেষকদের মতে, সেনা প্রত্যাহার প্রক্রিয়াটি অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে সম্পন্ন করা হয়েছে। সম্ভাব্য হামলা এড়াতে সেনা ও সামরিক সরঞ্জাম ধাপে ধাপে সীমান্ত হয়ে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। বর্তমানে ওই ঘাঁটির নিয়ন্ত্রণ রয়েছে সিরিয়ার মিত্র বাহিনী এবং স্থানীয় শক্তিগুলোর হাতে।
সিরিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এই পদক্ষেপকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছে। তাদের মতে, এর ফলে দেশের ভেতরে বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠীকে একটি জাতীয় কাঠামোর আওতায় আনার পথ আরও সুগম হবে। একই সঙ্গে তারা আশা করছে, এখন থেকে দেশটি নিজেই তার নিরাপত্তা ও সন্ত্রাস দমন কার্যক্রম সম্পূর্ণভাবে পরিচালনা করতে পারবে।
রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটও এই সিদ্ধান্তকে প্রভাবিত করেছে। দীর্ঘ গৃহযুদ্ধের পর নতুন নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠিত হওয়া এবং বিভিন্ন গোষ্ঠীর মধ্যে সমঝোতা তৈরি হওয়ায় পরিস্থিতি কিছুটা স্থিতিশীল হয়েছে। বিশেষ করে কুর্দি বাহিনী ও কেন্দ্রীয় সরকারের মধ্যে চুক্তি হওয়ায় বিদেশি সেনাদের প্রয়োজনীয়তা কমে এসেছে বলে মনে করা হচ্ছে।
অন্যদিকে, এই প্রত্যাহারকে বৃহত্তর কৌশলের অংশ হিসেবেও দেখা হচ্ছে। সাম্প্রতিক সময়ে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন সংঘাত কমানোর উদ্যোগ, যুদ্ধবিরতি এবং কূটনৈতিক আলোচনার প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্রের এই পদক্ষেপ একটি বড় বার্তা দিচ্ছে—সরাসরি সামরিক উপস্থিতির পরিবর্তে এখন তারা ভিন্ন কৌশলে এগোতে চাইছে।
তবে এর প্রভাব কী হবে, তা এখনই নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না। একদিকে এটি শান্তির সম্ভাবনা তৈরি করতে পারে, অন্যদিকে নতুন ক্ষমতার দ্বন্দ্বেরও জন্ম দিতে পারে। তাই মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি আগামী দিনগুলোতে কোন দিকে মোড় নেয়, সেটিই এখন দেখার বিষয়।

